ভূগোল ২য় পত্র • কৃষি • Combined Board • ঢাকা, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন
ইন্দোনেশিয়ার তুন আব্দুল গাফফার বাংলাদেশের সিলেটে বেড়াতে এসে একটি ফসলের সবুজে শোভিত বড় বড় বাগান দেখে অভিভূত হলেন। তিনি আরও জানতে পারলেন যে, তাঁর দেশে অধিক উৎপাদিত ফসলটি বাংলাদেশের প্রায় সকল জেলাতেই কমবেশি উৎপাদিত হয়।
- ক)(1)
শিল্প কাকে বলে?
- খ)(2)
"কাঁচামালের সহজলভ্যতা সিমেন্ট শিল্প গড়ে উঠার অন্যতম নিয়ামক"- ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত দ্বিতীয় ফসলটি চাষের ভৌগোলিক নিয়ামকসমূহ ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত ফসল দু'টির অর্থনৈতিক গুরুত্ব বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রাকৃতিক সম্পদ বা কাঁচামালকে মানুষের শ্রম ও যন্ত্রের সাহায্যে প্রক্রিয়াজাত করে অধিকতর উপযোগী এবং মূল্যবান পণ্যে রূপান্তর করার প্রক্রিয়াকে শিল্প বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সিমেন্ট উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল হলো চুনাপাথর ও জিপসাম, যা আকারে ভারী ও ওজনহ্রাসকারী পণ্য। দূরবর্তী স্থান থেকে এগুলো পরিবহন করা বেশ ব্যয়বহুল এবং এতে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যায়। তাই পরিবহন খরচ কমানো এবং নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন বজায় রাখার স্বার্থে সাধারণত কাঁচামালের উৎসের কাছাকাছি সিমেন্ট কারখানা গড়ে ওঠে। ফলে কাঁচামালের সহজলভ্যতা সিমেন্ট শিল্পের অন্যতম প্রধান নিয়ামক।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত প্রথম ফসলটি হলো চা (যা সিলেটের বাগানে দেখা যায়) এবং দ্বিতীয় ফসলটি হলো ধান (ইন্দোনেশিয়ায় বিপুল উৎপাদিত এবং বাংলাদেশের প্রায় সকল জেলায় কমবেশি উৎপাদিত প্রধান খাদ্যশস্য)।
ধান চাষের অনুকূল ভৌগোলিক নিয়ামকসমূহ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. তাপমাত্রা: ধান উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুর ফসল। এর বৃদ্ধির জন্য ২০° থেকে ৩০° সেলসিয়াস তাপমাত্রার প্রয়োজন হয়।
২. বৃষ্টিপাত: ধান চাষে প্রচুর পানির প্রয়োজন হয়। বার্ষিক ১০০ থেকে ২০০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত ধান চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী।
৩. মৃত্তিকা: উর্বর পলিমাটি, এঁটেল ও দোআঁশ মাটি ধান চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী, কারণ এ মাটিতে পানি ধারণক্ষমতা বেশি।
৪. ভূ-প্রকৃতি: ক্ষেতে পানি জমিয়ে রাখার সুবিধার্থে ধান চাষের জন্য নদী অববাহিকার বিস্তীর্ণ সমতল ভূমি সবচেয়ে উপযুক্ত।
৫. অর্থনৈতিক নিয়ামক: ধান রোপণ, নিড়ানি ও ফসল কাটার জন্য প্রচুর সুলভ শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত ফসল দুটি হলো চা (প্রথম ফসল) এবং ধান (দ্বিতীয় ফসল)। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে এদের গুরুত্ব নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ধানের অর্থনৈতিক গুরুত্ব:
- খাদ্য নিরাপত্তা: ধান বাংলাদেশের মানুষের প্রধান খাদ্য চালের একমাত্র উৎস। দেশের ১৬ কোটিরও বেশি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ধান।
- কর্মসংস্থান: দেশের বিপুল জনগোষ্ঠী ও কৃষি শ্রমিক সরাসরি ধান চাষ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও চালের ব্যবসার সাথে জড়িত।
- জিডিপিতে অবদান: কৃষিখাতের সামগ্রিক উৎপাদনে ধানের অবদান সবচেয়ে বেশি।
২. চায়ের অর্থনৈতিক গুরুত্ব:
- বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: চা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল। অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে গুণগত মানের চা রপ্তানি করে দেশ প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে।
- কর্মসংস্থান: চা বাগানগুলোতে বিশেষ করে পাহাড়ি অঞ্চলের নারী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের বৃহৎ একটি অংশের জীবন-জীবিকা চা শিল্পের ওপর নির্ভরশীল।
- রাজস্ব আয়: চা শিল্প থেকে সরকার প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব পেয়ে থাকে।
সুতরাং, ধান যেমন অভ্যন্তরীণ খাদ্য নিরাপত্তা ও গ্রামীণ অর্থনীতির মেরুদণ্ড, চা তেমনি রপ্তানি আয় ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও