ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • আব্বাসীয় খিলাফত (৭৫০-১২৫৮ খ্রি.) • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন

পবন চৌধুরী মরিচপাশা গ্রামের জমিদার পরিবারের সন্তান। তিনি উচ্চশিক্ষিত ও পৈতৃকসূত্রে বিশাল সম্পদের অধিকারী। এলাকার মানুষের শিক্ষার উন্নতির জন্য তিনি একটি গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করেছেন। দেশ-বিদেশের বহু গ্রন্থ সংগ্রহ করে তিনি এটিকে সমৃদ্ধ করে তুলেছেন। পবন চৌধুরীর এই গ্রন্থাগারের সুনাম শুনে দূর-দূরান্ত থেকে বহু জ্ঞানপিপাসু মানুষ এখানে ছুটে আসেন।তিনি এই গ্রন্থাগার পরিচালনায় প্রচুর টাকা খরচ করেন।

  1. ক)

    আব্বাসি বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতার নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    'রাওয়ান্দিয়া' সম্প্রদায় কারা? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত পবন চৌধুরীর সাথে আব্বাসি বংশের কোন খলিফার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উক্ত খলিফার শাসনামলকে কি ইসলামের 'অগাস্টান যুগ' বলে অভিহিত করা যায়? তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আব্বাসি বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা হলেন খলিফা আবু জাফর আল-মনসুর।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    রাওয়ান্দিয়া হলো পারস্যের একটি উগ্র ও বিভ্রান্ত শিয়া উপদল, যারা জন্মান্তরবাদে বিশ্বাস করত।

    তারা খলিফা আল-মনসুরকে তাদের খোদা বা ঈশ্বরের অবতার এবং তার প্রধান সেনাপতি আবু মুসলিমকে পয়গম্বর মনে করত। ৭৫৮ খ্রিস্টাব্দে তারা হাশেমিয়া নগরে খলিফার প্রাসাদ প্রদক্ষিণ করতে শুরু করে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। খলিফা আল-মনসুর তাদের এই শিরক ও গোঁড়ামিপূর্ণ বিশ্বাস প্রত্যাখ্যান করেন এবং তাদের দমন করেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত পবন চৌধুরীর সাথে আব্বাসি বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ জ্ঞানানুরাগী খলিফা আল-মামুনের মিল রয়েছে।

    উদ্দীপকের পবন চৌধুরী একজন উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তি, যিনি মানুষের শিক্ষার উন্নতি ও জ্ঞানচর্চার জন্য একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করেন এবং প্রচুর অর্থ ব্যয় করে দেশ-বিদেশ থেকে গ্রন্থ সংগ্রহ করেন।

    আব্বাসি খলিফা আল-মামুন ছিলেন জ্ঞান-বিজ্ঞান, সাহিত্য ও দর্শনের পৃষ্ঠপোষক। তিনি বাগদাদে ৮৩০ খ্রিস্টাব্দে জ্ঞানচর্চার ঐতিহাসিক কেন্দ্র 'বাইতুল হিকমাহ' (House of Wisdom) প্রতিষ্ঠা করেন, যা ছিল একাধারে গ্রন্থাগার, গবেষণাকেন্দ্র ও অনুবাদ ব্যুরো। তিনি দেশ-বিদেশ থেকে প্রাচীন গ্রিক, পারসিক, সংস্কৃত ইত্যাদি ভাষার মূল্যবান গ্রন্থ সংগ্রহ ও অনুবাদের জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করতেন। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে পণ্ডিত ও জ্ঞানপিপাসুরা বাগদাদে ছুটে আসতেন। পবন চৌধুরীর এই শিক্ষা ও গ্রন্থাগারপ্রীতি খলিফা মামুনের জ্ঞানানুরাগ ও বাইতুল হিকমাহ প্রতিষ্ঠার সাদৃশ্য বহন করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, খলিফা আল-মামুনের শাসনামলকে ইসলামের 'অগাস্টান যুগ' (Augustan Age) বলে অভিহিত করা যথার্থ।

    রোমান সম্রাট অগাস্টাসের সময় যেমন শিল্প, সাহিত্য ও দর্শনের চরম উৎকর্ষ সাধিত হয়েছিল, তেমনি আব্বাসি খলিফা আল-মামুনের শাসনামলে (৮১৩-৮৩৩ খ্রি.) মুসলিম সাম্রাজ্যে জ্ঞান-বিজ্ঞান, দর্শন, চিকিৎসা, জ্যোতির্বিদ্যা ও সাহিত্যের ক্ষেত্রে এক অভূতপূর্ব স্বর্ণযুগের সূচনা হয়।

    খলিফা মামুন মুক্তচিন্তা ও যুক্তিবাদী দর্শনের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তিনি তাঁর প্রতিষ্ঠিত 'বাইতুল হিকমাহ'-এর মাধ্যমে গ্রিক দর্শন, ভারতীয় গণিত ও বিজ্ঞান এবং পারসিক সাহিত্য আরবিতে অনুবাদের ব্যবস্থা করেন। তাঁর রাজদরবার পণ্ডিত, দার্শনিক, অনুবাদক ও বিজ্ঞানীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল। তিনি নিজে নিয়মিত জ্ঞান-বিতর্কে অংশ নিতেন। এ যুগে স্বাধীন চিন্তার বিকাশ, বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার এবং অনুবাদ সাহিত্যের যে জোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল, তা কেবল মুসলিম বিশ্বেই নয়, গোটা বিশ্বসভ্যতায় আলোড়ন তোলে।

    অতএব, সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ, জ্ঞান-বিজ্ঞানের অগ্রগতি এবং মেধার মূল্যায়নের বিবেচনায় খলিফা মামুনের রাজত্বকালকে রোমান ইতিহাসের স্বর্ণযুগের সাথে তুলনা করে ইসলামের 'অগাস্টান যুগ' বলা সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন