সমাজকর্ম ২য় পত্র • সামাজিক আইন • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, সিলেট বোর্ড ২০১৭

সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    আইন কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    সামাজিক আইন কীভাবে সামাজিক সমস্যা প্রতিকার ও প্রতিরোধ করে?

    (2)
  3. গ)

    ছকে প্রশ্নবোধক চিহ্নিত স্থানে কোন আইনের নাম লিখলে এ্যারো ছকগুলো হবে তার ধারা? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ছকে উল্লিখিত বিষয়গুলোই কি শুধুমাত্র ঐ আইনের ধারা নাকি আরো ধারা আছে? পাঠ্যপুস্তকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আইন হলো রাষ্ট্র ও সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত এবং সার্বভৌম কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বলবৎকৃত এমন কিছু নিয়মনীতি ও অনুশাসন, যা মানুষের বাহ্যিক আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সামাজিক আইন মূলত সামাজিক পরিবর্তন আনয়ন, কুসংস্কার দূরীকরণ এবং নাগরিকের অধিকার সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রণীত হয়। এটি সমাজে বিদ্যমান অন্যায়, অবিচার, শোষণ এবং বৈষম্য দূর করে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও দুর্বল শ্রেণির অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করে। একইসাথে সামাজিক আইন অপরাধীদের জন্য সুনির্দিষ্ট শাস্তির ব্যবস্থা করে সম্ভাব্য অপরাধ সংঘটনকে প্রতিরোধ করে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের সুযোগ দিয়ে সামাজিক সমস্যার প্রতিকার করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ছকে প্রশ্নবোধক চিহ্নিত স্থানে '১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ' লিখলে চারপাশের অ্যারো ছকগুলো হবে তার ধারা বা বিধান।

    তৎকালীন পাকিস্তানে মুসলিম সমাজের পারিবারিক বিশৃঙ্খলা দূরীকরণ এবং বিশেষ করে নারীদের স্বার্থ সুরক্ষার উদ্দেশ্যে ১৯৬১ সালের ১৫ জুলাই 'মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১' জারি করা হয়। উদ্দীপকের ছকে উল্লিখিত বিষয়গুলো এই আইনের প্রধান ধারাগুলোর সাথে হুবহু মিলে যায়:
    ১. সালিশি কাউন্সিল গঠন: পারিবারিক কলহ নিষ্পত্তি ও তালাক কার্যকরে ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভার চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে সালিশি কাউন্সিল গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।
    ২. বিবাহ রেজিস্ট্রি করা বাধ্যতামূলক: এ আইনের অন্যতম ধারা হলো মুসলিম বিবাহ বাধ্যতামূলকভাবে সরকারের নিকাহ রেজিস্ট্রারের কাছে নিবন্ধন করতে হবে।
    ৩. খোরপোষ ও দেনমোহর আদায়: স্বামী স্ত্রীকে যথাযথ ভরণপোষণ না দিলে বা চুক্তি অনুযায়ী দেনমোহর পরিশোধ না করলে সালিশি কাউন্সিলের মাধ্যমে তা আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
    ৪. তালাক ও বিবাহ বিচ্ছেদ: একতরফা বা হুটহাট তালাক প্রদান রোধ করে সালিশি কাউন্সিলে লিখিত নোটিশ প্রদান ও ৯০ দিন সময় অতিবাহিত করার নিয়ম চালু করা হয়।

    অতএব, উদ্দীপকের ছকের কেন্দ্রবিন্দুতে '১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ' নামটি বসবে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ছকে উল্লিখিত বিষয়গুলোই ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের একমাত্র ধারা নয়; বরং পাঠ্যপুস্তকের আলোকে এ আইনে আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধারা বা বিধান রয়েছে।

    উদ্দীপকের ছকে বিবাহ রেজিস্ট্রেশন, সালিশি কাউন্সিল, দেনমোহর ও ভরণপোষণ এবং তালাক সংক্রান্ত ধারাগুলো উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ আইনটির আওতা আরও ব্যাপক। এর বাইরেও যেসব গুরুত্বপূর্ণ ধারা বিদ্যমান, তা নিম্নে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. বহুবিবাহ নিয়ন্ত্রণ: এ আইনের অন্যতম বৈপ্লবিক ধারা হলো বহুবিবাহে নিয়ন্ত্রণ আরোপ। প্রথম স্ত্রীর জীবদ্দশায় সালিশি কাউন্সিলের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো পুরুষ দ্বিতীয় বিবাহ করতে পারবে না। অনুমতি ছাড়া বিবাহ করলে স্বামীকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে এবং প্রথম স্ত্রীকে তাৎক্ষণিক সমস্ত দেনমোহর পরিশোধ করতে হবে।

    ২. উত্তরাধিকারের অধিকার (এতিম নাতি-নাতনির অধিকার): ঐতিহ্যবাহী মুসলিম উত্তরাধিকার আইনে পিতার জীবদ্দশায় কোনো সন্তানের মৃত্যু হলে তার সন্তানরা (এতিম নাতি-নাতনি) পিতামহের সম্পত্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত হতো। ১৯৬১ সালের এই আইনে বিধান করা হয় যে, পিতার মৃত্যুর পর এতিম সন্তানরা তাদের পিতামহের সম্পত্তিতে তাদের পিতার ভাগের সমান অংশ লাভ করবে।

    ৩. বিয়ের বয়স ও বাল্যবিবাহ রোধ: এ আইনের মাধ্যমে মুসলিম বিবাহে পাত্র ও পাত্রীর ন্যূনতম বয়স নির্দিষ্ট করা হয়েছিল, যা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সহায়ক হয়।

    অতএব, উপর্যুক্ত ধারাগুলোর আলোকে বলা যায় যে ছকে উল্লিখিত বিষয়গুলো ছাড়াও ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনে বহুবিবাহ নিয়ন্ত্রণ ও এতিম পৌত্র-পৌত্রীর উত্তরাধিকার রক্ষার মতো অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ধারা রয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন