‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • রাজনৈতিক দল, নেতৃত্ব ও সুশাসন • নিউ গভঃ ডিগ্রী কলেজ, রাজশাহী • নিউ গভঃ ডিগ্রী কলেজ, রাজশাহী টেস্ট পরীক্ষা ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

মি. ইকবাল একটি সংগঠনের সদস্য। তার সংগঠন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ক্ষমতাসীনদের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে। মি. ইকবালের বন্ধু সুমন অন্য। একটি বৃহৎ সংগঠনের প্রেসিডিয়াম সদস্য। তিনি পার্লামেন্টেরও সদস্য। বছরের বেশির ভাগ সময় তিনি বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে জনগণের সাথে মতবিনিময় করে থাকেন।

  1. ক)

    ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির প্রবক্তা কে?

    (1)
  2. খ)

    ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    সুমন যে সংগঠনের সদস্য তার কার্যাবলি আলোচনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    তুমি কি মনে কর, মি. ইকবালের সংগঠন ও সুমনের সংগঠনের মধ্যে পার্থক্য আছে? মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির প্রধান প্রবক্তা হলেন ফরাসি দার্শনিক মন্টেস্কু।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি বলতে সরকারের প্রধান তিনটি বিভাগ—আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগকে পরস্পরের নিয়ন্ত্রণমুক্ত ও স্বাধীন রেখে নিজ নিজ এক্তিয়ারভুক্ত কাজ পরিচালনা করাকে বোঝায়। এই নীতি অনুসারে এক বিভাগের ক্ষমতা অন্য বিভাগ ভোগ বা হস্তক্ষেপ করবে না, যাতে ব্যক্তিস্বাধীনতা ক্ষুণ্ন না হয় এবং ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করা যায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে সুমনের সংগঠনটি হলো একটি 'রাজনৈতিক দল'। কারণ তিনি সংগঠনটির প্রেসিডিয়াম সদস্য, পার্লামেন্ট সদস্য এবং জনগণের সাথে মতবিনিময় করে থাকেন। নিম্নে রাজনৈতিক দলের কার্যাবলি আলোচনা করা হলো:

    ১. জনমত গঠন: রাজনৈতিক দল জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনগণের সামনে বিভিন্ন দিক তুলে ধরে সচেতন জনমত গড়ে তোলে।
    ২. প্রার্থী মনোনয়ন ও নির্বাচন পরিচালনা: দল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেয় এবং নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা চালায়।
    ৩. সরকার গঠন ও পরিচালনা: নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে রাজনৈতিক দল সরকার গঠন করে এবং নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করে।
    ৪. বিরোধিতার ভূমিকা: নির্বাচনে যারা পরাজিত হয়, তারা বিরোধী দল হিসেবে সরকারের ভুলত্রুটি ও ব্যর্থতা তুলে ধরে গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে সরকারকে সংযত রাখে।
    ৫. সরকার ও জনগণের মধ্যে সেতুবন্ধন: রাজনৈতিক দল জনগণের দাবি-দাওয়া সরকারের কাছে এবং সরকারের নীতি কর্মসূচি জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, আমি মনে করি মি. ইকবালের সংগঠন (চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী) এবং সুমনের সংগঠনের (রাজনৈতিক দল) মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।

    উদ্দীপকে মি. ইকবালের সংগঠনটি সরাসরি ক্ষমতায় না গিয়ে ক্ষমতাসীনদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে, যা একটি চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী। অন্যদিকে সুমন একটি বৃহৎ দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ সদস্য, যা একটি রাজনৈতিক দলের রূপ। এদের মধ্যকার প্রধান পার্থক্যগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

    ১. ক্ষমতা দখলের লক্ষ্য: রাজনৈতিক দলের মূল উদ্দেশ্য হলো নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় নির্বাচনে জয়লাভ করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করা। কিন্তু চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য ক্ষমতা দখল নয়, বরং ক্ষমতাসীনদের ওপর প্রভাব ফেলে নিজস্ব স্বার্থ আদায় করা।
    ২. সদস্যপদ ও পরিধি: রাজনৈতিক দলের লক্ষ্য ও কর্মসূচি সার্বজনীন এবং বিস্তীর্ণ জাতীয় স্বার্থকে ঘিরে আবর্তিত হয়। অন্যদিকে চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণি বা গোষ্ঠীর ক্ষুদ্র ও বিশেষ স্বার্থ রক্ষার জন্য কাজ করে।
    ৩. দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা: রাজনৈতিক দল সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করে, ফলে জনগণের কাছে তাদের দায়বদ্ধতা থাকে। চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর এমন প্রত্যক্ষ জাতীয় দায়বদ্ধতা থাকে না।
    ৪. নির্বাচনে অংশগ্রহণ: রাজনৈতিক দল নির্বাচনে প্রার্থী দেয় ও অংশ নেয়, কিন্তু চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠী নির্বাচনে সরাসরি দলীয়ভাবে প্রার্থী দাঁড় করায় না।

    অতএব, লক্ষ্য, কর্মপদ্ধতি ও কাঠামোগত দিক থেকে মি. ইকবাল ও সুমনের সংগঠন দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন চরিত্রের।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন