সমাজকর্ম ১ম পত্র • সমাজকর্ম সম্পর্কিত প্রত্যয়সমূহ • Combined Board • চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট বোর্ড ২০২১

সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন

রমজান সাহেব একজন সম্পদশালী ধার্মিক ব্যক্তি। তিনি নামাজ রোজা ও হজের পাশাপাশি আরও একটি আর্থিক ইবাদত করেন। তিনি তার সম্পদের নির্দিষ্ট অংশ কোরআনে বর্ণিত নীতি নির্ধারিত আটটি খাতের বাইরে ব্যয় করেন না। তার এই অর্থ ব্যয় সমাজের ধনী ও দরিদ্র বৈষম্য হ্রাস করে।

  1. ক)

    সমাজকর্মের সূত্রপাত কোন দেশে হয়?

    (1)
  2. খ)

    সামাজিক বীমা বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত রমজান সাহেবের অর্থ ব্যয়ে কোন ঐতিহ্যগত সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠানের কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপাকে উল্লিখিত অর্থ সুনির্দিষ্ট খাতে ব্যয়ের তাৎপর্য পাঠ্যপুস্তক এর আলোকে ব্যাখ্যা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ইংল্যান্ডে আধুনিক সমাজকর্মের সূত্রপাত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সামাজিক বীমা হলো এমন একটি বাধ্যতামূলক সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যেখানে সম্ভাব্য ঝুঁকি (যেমন—বার্ধক্য, বেকারত্ব, অসুস্থতা, দুর্ঘটনা ইত্যাদি) মোকাবিলার লক্ষ্যে কর্মী ও নিয়োগকর্তার নিয়মিত আর্থিক অবদানের ভিত্তিতে তহবিল গঠন করা হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট আর্থিক ক্ষতিপূরণ বা সহায়তা প্রদান করা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত রমজান সাহেবের অর্থ ব্যয়ে ইসলাম ধর্মের ঐতিহ্যগত সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠান 'যাকাত'-এর কথা বলা হয়েছে।

    ইসলাম ধর্মের পঞ্চস্তম্ভের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ইবাদত হলো যাকাত। নিসাব পরিমাণ সম্পদের অধিকারী প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন মুসলিমের জন্য বছরান্তে উদ্বৃত্ত সম্পদের একটি নির্দিষ্ট অংশ (শতকরা ২.৫ ভাগ বা ৪০ ভাগের এক ভাগ) কোরআনে বর্ণিত সুনির্দিষ্ট আটটি খাতের হকদারদের প্রদান করা ফরজ বা আবশ্যক।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, রমজান সাহেব নামাজ-রোজা ও হজের পাশাপাশি একটি আর্থিক ইবাদত হিসেবে কোরআনে নির্দেশিত আটটি সুনির্দিষ্ট খাতে তার সম্পদের একটি অংশ ব্যয় করেন, যা সমাজে ধনী ও দরিদ্রের বৈষম্য কমায়। এই বৈশিষ্ট্যগুলো সরাসরি ইসলামের 'যাকাত' ব্যবস্থার সাথে সম্পৃক্ত।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পবিত্র কোরআনে সুরা আত-তাওবার ৬০ নম্বর আয়াতে যাকাতের ব্যয়ের সুনির্দিষ্ট আটটি খাত (যেমন: ফকির, মিসকিন, যাকাত আদায়কারী কর্মচারী, ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট ব্যক্তি, দাসমুক্তি, ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি, আল্লাহর পথে সংগ্রামকারী এবং অসহায় মুসাফির) নির্ধারণ করা হয়েছে। এই নির্দিষ্ট খাতে অর্থ ব্যয়ের তাৎপর্য সমাজকল্যাণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী।

    ১. ধনী ও দরিদ্রের ব্যবধান হ্রাস: যাকাতের অর্থ সরাসরি সমাজের সবচেয়ে নিঃস্ব ও সুবিধাবঞ্চিত শ্রেণির হাতে পৌঁছায়। এতে সম্পদ গুটিকয়েক ধনীর হাতে পুঞ্জীভূত না থেকে সমাজে সুষমভাবে বণ্টিত হয় এবং বৈষম্য কমে।

    ২. দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান: এই আটটি খাতের লক্ষ্য কেবল তাৎক্ষণিক দান নয়, বরং দরিদ্রদের পুনর্বাসন ও স্বাবলম্বী করা। ফকির ও মিসকিনদের অর্থ বা উপার্জনের উপকরণ প্রদানের মাধ্যমে তাদেরকে স্থায়ীভাবে দারিদ্র্যমুক্ত করা সম্ভব হয়।

    ৩. সামাজিক নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা: ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিদের ঋণমুক্ত করা বা বিপদগ্রস্ত মুসাফিরদের আশ্রয় দানের মাধ্যমে সমাজে এক ধরনের স্বয়ংক্রিয় সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে ওঠে, যা মানুষের সামাজিক মর্যাদা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করে।

    ৪. সমাজকর্মের মূল্যবোধের প্রতিফলন: আধুনিক সমাজকর্মের মূল লক্ষ্য হলো পরনির্ভরশীলতা দূর করে সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। যাকাতের সুনির্দিষ্ট খাতে পরিকল্পিতভাবে অর্থ বিতরণের মাধ্যমে অসহায় মানুষ নিজের পায়ে দাঁড়ানোর শক্তি পায়, যা সমাজকর্মের আত্মসহায়তার মূলনীতির সাথে হুবহু মিলে যায়।

    সুতরাং, নির্ধারিত খাতে যাকাতের অর্থ ব্যয় শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় দায়িত্ব পালন নয়, বরং তা সমাজ থেকে বঞ্চনা দূরীকরণ ও একটি কল্যাণমুখী সমাজ বিনির্মাণের অত্যন্ত ফলপ্রসূ মাধ্যম।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন