‍ইতিহাস ১ম পত্র • মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের (মুজিবনগর) কার্যক্রম • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৭

‍ইতিহাস ১ম পত্র প্রশ্ন

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মানব সভ্যতার ইতিহাসে জঘন্যতম হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করতে নুরেমবার্গ ট্রায়াল গঠন করা হয়। তারা যুদ্ধকালীন সময়ে হত্যা, লুট ও ধর্ষণসহ বহু নৃশংস ঘটনার সাথে জড়িত ছিল।

  1. ক)

    কে অখণ্ড বাংলা গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন?

    (1)
  2. খ)

    'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ' বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের সাথে পাঠ্যবইয়ের স্বাধীনতা বিরোধী কোন সংগঠনের সাদৃশ্য রয়েছে? তার গঠন সম্পর্কে তোমার ধারণা দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    বাংলাদেশকে বুদ্ধিবৃত্তির দিক থেকে একটি দুর্বল দেশে পরিণত করাই ছিল তাদের অপতৎপরতার প্রধান লক্ষ্য'- উক্তিটির সার্থকতা বিচার করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী অখণ্ড স্বাধীন বাংলা গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। (আবুল হাশিমও তাঁর সাথে এ প্রস্তাবের অন্যতম রূপকার ছিলেন)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বর হত্যাযজ্ঞ ও গণহত্যার শিকার হওয়া এবং ভারতে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের সাহায্যার্থে পণ্ডিত রবিশঙ্কর ও জর্জ হ্যারিসনের উদ্যোগে নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে আয়োজিত ঐতিহাসিক চ্যারিটি সংগীতানুষ্ঠানকে 'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ' বলা হয়। ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত এই কনসার্টের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পরিস্থিতি তুলে ধরা হয় এবং শরণার্থীদের জন্য বিপুল পরিমাণ তহবিল সংগ্রহ করা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও নৃসংশ কর্মকাণ্ডের বর্ণনার সাথে পাঠ্যবইয়ের মুক্তিযুদ্ধকালীন স্বাধীনতা-বিরোধী ঘাতক সংগঠন 'আলবদর' ও 'আলশামস' (বা সামগ্রিকভাবে রাজাকার বাহিনী ও শান্তি কমিটি)-এর সাদৃশ্য রয়েছে।

    ১৯৭১ সালের মে মাসে জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের সদস্যদের নিয়ে প্রথম ময়মনসিংহে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় আধা-সামরিক বাহিনী 'আলবদর' গঠিত হয়। পরবর্তীতে সারা দেশেই চরমপন্থী ধর্মান্ধ যুবকদের নিয়ে আলবদর বাহিনী গড়ে তোলা হয়। অন্যদিকে আলশামস গঠিত হয়েছিল প্রধানত অন্যান্য সমমনা ইসলামিক ছাত্রসংগঠনের সদস্যদের নিয়ে। পাকিস্তানি বাহিনীর 'ডেথ স্কোয়াড' হিসেবে কাজ করা এই বাহিনীগুলোর মূল দায়িত্ব ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের গতিবিধি নজরদারি করা, তালিকা তৈরি করে বুদ্ধিজীবী ও স্বাধীনতার স্বপক্ষের মানুষদের হত্যা, লুণ্ঠন ও নারকীয় নির্যাতন চালানো।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা-বিরোধী শক্তি বিশেষ করে আলবদর বাহিনীর লক্ষ্য সম্পর্কিত প্রশ্নে উল্লিখিত উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।

    ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী এবং তাদের এদেশীয় দোসর আলবদর ও রাজাকাররা বুঝতে পেরেছিল যে বাঙালিদের চূড়ান্ত বিজয় অনিবার্য। ফলে স্বাধীন হলেও বাংলাদেশ যেন কখনোই একটি স্বনির্ভর ও উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে, সেজন্য তারা এদেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যার নীলনকশা বাস্তবায়ন করে।

    বিশেষ করে বিজয়ের প্রাক্কালে ১০ থেকে ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও চিন্তাবিদদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে রায়েরবাজার ও মিরপুর বধ্যভূমিতে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। মুনীর চৌধুরী, শহীদুল্লা কায়সার, ডা. আলীম চৌধুরী, সেলিনা পারভীনসহ বহু প্রথিতযশা বুদ্ধিজীবীকে নৃশংসভাবে হত্যা করে তারা জাতিকে নেতৃত্ব ও মেধা শূন্য করতে চেয়েছিল। অতএব, বাংলাদেশকে বুদ্ধিবৃত্তির দিক থেকে পঙ্গু ও দুর্বল করাই যে ছিল স্বাধীনতা-বিরোধী দোসরদের মূল উদ্দেশ্য, তা নিঃসন্দেহে প্রমাণিত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন