গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • তেজগাঁও কলেজ, ঢাকা • তেজগাঁও কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৬

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    প্রতিভাবান শিশুর সংজ্ঞা দাও।

    (1)
  2. খ)

    সকল বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু প্রতিবন্ধী নয়? বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানে কোন ধরনের শিশুকে বোঝানো হয়েছে-ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত আচরণ নিরাময়ে প্রশিক্ষণ ও শিক্ষাদান পদ্ধতির কোনো বিকল্প নেই-উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব শিশুর বুদ্ধি ও মানসিক ক্ষমতা সাধারণ শিশুদের তুলনায় অনেক বেশি (সাধারণত বুদ্ধ্যঙ্ক বা আইকিউ ১৩০ বা তার ঊর্ধ্বে) এবং যারা জ্ঞান-বিজ্ঞান, কলা বা সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অসাধারণ প্রতিভার স্বাক্ষর রাখে, তাদের প্রতিভাবান শিশু বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু বলতে এমন শিশুদের বোঝায় যাদের বিকাশ বা সক্ষমতা স্বাভাবিক শিশুদের তুলনায় আলাদা, ফলে তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা বা শিক্ষার প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে যেমন শারীরিক বা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী শিশুরা অন্তর্ভুক্ত, তেমনি প্রতিভাবান (gifted) বা অতিবুদ্ধিসম্পন্ন শিশুরাও অন্তর্ভুক্ত। প্রতিভাবান শিশুদের কোনো অঙ্গহানি বা মানসিক অক্ষমতা থাকে না, বরং তারা সাধারণের চেয়ে বেশি দক্ষ। তাই সকল প্রতিবন্ধী শিশুই বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু হলেও, সকল বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু প্রতিবন্ধী নয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে '?' চিহ্নিত স্থানে 'অটিস্টিক শিশু' বা অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত শিশুকে বোঝানো হয়েছে।

    অটিজম হলো শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশজনিত একটি সমস্যা, যা সাধারণত জীবনের প্রথম তিন বছরের মধ্যে প্রকাশ পায়। অটিস্টিক শিশুদের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো—যোগাযোগের সমস্যা, সামাজিক সম্পর্কের দুর্বলতা এবং পুনরাবৃত্তিমূলক বা সীমিত আচরণ।

    উদ্দীপকের চিত্রে ত্রিভুজের চারপাশে তিনটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ রয়েছে: 'দৃষ্টিকটু দেহভঙ্গি', 'এক কাজ বারবার করা' এবং 'আক্রমণাত্মক স্বভাব'। অটিস্টিক শিশুদের মধ্যে প্রায়ই অস্বাভাবিক দেহভঙ্গি (যেমন হাত ঝাপটানো বা আঙুলের ওপর ভর দিয়ে হাঁটা), একই কাজ একটানা বারবার করা (পুনরাবৃত্তিমূলক আচরণ) এবং ক্ষেত্রবিশেষে হতাশা বা উত্তেজনার ফলে আক্রমণাত্মক আচরণ দেখা যায়। অতএব, উদ্দীপকের লক্ষণসমূহ অটিস্টিক শিশুর বৈশিষ্ট্যকেই নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত অটিস্টিক শিশুদের অস্বাভাবিক বা অবাঞ্ছিত আচরণ সংশোধনে প্রশিক্ষণ ও উপযুক্ত শিক্ষাদান পদ্ধতির কোনো বিকল্প নেই—উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ।

    অটিজম কোনো নিরাময়যোগ্য রোগ নয়, বরং এটি একটি আজীবন বিকাশগত জটিলতা। ওষুধ প্রয়োগ করে এর মূল সমস্যা পুরোপুরি সারিয়ে তোলা সম্ভব নয়। তবে শৈশব থেকেই সঠিক পরিকল্পনা অনুযায়ী বিশেষ শিক্ষণ এবং আচরণিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের আচার-আচরণে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব।

    ১. আচরণ পরিবর্তন কৌশল (Applied Behavior Analysis - ABA): প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিশুর দৃষ্টিকটু অঙ্গভঙ্গি, আক্রমণাত্মক ভাব বা ক্ষতিকর আচরণ কমিয়ে ইতিবাচক ও গ্রহণযোগ্য সামাজিক আচরণ শেখানো যায়।
    ২. যোগাযোগের দক্ষতা বৃদ্ধি: ছবি বা প্রতীকের মাধ্যমে (PECS পদ্ধতি) অটিস্টিক শিশুদের নিজেদের মনের ভাব প্রকাশ করতে শেখালে তাদের হতাশা ও আক্রমণাত্মক স্বভাব অনেকাংশেই হ্রাস পায়।
    ৩. দৈনন্দিন কাজের প্রশিক্ষণ: এক কাজ বারবার করার প্রবণতাকে গঠনমূলক কাজে রূপান্তর করা যায় এবং রুটিন অনুযায়ী স্বাবলম্বী হওয়ার শিক্ষা দেওয়া যায়।
    ৪. বিশেষ শিক্ষাদান: সাধারণ শ্রেণিকক্ষের পরিবর্তে এদের বিশেষ শিক্ষা পদ্ধতির মাধ্যমে ধৈর্য ও স্নেহের সাথে সামাজিক মেলামেশা ও আত্মনিয়ন্ত্রণ শেখানো সম্ভব হয়।

    অতএব, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও সঠিক শিক্ষাদান পদ্ধতির মাধ্যমেই কেবল এসব শিশুর অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে তাদের সমাজের মূলধারায় উপযোগী করে তোলা সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন