মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
মনোবিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
আচরণ কাকে বলে?
- খ)(2)
আবেগ মানসিক প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত কেন?
- গ)(3)
মনোবিজ্ঞানের পরিধি হিসেবে 'গ' ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
'ক' ও 'খ' এর তুলনামূলক আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের উপস্থিতিতে জীব বা প্রাণী যে সামগ্রিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে, তাকে আচরণ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আবেগ হলো এমন একটি অভ্যন্তরীণ মানসিক ও দৈহিক আলোড়িত অবস্থা যা বাইরে থেকে সরাসরি পুরোপুরি প্রত্যক্ষ করা যায় না।
মানসিক প্রক্রিয়া হলো ব্যক্তির অভ্যন্তরীণ অভিজ্ঞতা ও প্রক্রিয়া, যা মনস্তাত্ত্বিক উপায়ে এবং বিভিন্ন শারীরিক পরিবর্তনের পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বোঝা যায়। ভয়, ক্রোধ, আনন্দ, দুঃখ ইত্যাদি আবেগীয় অবস্থায় ব্যক্তির অভ্যন্তরীণ অনুভূতি ও চিন্তনের পরিবর্তন ঘটে। যেহেতু আবেগ বাইরে থেকে সরাসরি সম্পূর্ণ পরিমাপযোগ্য নয় এবং এটি মূলত অভ্যন্তরীণ অনুভূতি ও অভিজ্ঞতার সাথে সম্পর্কিত, তাই আবেগকে মানসিক প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য করা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-১-এ নির্দেশিত 'গ' হলো 'জৈব-সামাজিক প্রক্রিয়া' (বা মানুষ ও প্রাণী)। আধুনিক মনোবিজ্ঞানের পরিধি মূলত আচরণ, মানসিক প্রক্রিয়া এবং জৈব-সামাজিক পরিপ্রেক্ষিতের ওপর বিস্তৃত।
মনোবিজ্ঞানের পরিধি হিসেবে জৈব-সামাজিক প্রক্রিয়ার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের প্রতিটি আচরণই তার জৈবিক ভিত্তি (যেমন: মস্তিষ্ক, স্নায়ুতন্ত্র, অন্তঃখরা গ্রন্থি ও জিনগত বৈশিষ্ট্য) এবং সামাজিক পরিবেশ (যেমন: পরিবার, সমাজ, সংস্কৃতি ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা)-এর আন্তঃক্রিয়ার ফসল।
মনোবিজ্ঞান কেবল ব্যক্তির আচরণই পর্যবেক্ষণ করে না, বরং সেই আচরণের পেছনে কোন জৈবিক বা শারীরিক প্রক্রিয়া কাজ করছে এবং তা কীভাবে সামাজিক পরিবেশ দ্বারা প্রভাবিত ও পরিবর্তিত হচ্ছে, তাও বিশদভাবে আলোচনা করে। এছাড়া মনোবিজ্ঞানের গবেষণা মানুষ এবং অন্যান্য নিম্নশ্রেণির প্রাণীর ওপরও পরিচালিত হয়, যা মনোবিজ্ঞানের পরিধিকে আরও বিস্তৃত করেছে। সুতরাং, জৈবিক সত্তা ও সামাজিক পরিবেশের মিথস্ক্রিয়াই মনোবিজ্ঞানের এই পরিধির মূল উপজীব্য।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-২-এ আচরণের প্রকারভেদ প্রদর্শিত হয়েছে। এখানে আচরণের তিনটি প্রধান শ্রেণিবিভাগের মধ্যে তৃতীয়টি 'বাহ্যিক আচরণ ও অভ্যন্তরীণ আচরণ' উল্লেখ রয়েছে। অতএব, 'ক' ও 'খ' যথাক্রমে 'সামগ্রিক আচরণ ও খণ্ডবিশেষ আচরণ' এবং 'ঐচ্ছিক আচরণ ও অনৈচ্ছিক আচরণ'কে নির্দেশ করে। নিম্নে এদের তুলনামূলক আলোচনা করা হলো:
১. সামগ্রিক আচরণ বনাম খণ্ডবিশেষ আচরণ ('ক'):
- সামগ্রিক আচরণ: প্রাণী যখন উদ্দীপকের প্রতিক্রিয়ায় তার সামগ্রিক সত্তা নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে, তখন তাকে সামগ্রিক আচরণ বলে। যেমন—ক্রিকেট খেলা, গাড়ি চালানো ইত্যাদি। এটি একক কোনো অঙ্গের নয়, বরং পুরো শরীরের সমন্বিত কাজ।
- খণ্ডবিশেষ আচরণ: প্রাণীর কোনো বিশেষ একটি অঙ্গ বা অংশের স্বতন্ত্র ক্রিয়াকে খণ্ডবিশেষ আচরণ বলে। যেমন—চোখের পলক ফেলা, আঙুল নাড়ানো ইত্যাদি।
- পার্থক্য: সামগ্রিক আচরণে একাধিক অঙ্গের সম্মিলিত ভূমিকা থাকে, অন্যদিকে খণ্ডবিশেষ আচরণ নির্দিষ্ট কোনো পেশি বা অঙ্গের একক ক্রিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ।
২. ঐচ্ছিক আচরণ বনাম অনৈচ্ছিক আচরণ ('খ'):
- ঐচ্ছিক আচরণ: যে আচরণ প্রাণীর নিজস্ব ইচ্ছা, নিয়ন্ত্রণ ও সচেতন সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল, তাকে ঐচ্ছিক আচরণ বলে। যেমন—পড়ালেখা করা, হাঁটা ইত্যাদি।
- অনৈচ্ছিক আচরণ: যে আচরণ প্রাণীর ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে না এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘটে, তাকে অনৈচ্ছিক আচরণ বলে। যেমন—হাঁচি দেওয়া, হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন, উজ্জ্বল আলো পড়লে চোখের পাতা বন্ধ হওয়া ইত্যাদি।
- পার্থক্য: ঐচ্ছিক আচরণ সচেতনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলেও অনৈচ্ছিক আচরণ প্রাণীর সচেতন নিয়ন্ত্রণের বাইরে স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্র দ্বারা পরিচালিত হয়।
পরিশেষে বলা যায়, 'ক' শ্রেণির আচরণগুলো মূলত প্রতিক্রিয়ার ব্যাপ্তি বা কাঠামোগত দিকের ওপর ভিত্তি করে বিভক্ত, আর 'খ' শ্রেণির আচরণগুলো প্রাণীর ইচ্ছা ও সচেতন নিয়ন্ত্রণের ওপর ভিত্তি করে বিভক্ত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও