সমাজকর্ম ১ম পত্র • সমাজকর্ম পেশার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট • Combined Board • চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট বোর্ড ২০২১

সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    NASW-এর পূর্ণরূপ কী?

    (1)
  2. খ)

    পঞ্চদৈত্য বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের (?) প্রশ্নবোধক চিহ্নে ইংল্যান্ডের যে পদক্ষেপের কথা বোঝানো হয়েছে তা সংক্ষেপে লেখো।

    (3)
  4. ঘ)

    বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচনে (?) চিহ্নিত স্থানের প্রত্যয়টির প্রয়োগযোগ্যতা বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    NASW-এর পূর্ণরূপ হলো 'National Association of Social Workers'।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    লর্ড উইলিয়াম বেভারিজ তাঁর বিখ্যাত 'সামাজিক নিরাপত্তা ও সম্পর্কিত সেবাসমূহ' প্রতিবেদনে মানবকল্যাণ ও অগ্রগতির পথে পাঁচটি প্রধান অন্তরায় চিহ্নিত করেন, যা সমাজকর্মের ইতিহাসে 'পঞ্চদৈত্য' (Five Giants) নামে পরিচিত। এই পাঁচটি প্রতিবন্ধকতা হলো— অভাব (Want), রোগ (Disease), অজ্ঞতা (Ignorance), মলিনতা বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ (Squalor) এবং অলসতা বা বেকারত্ব (Idleness)। এগুলোর মূলোৎপাটনের জন্য তিনি ব্যাপক সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার সুপারিশ করেছিলেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের (?) প্রশ্নবোধক চিহ্নে ইংল্যান্ডের '১৬০১ সালের এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইন' (Elizabethan Poor Law of 1601)-কে বোঝানো হয়েছে।

    ১৬০১ সালে ইংল্যান্ডের রানি প্রথম এলিজাবেথ তৎকালীন প্রচলিত দরিদ্র আইনগুলোকে সমন্বিত ও যুগোপযোগী করে এই দরিদ্র আইন প্রণয়ন করেন। এ আইনের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ সংক্ষেপে নিচে দেওয়া হলো:
    ১. দরিদ্রদের শ্রেণিবিভাগ: এই আইনে দরিদ্রদের মূলত তিন ভাগে ভাগ করা হয়—
    ক) সক্ষম দরিদ্র (Able-bodied poor), যাদের সংশোধনাকারে বা কর্মশালায় কাজ করতে বাধ্য করা হতো;
    খ) অক্ষম দরিদ্র (Impotent poor), যাদের দরিদ্রাগারে বা গৃহভিত্তিক সাহায্য দেওয়া হতো;
    গ) নির্ভরশীল শিশু (Dependent children), যাদের এতিমখানায় বা অন্য পরিবারের কাছে শিক্ষানবিস হিসেবে লালন-পালনের ব্যবস্থা করা হতো।
    ২. স্থানীয় প্যারিশের দায়িত্ব: এই আইনে প্রতিটি প্যারিশকে নিজ নিজ এলাকার দরিদ্রদের পুনর্বাসন ও ভরণপোষণের সার্বিক দায়িত্ব দেওয়া হয়।
    ৩. ওভারশিয়ার নিয়োগ: দরিদ্র আইন বাস্তবায়ন এবং প্যারিশের বাসিন্দাদের ওপর দরিদ্র কর ধার্য ও আদায়ের জন্য 'ওভারশিয়ার' (তত্ত্বাবধায়ক) নিয়োগের বিধান রাখা হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের (?) চিহ্নিত প্রত্যয়টি হলো '১৬০১ সালের এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইন'। বর্তমান বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচনে এ আইনের মূল দর্শন ও কৌশলগুলোর প্রাসঙ্গিকতা এবং প্রয়োগযোগ্যতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

    বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই প্রত্যয়টির প্রয়োগযোগ্যতা বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. দরিদ্রদের শ্রেণিভিত্তিক পুনর্বাসন: ১৬০১ সালের দরিদ্র আইনের মূল শিক্ষা হলো দরিদ্রদের শ্রেণি অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ। বাংলাদেশে সক্ষম দরিদ্রদের কাজের বিনিময়ে খাদ্য, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে স্বাবলম্বী করা যায়। অন্যদিকে অক্ষম দরিদ্র (যেমন- বয়স্ক, প্রতিবন্ধী, বিধবা)-দের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় সরাসরি ভাতা প্রদান করা সম্ভব, যা বর্তমানে বাংলাদেশে আংশিকভাবে চর্চা হচ্ছে।

    ২. সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সুরক্ষা: নির্ভরশীল ও এতিম শিশুদের রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে ভরণপোষণ, কারিগরি শিক্ষা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার যে ধারণা এই আইনে ছিল, তা বাংলাদেশের পথশিশু ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে তাদেরকে মানবসম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব।

    ৩. বিকেন্দ্রীকৃত ও স্থানীয় পর্যায়ের উদ্যোগ: প্যারিশকেন্দ্রিক ব্যবস্থার মতো বাংলাদেশে ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে দরিদ্রদের তালিকা তৈরি, পর্যবেক্ষণ ও সঠিক সহায়তা নিশ্চিত করা যায়। এতে সাহায্য বণ্টনে স্বচ্ছতা আসে ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমে।

    ৪. প্রশাসনিক নজরদারি (ওভারশিয়ার ব্যবস্থা): স্থানীয় পর্যায়ে সার্বক্ষণিক দক্ষ কর্মকর্তা বা সমাজকর্মীদের দায়িত্ব প্রদান করে দারিদ্র্য বিমোচন কার্যক্রমের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন ও মনিটরিং নিশ্চিত করা যেতে পারে।

    তবে ১৬০১ সালের আইনের শাস্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গি বর্তমান যুগে গ্রহণযোগ্য নয়। আধুনিক কল্যাণমূলক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এই আইনের সুশৃঙ্খল প্রশাসনিক কাঠামো, সক্ষমদের কর্মসংস্থান এবং শ্রেণিভিত্তিক সহায়তার কৌশল প্রয়োগ করলে বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচন আরও কার্যকর ও টেকসই হবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন