সহপাঠ • নাটক: সিরাজউদ্দৌলা • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৯
সহপাঠ প্রশ্ন
"বর্গি এল খাজনা নিতে মারল মানুষ কত। পুড়ল শহর, পুড়ল শ্যামল গ্রাম যে শত শত। হানাদারের সঙ্গে জোরে লড়ে মুক্তি সেনা, তাদের কথা দেশের মানুষ কখনো ভুলবে না ו"
- ক)(1)
সিরাজউদ্দৌলার হত্যাকারীর নাম কী?
- খ)(2)
"আমরা এমন কিছু করলাম যা ইতিহাস হবে।"- উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের কোন দিকটিকে নির্দেশ করে? আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকের মুক্তিসেনা এবং 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সিরাজউদ্দৌলা একই সূত্রে গাঁথা।"- মন্তব্যটির যথার্থতা প্রমাণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নবাব সিরাজউদ্দৌলার হত্যাকারীর নাম মোহাম্মদি বেগ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্তিটি ক্লাইভের, যা সে নবাবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র সফল করার প্রেক্ষাপটে ওয়াটসকে উদ্দেশ্য করে বলেছিল।
ইংরেজরা তাদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য মীরজাফরসহ দেশীয় চক্রান্তকারীদের নিয়ে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন ঘটানোর চক্রান্ত করেছিল। এই ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করে তারা বাংলা তথা সমগ্র ভারতের শাসনক্ষমতা দখলের দ্বার উন্মোচন করতে পেরেছিল। এ কারণেই চক্রান্ত চূড়ান্ত রূপ পাওয়ার পর ক্লাইভ অহমিকার সাথে মন্তব্য করেছিল যে তারা এমন কিছু করেছে, যা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের স্বদেশপ্রেম, দখলদার শক্তির শোষণ-নির্যাতন এবং মাতৃভূমি রক্ষার সশস্ত্র প্রতিরোধের দিকটিকে নির্দেশ করে।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে দেখা যায়, বিদেশি বণিক শক্তি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এদেশের মানুষের ওপর অন্যায়ভাবে কর চাপিয়ে, ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্ষমতা দখলের নামে শোষণ ও রক্তপাত চালিয়েছিল। নবাব সিরাজউদ্দৌলা দেশকে সেই আগ্রাসী অপশক্তির হাত থেকে রক্ষা করতে আমৃত্যু লড়াই করে গেছেন। মীরমদন ও মোহনলালের মতো বীর সেনানীরা দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন।
উদ্দীপকের কবিতায় বর্গি ও হানাদারদের নির্মম অত্যাচার, গ্রাম-শহর জ্বালিয়ে দেওয়া এবং তাদের বিরুদ্ধে মুক্তিসেনাদের মরণপণ লড়াইয়ের কথা তুলে ধরা হয়েছে। এই অত্যাচারী বহিঃশত্রুর আক্রমণ ও মাতৃভূমির স্বাধীনতা রক্ষায় দেশপ্রেমিক যোদ্ধাদের লড়াইয়ের চেতনাটি 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে ইংরেজ আগ্রাসনের প্রেক্ষাপট ও নবাবের দেশপ্রেমের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকের মুক্তিসেনা এবং 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের সিরাজউদ্দৌলা একই সূত্রে গাঁথা"—মন্তব্যটি যথার্থ।
উদ্দীপকে উল্লেখিত মুক্তিসেনারা মাতৃভূমির শ্যামল গ্রাম ও শহরকে হানাদার বর্গিদের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে রক্ষা করার জন্য নিজেদের জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছে। তারা ছিল নিঃস্বার্থ দেশপ্রেমিক, যারা দেশের মাটিকে শত্রুমুক্ত করার ব্রত নিয়েছিল।
অন্যদিকে, 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র নবাব সিরাজউদ্দৌলা ছিলেন বাংলার শেষ স্বাধীন ও দেশপ্রেমিক নবাব। বিদেশি ইংরেজ বেনিয়াদের আগ্রাসন, শোষণ ও চক্রান্ত থেকে বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার স্বাধীনতা রক্ষার জন্য তিনি রাজপ্রাসাদের আরাম-আয়েশ ত্যাগ করে রণক্ষেত্রে অবতীর্ণ হয়েছিলেন। নিজের চারপাশের চরম বিশ্বাসঘাতকতার মাঝেও তিনি দেশের স্বার্থে কখনো আপস করেননি। পলাশীর যুদ্ধে এবং যুদ্ধপরবর্তী সময়েও তাঁর হৃদয়ে ছিল কেবল স্বদেশপ্রেমের বেদনা।
সুতরাং দেখা যায়, উদ্দীপকের মুক্তিসেনা এবং নাটকের সিরাজউদ্দৌলা উভয়েরই মূল পরিচয় হলো দেশপ্রেমিক যোদ্ধা। উভয়েই বহিঃশত্রু ও আগ্রাসী শক্তির হাত থেকে স্বদেশকে রক্ষা করতে সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। অতএব, তাদের আদর্শ ও দেশপ্রেমের চেতনা একই সূত্রে গাঁথা—এই মন্তব্যটি সর্বাংশে সত্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও