গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
A | মসলিনের উত্তরসূরি
B | তন্তুর রাণি, কোকুন পোকা থেকে তৈরি
C | স্বদেশী আন্দোলনের সাথে জড়িত
- ক)(1)
খাসিয়া মেয়েদের ব্যবহৃত পোশাকের নাম লেখো।
- খ)(2)
‘মনিপুরি মেয়েদের পোশাকে দুটি অংশ থাকে’—বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে 'A' চিহ্নিত বস্তুটির বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
ঐতিহাসিক পটভূমির দিক থেকে 'B' ও 'C' চিহ্নিত বস্ত্রের ভিন্নতা রয়েছে— উক্তিটির সার্থকতা যাচাই করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
খাসিয়া মেয়েদের ব্যবহৃত ঐতিহ্যবাহী পোশাকের নাম 'কাজিম পিন' (বা কাজিমপিন)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মণিপুরি মেয়েদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক মূলত দুটি অংশে বিভক্ত। এর একটি অংশ হলো নিম্নাঙ্গে পরার জন্য ব্যবহৃত স্কার্ট সদৃশ বিশেষ পোশাক, যাকে 'ইনাফি' বা 'ফানেক' বলা হয়। অপর অংশটি হলো ঊর্ধ্বাঙ্গে জড়িয়ে নেওয়ার বিশেষ একধরনের চাদর বা ওড়না। এ দুটি অংশের সমন্বয়ে মণিপুরি নারীদের মার্জিত ও নান্দনিক পোশাক পূর্ণতা পায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'A' চিহ্নিত বস্তুটি হলো জামদানি শাড়ি, যাকে ঐতিহ্যবাহী মসলিনের উত্তরসূরি বলা হয়।
জামদানির প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. সুতা ও বুনন: জামদানি সুতি সুতা দিয়ে বিশেষ ধরনের হস্তচালিত তাঁতে তৈরি হয়। এর প্রতিটি নকশা মূল বুননের পাশাপাশি অতিরিক্ত টানা বা পড়েনের সুতা দিয়ে সূক্ষ্মভাবে হাতে ফুটিয়ে তোলা হয়।
২. বৈচিত্র্যময় নকশা: জামদানি শাড়িতে জ্যামিতিক নকশার প্রাধান্য থাকে। এর নকশাগুলো অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও আকর্ষণীয়, যেমন—বুটিদার, তেরছা, জাল ইত্যাদি।
৩. আবহমান ঐতিহ্য ও আভিজাত্য: জামদানি ওজনে অত্যন্ত হালকা এবং পরতে আরামদায়ক। এর সূক্ষ্ম কারুকাজ ও শিল্পগুণ বাঙালি সংস্কৃতির এক অনন্য ঐতিহ্য বহন করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'B' চিহ্নিত বস্ত্রটি হলো রেশম বা সিল্ক (তন্তুর রানি, যা রেশম পোকার কোকুন থেকে পাওয়া যায়) এবং 'C' চিহ্নিত বস্ত্রটি হলো খাদি বা খদ্দর, যা ১৯২১ সালের স্বদেশী আন্দোলনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ঐতিহাসিক পটভূমির দিক থেকে উভয়ের মাঝে সুস্পষ্ট ভিন্নতা বিদ্যমান।
রেশম বস্ত্রের ইতিহাস অত্যন্ত প্রাচীন ও আন্তর্জাতিকভাবে সম্পৃক্ত। খ্রিষ্টপূর্ব যুগে চীনে সর্বপ্রথম রেশম চাষ ও এর থেকে সুতা তৈরির প্রযুক্তি আবিষ্কৃত হয়। প্রাচীনকালে রেশম এতটাই মূল্যবান ছিল যে এর বাণিজ্যের জন্য 'সিল্ক রোড' গড়ে উঠেছিল। বাংলার রাজশাহী অঞ্চলেও বহুকাল ধরে রেশম চাষ ও বস্ত্র উৎপাদনের ঐতিহ্য রয়েছে। এটি মূলত আভিজাত্য, বিলাসিতা ও সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে সমাদৃত।
অপরদিকে, খাদি বা খদ্দরের ইতিহাস রাজনৈতিক ও জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সাথে জড়িত। ব্রিটিশ শাসনামলে বিদেশি বস্ত্র বর্জন এবং দেশীয় পণ্যের প্রসারে মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে শুরু হওয়া স্বদেশী ও অসহযোগ আন্দোলনের প্রতীক ছিল চরকায় কাটা সুতা দিয়ে তৈরি খাদি বস্ত্র। এটি আত্মনির্ভরশীলতা, দেশপ্রেম ও স্বাধিকার আন্দোলনের প্রতিনিধিত্ব করে।
সুতরাং দেখা যায়, রেশম যেখানে রাজকীয় বিলাসিতা ও প্রাচীন আবিষ্কারের ইতিহাসের সাথে সম্পর্কিত, খাদি সেখানে ঔপনিবেশিকতাবিরোধী রাজনৈতিক সংগ্রাম ও আত্মমর্যাদার ইতিহাস ধারণ করে। তাই উক্তিটি সম্পূর্ণরূপে যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও