সমাজকর্ম ১ম পত্র • সমাজকর্ম পদ্ধতি • Combined Board • চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট বোর্ড ২০২১
সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
প্রশাসন কি?
- খ)(2)
সমষ্টি সংগঠন বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে প্রশ্নবোধক চিহ্নিত স্থানে সমাজকর্মে যে পদ্ধতি ইঙ্গিত করা হয়েছে তা ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত পদ্ধতি সমস্যা সমাধানে যথেষ্ট নয় - বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাধারণ অর্থে প্রশাসন হলো কোনো পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য মানবীয় ও বস্তুগত সম্পদের সুষ্ঠু পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় সাধন প্রক্রিয়া।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমষ্টি সংগঠন হলো সমষ্টি সমাজকর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা বা রূপ, যা মূলত উন্নত ও শিল্পায়িত সমাজের সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে প্রয়োগ করা হয়। এর মূল লক্ষ্য হলো একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সমষ্টির সার্বিক প্রয়োজন ও সমস্যার সাথে বিদ্যমান বা সম্ভাব্য সম্পদের সামঞ্জস্য বিধান করা এবং বিভিন্ন দল ও সংস্থার মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে সমষ্টির কল্যাণ নিশ্চিত করা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রশ্নবোধক (?) চিহ্নিত স্থানে সমাজকর্মের 'মৌলিক পদ্ধতি' (Basic or Primary Methods)-কে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
সমাজকর্মের পদ্ধতিসমূহকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা হয়: মৌলিক পদ্ধতি ও সহায়ক পদ্ধতি। সমাজকর্মের যেসব পদ্ধতি প্রত্যক্ষভাবে ব্যক্তি, দল বা সমষ্টির সমস্যা সমাধানে সরাসরি প্রয়োগ করা হয়, সেগুলোকে মৌলিক পদ্ধতি বলে। এই মৌলিক পদ্ধতির তিনটি অংশ রয়েছে—
১. ব্যক্তি সমাজকর্ম (Social Casework): যা একক ব্যক্তির সমস্যা সমাধান ও সামাজিক ভূমিকা পালনের সামর্থ্য পুনরুদ্ধারে কাজ করে।
২. দল সমাজকর্ম (Social Group Work): যা দলীয় অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সদস্যদের অন্তর্নিহিত ক্ষমতার বিকাশ ও সামাজিক মিথস্ক্রিয়া বৃদ্ধি করে।
৩. সমষ্টি সমাজকর্ম (Community Social Work): যা কোনো নির্দিষ্ট সমষ্টি বা জনগোষ্ঠীর সমস্যা সমাধান, সমষ্টি উন্নয়ন ও সমষ্টি সংগঠনের কাজ করে।উদ্দীপকের ছকে ব্যক্তি সমাজকর্ম, দল সমাজকর্ম ও সমষ্টি সমাজকর্ম—এই তিনটি শাখা দেখানো হয়েছে। সুতরাং, ছকের মূল বা প্রশ্নবোধক চিহ্নিত পদ্ধতিটি হলো 'সমাজকর্মের মৌলিক পদ্ধতি' যা প্রত্যক্ষভাবে সমস্যাগ্রস্ত মানুষের সেবায় প্রয়োগ করা হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত পদ্ধতিটি হলো সমাজকর্মের 'মৌলিক পদ্ধতি'। আধুনিক ও জটিল সামাজিক সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে কেবল মৌলিক পদ্ধতি প্রয়োগ করাই যথেষ্ট নয়—উক্তিটি যথার্থ।
সমাজকর্মের মৌলিক পদ্ধতিসমূহ (ব্যক্তি, দল ও সমষ্টি সমাজকর্ম) সরাসরি সাহায্যার্থীর সমস্যা সমাধানে প্রয়োগ করা হলেও এগুলো এককভাবে পুরোপুরি কার্যকর হতে পারে না। কারণ মানবজীবনের সমস্যাগুলো অত্যন্ত বহুমাত্রিক ও জটিল। এসব পদ্ধতিকে সঠিকভাবে পরিচালনা, সুসংগঠিত এবং কার্যকরী করতে সহায়ক পদ্ধতির অপরিসীম গুরুত্ব রয়েছে।
সমাজকর্মের সহায়ক পদ্ধতিগুলো হলো:
১. সমাজকল্যাণ প্রশাসন (Social Welfare Administration): এটি না থাকলে সমাজকল্যাণমূলক সংস্থাগুলোর নীতি নির্ধারণ, পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং বস্তুগত ও মানবিক সম্পদের সঠিক সমন্বয় সম্ভব হতো না।
২. সমাজকর্ম গবেষণা (Social Work Research): সমস্যার পেছনের গভীর কারণ উদঘাটন, তথ্য সংগ্রহ এবং কার্যপদ্ধতির কার্যকারিতা যাচাইয়ের জন্য গবেষণার প্রয়োজন হয়।
৩. সামাজিক কার্যক্রম (Social Action): সামাজিক কুসংস্কার, বৈষম্য বা বিদ্যমান নীতির পরিবর্তন ও নতুন আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সমাজের কাঠামোগত সমস্যা দূর করতে সামাজিক কার্যক্রম প্রয়োজন হয়।অতএব, মৌলিক পদ্ধতিগুলো লক্ষ্যভুক্ত সাহায্যার্থীর সরাসরি সমস্যা সমাধানে নিয়োজিত থাকলেও নীতি প্রণয়ন, পরিচালনা, গবেষণা ও কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য সহায়ক পদ্ধতির সম্মিলিত সহযোগিতা অপরিহার্য। তাই বলা যায়, সামগ্রিক সমস্যা সমাধানে কেবল মৌলিক পদ্ধতি যথেষ্ট নয়, বরং মৌলিক ও সহায়ক পদ্ধতির পারস্পরিক সমন্বয় আবশ্যক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও