‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • নাগরিক অধিকার ও কর্তব্য এবং মানবাধিকার • নিউ গভঃ ডিগ্রী কলেজ, রাজশাহী • নিউ গভঃ ডিগ্রী কলেজ, রাজশাহী টেস্ট পরীক্ষা ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

নওগাঁর মান্দা উপজেলার চালকল শ্রমিক রেজিনা খাতুন ও ছুলেমান। একই সমান পরিশ্রম করে রেজিনা পান ১০০ টাকা আর ছুলেমান পান ১৪০০ টাকা.। রেজিনা এর প্রতিবাদ করলে মালিক তাকে ছাঁটাই করার ভয় দেখায়।

  1. ক)

    বিশ্ব মানবাধিকার দিবস কবে পালিত হয়?

    (1)
  2. খ)

    রাজনৈতিক অধিকার বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে রেজিনা খাতুন কোন ধরনের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের অধিকার যথাযথভাবে প্রদান ছাড়া রাজনৈতিক সাম্য অর্থহীন- বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    প্রতি বছর ১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব অধিকারের মাধ্যমে নাগরিকরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাষ্ট্রীয় শাসনকাজে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পায়, সেগুলোকে রাজনৈতিক অধিকার বলে। ভোটদান, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা, সরকারি চাকরি লাভ, রাজনৈতিক দল গঠন এবং সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করার অধিকার ইত্যাদি রাজনৈতিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে রেজিনা খাতুন অর্থনৈতিক অধিকার (নির্দিষ্টভাবে সমান কাজের জন্য সমান পারিশ্রমিক পাওয়ার অধিকার) থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

    অর্থনৈতিক অধিকার হলো নাগরিকের এমন সুযোগ-সুবিধা যা তার জীবিকা নির্বাহ ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। এ অধিকারের অন্যতম শর্ত হলো কর্মের ন্যায্য মজুরি এবং লিঙ্গভেদে বৈষম্যহীনভাবে সমকাজে সমমজুরি পাওয়া।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, নওগাঁর মান্দা উপজেলার চালকল শ্রমিক রেজিনা খাতুন ও ছুলেমান একই সমান পরিশ্রম করেন। অথচ পুরুষ শ্রমিক ছুলেমান পান ১৪০০ টাকা আর নারী শ্রমিক রেজিনা পান মাত্র ১০০ টাকা। এখানে নারী হওয়ায় তাকে মারাত্মক মজুরি বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে। প্রতিবাদ করায় তাকে ছাঁটাইয়ের হুমকি দেওয়া হয়। সুতরাং রেজিনা খাতুন তার মৌলিক অর্থনৈতিক অধিকার ও কাজের ন্যায্য মজুরি প্রাপ্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের অধিকারটি হলো অর্থনৈতিক অধিকার, এবং এই অধিকার নিশ্চিত করা ছাড়া রাজনৈতিক সাম্য পুরোপুরি অর্থহীন—উক্তিটি যথার্থ।

    রাজনৈতিক সাম্য বলতে বোঝায় কোনো বৈষম্য ছাড়াই প্রতিটি নাগরিকের ভোট দেওয়ার, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার এবং শাসনকাজে অংশগ্রহণের সমান সুযোগ। অন্যদিকে অর্থনৈতিক অধিকার বলতে অভাব ও শোষণ থেকে মুক্তি এবং ন্যায্য মজুরিতে শ্রম বিক্রির সুযোগ বোঝায়। অর্থনৈতিকভাবে পরাধীন বা দারিদ্র্যক্লিষ্ট মানুষের কাছে রাজনৈতিক অধিকার বা সাম্যের কোনো বাস্তব মূল্য থাকে না।

    রেজিনা খাতুনের মতো শ্রমিকরা যদি দিনভর হাড়ভাঙা খাটুনি খেটেও ন্যায্য পারিশ্রমিক না পান এবং সর্বদা চাকরিচ্যুতির আতঙ্কে থাকেন, তবে তারা স্বাধীনভাবে তাদের রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন না। পেট খালি থাকলে ভোটাধিকার বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কোনো তাৎপর্য বহন করে না; বরং অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল নাগরিকরা ধনীক শ্রেণির দ্বারা সহজেই প্রভাবিত বা শোষিত হন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী লাস্কির মতে, "অর্থনৈতিক সাম্য ছাড়া রাজনৈতিক সাম্য কখনো বাস্তব রূপ ধারণ করতে পারে না।"

    সুতরাং পরিশেষে বলা যায়, অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করে অর্থনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠা করা না গেলে নাগরিকদের রাজনৈতিক সাম্য কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন