সমাজকর্ম ১ম পত্র • সমাজকর্ম পেশার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট • Combined Board • চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট বোর্ড ২০২১
সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন
১৭৬০ সাল হতে ১৮৫০ সালের মধ্যে প্রথমে ইংল্যান্ডে পরবর্তীতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে উৎপাদন, প্রযুক্তি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমল পরিবর্তন হয়। এই পরিবর্তনের ফলে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পেলেও মানব জীবনের নতুন নতুন জটিল সমস্যা সৃষ্টি করে। এ সমস্যার মোকাবিলায় যোগ বিজ্ঞানসম্মত উপায় হিসেবে একটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ের উদ্ভব হয়।
- ক)(1)
সতীদাহ প্রথা উচ্ছেদ আইন কত সালে প্রণীত হয়?
- খ)(2)
পেশা বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিবর্তনকে কি নামে অভিহিত করা হয়? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত সুনির্দিষ্ট বিষয়ের উদ্ভাবন প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৮২৯ সালে সতীদাহ প্রথা উচ্ছেদ আইন প্রণীত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পেশা বলতে বিশেষ জ্ঞান, দক্ষতা, প্রশিক্ষণ ও মূল্যবোধসম্পন্ন এমন এক সুনির্দিষ্ট ভিত্তিমূলক জীবিকাকে বোঝায়, যার মাধ্যমে জনকল্যাণ সাধনের পাশাপাশি অর্থ উপার্জন বা জীবিকা নির্বাহ করা হয়। পেশার জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিশাস্ত্র এবং তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞানের প্রয়োজন হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিবর্তনকে 'শিল্পবিপ্লব' (Industrial Revolution) নামে অভিহিত করা হয়।
১৭৬০ সাল থেকে ১৮৫০ সালের মধ্যে ইংল্যান্ডে বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির আবিষ্কারের মাধ্যমে উৎপাদন পদ্ধতি, সমাজকাঠামো এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় যে যুগান্তকারী রূপান্তর ঘটে, ঐতিহাসিক আর্নল্ড টয়েনবির ভাষায় তাকে 'শিল্পবিপ্লব' বলা হয়।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, ১৭৬০ হতে ১৮৫০ সালের মধ্যে ইংল্যান্ড ও পরবর্তীতে ইউরোপে উৎপাদন, প্রযুক্তি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন সাধিত হয় এবং তা নগর সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন জটিল সমস্যার সৃষ্টি করে। যন্ত্রনির্ভর উৎপাদনের ফলে কুটির শিল্পের পতন, কারখানা ব্যবস্থার সূচনা এবং ব্যাপক নগরায়ণের এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনটিই হলো শিল্পবিপ্লব।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত সুনির্দিষ্ট বিষয়টি হলো 'আধুনিক সমাজকর্ম' (Social Work)। শিল্পবিপ্লবোত্তর জটিল সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় বিজ্ঞানসম্মত উপায় হিসেবেই এর উদ্ভব হয়েছে।
শিল্পবিপ্লবের ফলে ইউরোপের উৎপাদন বৃদ্ধি ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি হলেও এর নেতিবাচক প্রভাব হিসেবে বস্তি সমস্যা, বেকারত্ব, শিশুশ্রম, মানসিক অস্থিরতা, অপরাধপ্রবণতা, পারিবারিক ভাঙন এবং শ্রেণিদ্বন্দ্বের মতো বহুমুখী জটিল সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হয়। পূর্বে প্রচলিত সনাতন দানশীলতা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা সাধারণ সাহায্য-সহযোগিতার মাধ্যমে এসব জটিল ও বহুমুখী সমস্যা সমাধান করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
এই পরিস্থিতিতে বিজ্ঞানভিত্তিক ও টেকসই সমাধানের তাগিদ অনুভূত হয়। ফলশ্রুতিতে ইংল্যান্ড ও আমেরিকায় চ্যারিটি অর্গানাইজেশন সোসাইটি (COS)-এর মতো সংস্থাগুলোর মাধ্যমে সাহায্যপ্রার্থীদের সমস্যা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে অনুসন্ধান ও সমাধানের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় সমাজকর্ম একটি বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি ও পেশা হিসেবে রূপ লাভ করে, যার লক্ষ্য মানুষকে এমনভাবে সাহায্য করা যাতে তারা নিজেদের সক্ষমতা ব্যবহার করে নিজেরাই নিজেদের সমস্যার সমাধান করতে পারে। অতএব, শিল্পবিপ্লবজনিত মানবিক সংকট সমাধানের বাস্তব প্রয়োজন থেকেই আধুনিক সমাজকর্মের বিজ্ঞানসম্মত বিকাশ ঘটে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও