সমাজকর্ম ১ম পত্র • সমাজকর্ম : প্রকৃতি ও পরিধি • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১

সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন

হোসনে আরা খন্দকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজকর্ম বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। বর্তমানে তিনি একটি সমাজসেবা প্রতিষ্ঠানে পেশাদার সমাজকর্মী হিসেবে কর্মরত আছেন। তার কাজের প্রধান দিক হলো সাহায্যার্থীর শারীরিক, মানসিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক প্রভৃতি ক্ষেত্রে উন্নয়নে সহায়তা করা।

  1. ক)

    Introduction to Social Welfare গ্রন্থের লেখক কে?

    (1)
  2. খ)

    সমাজকর্ম ধারণাটি ব্যাখ্যা কর?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের হোসনে আরা খন্দকারের কাজের ক্ষেত্রে সমাজকর্মের কোন উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    মানুষকে পরিপূর্ণভাবে সাহায্য করার ক্ষেত্রে উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত উদ্দেশ্যের তাৎপর্য ব্যাখ্যা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'Introduction to Social Welfare' গ্রন্থের লেখক হলেন ওয়াল্টার এ. ফ্রিডল্যান্ডার (Walter A. Friedlander)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সমাজকর্ম হলো একটি বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও মানবীয় সম্পর্কবিষয়ক দক্ষতানির্ভর পেশা, যা ব্যক্তি, দল ও সমষ্টিকে এমনভাবে সহায়তা করে যাতে তারা তাদের সামাজিক ভূমিকা যথাযথভাবে পালন করে নিজেরাই নিজেদের সমস্যা সমাধান করতে পারে। এটি সমাজস্থ মানুষের সামগ্রিক কল্যাণ ও ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের হোসনে আরা খন্দকারের কাজের ক্ষেত্রে সমাজকর্মের 'মানুষের সার্বিক বা সামগ্রিক কল্যাণ সাধন' উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত রয়েছে।

    সমাজকর্মের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো মানুষকে কোনো একক বা খণ্ডিত দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে তার সামগ্রিক সত্তার উন্নয়ন ঘটানো। মানুষের জীবন বহুবিধ উপাদানের সাথে যুক্ত, তাই কোনো একটি দিকের সমস্যা অন্যান্য দিককেও প্রভাবিত করে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, হোসনে আরা খন্দকার পেশাদার সমাজকর্মী হিসেবে সাহায্যার্থীর কেবল একটি দিকে মনোনিবেশ না করে তার শারীরিক, মানসিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রভৃতি দিকের সার্বিক উন্নয়নে সহায়তা করেন। সমাজকর্ম বিশ্বাস করে যে একজন মানুষের প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন তার জীবনের সকল মৌলিক ও সামাজিক ক্ষেত্রের সমন্বিত সমাধান নিশ্চিত করা যায়। অতএব, তার কাজে সমাজকর্মের সার্বিক কল্যাণ সাধনের উদ্দেশ্যটি সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মানুষকে পরিপূর্ণভাবে সাহায্য করার ক্ষেত্রে উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত উদ্দেশ্যটির (সার্বিক বা সামগ্রিক কল্যাণ সাধন) তাৎপর্য অত্যন্ত ব্যাপক ও গভীর।

    মানুষের জীবন অত্যন্ত জটিল এবং তার নানাবিধ প্রয়োজন পরস্পরের সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কোনো ব্যক্তির সমস্যার কার্যকর সমাধানে আংশিক পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদি সুফল বয়ে আনে না। নিচে এর তাৎপর্য বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিতকরণ: একজন মানুষের শারীরিক অসুস্থতার পেছনে মানসিক উদ্বেগ বা অর্থনৈতিক অনটন থাকতে পারে। সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে সমস্যার অন্তর্নিহিত প্রকৃত কারণ উন্মোচন করা সম্ভব হয়।
    ২. টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান: উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত সার্বিক কল্যাণের মাধ্যমে কেবল তাত্ক্ষণিক ত্রাণের ব্যবস্থা না করে অর্থনৈতিক, মানসিক ও সামাজিক পরিবেশের পরিবর্তন এনে ব্যক্তিকে দীর্ঘমেয়াদে আত্মনির্ভরশীল করা যায়।
    ৩. ব্যক্তির ক্ষমতার পূর্ণ বিকাশ: শারীরিক, মানসিক ও সাংস্কৃতিক দিকের উন্নয়নের ফলে সাহায্যার্থীর অন্তর্নিহিত সুপ্ত ক্ষমতার পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটে, যা তাকে সমাজের একজন উৎপাদনশীল সদস্য হিসেবে গড়ে তোলে।
    ৪. সামাজিক উপযোজন বৃদ্ধি: মানুষের পরিবেশ ও পারিপার্শ্বিকতার সার্বিক ভারসাম্য বজায় রেখে সমস্যার সমাধান করা হলে ব্যক্তি তার পরিবার ও সমাজে সুন্দরভাবে খাপ খাইয়ে চলতে সক্ষম হয়।

    সুতরাং, মানুষকে কেবল একটি বিশেষ ক্ষেত্রে সাহায্য না করে তার সামগ্রিক সত্তার উন্নয়ন সাধনই সমাজকর্মের মূল দর্শন, যা মানুষকে পরিপূর্ণ ও স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে বাঁচতে সহায়তা করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন