কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • বিশেষ উৎপাদন সম্পৃক্ত কৃষি প্রযুক্তি • Combined Board • চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫

কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন

পাট চাষি ফরিদুলের জমিতে প্রচুর পাট উৎপাদন হলো। কিন্তু পাট কাটার মৌসুমে পানির অভাব দেখা দিল। এ ব্যাপারে তিনি কৃষি কর্মকর্তার শরণাপন্ন হলেন। কৃষি কর্মকর্তা তাকে পাট পচানোর একটি আধুনিক পদ্ধতি সম্পর্কে বললেন। তিনি এটাও বললেন এ পদ্ধতিটি পরিবেশবান্ধব এবং স্বাস্থ্যসম্মত।

  1. ক)

    রোগিং কী?

    (1)
  2. খ)

    ভালো বীজের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত পাট পচানোর পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত পাট পচানোর পদ্ধতিটির অর্থনৈতিক গুরুত্ব মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বীজ ফসলের জমি থেকে নির্দিষ্ট জাতের ফসল ছাড়া অন্য জাতের ফসল বা অবাঞ্ছিত গাছ তুলে ফেলাকে রোগিং (Rouging) বা বাছাইকরণ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ভালো বীজের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর উচ্চ অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা, বিশুদ্ধতা এবং রোগমুক্ততা।

    উন্নত জাতের ভালো বীজের অঙ্কুরোদগম হার সাধারণত শতকরা ৮০ ভাগের বেশি থাকে এবং বীজের আকার, আকৃতি ও বর্ণ স্বাভাবিক ও সুষম হয়। ভালো বীজ অবশ্যই রোগবালাই ও কীট-পতঙ্গমুক্ত এবং অন্য কোনো জাতের বীজ বা আবর্জনামুক্ত (জাতীয় বিশুদ্ধতা শতকরা ৯৮ ভাগের বেশি) হতে হয়। ফলে এ বীজ থেকে সুস্থ, সতেজ ও অধিক ফলনশীল চারা পাওয়া যায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত পাট পচানোর আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতিটি হলো 'রিবন রেটিং' (Ribbon Retting) পদ্ধতি।

    পানির অভাবের সময়ে রিবন রেটিং অত্যন্ত কার্যকর একটি পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে পাট কাটার পর কাঁচা পাটগাছ থেকে ছাল ছাড়ানোর যন্ত্র বা 'রিবনার'-এর সাহায্যে সহজে ছাল বা আঁশ বাকল আকারে ছাড়িয়ে নেওয়া হয়। এরপর ছাড়ানো ছালগুলো গোলাকার বান্ডিল বা মোড়া তৈরি করে মাটির চাড়ি, ড্রাম, ছোট গর্ত বা পলিথিন বিছানো ছোট নালায় সামান্য পরিমাণ পানিতে ডুবিয়ে পচানো হয়। পাটের কাণ্ড বা পাটকাঠি পচানোর প্রয়োজন না হওয়ায় এতে খুব অল্প পরিমাণ পানির প্রয়োজন হয় এবং দ্রুততম সময়ে (১০-১২ দিনে) পাট পচে যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত রিবন রেটিং পদ্ধতিটি পাট চাষিদের জন্য অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচে এর অর্থনৈতিক গুরুত্ব মূল্যায়ন করা হলো:

    ১. পানির সংকট মোকাবেলা ও অপচয় রোধ: সাধারণ পদ্ধতিতে বিপুল পরিমাণ পানির প্রয়োজন হয়। খরা বা পানির অভাবে পাট পচানো বন্ধ থাকলে আঁশের ক্ষতি হয়। রিবন রেটিংয়ে অল্প পানিতেই পাট পচানো সম্ভব হওয়ায় কৃষকের আর্থিক লোকসান এড়ানো যায়।
    ২. উৎকৃষ্ট মানের আঁশ উৎপাদন: এ পদ্ধতিতে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে পচানো হয় বলে আঁশের রং সোনালি ও উজ্জ্বল হয়, কোনো ধরনের দাগ বা শেওলা পড়ে না। ফলে বাজারে এ পাটের মান উচ্চ থাকে এবং চাষি তুলনামূলক অনেক বেশি দাম পায়।
    ৩. পরিবহন খরচ সাশ্রয়: পাট কাটার পর ভারী পাটগাছ দূর-দূরান্তের নদী বা বিলে পরিবহন করতে চাষির অনেক খরচ হয়। রিবন রেটিংয়ে জমিতেই ছাল ছাড়িয়ে নেওয়ায় পরিবহন ব্যয় সম্পূর্ণ সাশ্রয় হয়।
    ৪. পাটকাঠির উপযোগিতা বৃদ্ধি: কাঁচা পাটগাছের কাঠি পানিতে না ভেজার কারণে তা সম্পূর্ণ অক্ষত, সাদা ও শক্ত থাকে। এই ভালো মানের পাটকাঠি গৃহস্থালি কাজে, বেড়া তৈরিতে বা পার্টিকেল বোর্ড কারখানায় চড়া মূল্যে বিক্রি করে চাষি অতিরিক্ত আয় করতে পারে।
    ৫. সময় সাশ্রয়: প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে এ পদ্ধতিতে পাট পচতে ৪-৫ দিন সময় কম লাগে, যা চাষির পরবর্তী ফসলের জমি দ্রুত প্রস্তুত করতে সাহায্য করে।

    অতএব, স্বল্প ব্যয়ে উৎকৃষ্ট মানের পাট ও পাটকাঠি উৎপাদন করে ফরিদুলের মতো কৃষকদের অধিক মুনাফা অর্জনের জন্য রিবন রেটিং পদ্ধতিটি অর্থনৈতিকভাবে অপরিসীম ভূমিকা পালন করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন