সমাজকর্ম ১ম পত্র • সমাজকর্ম পেশার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১

সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন

১৭৬০ সাল থেকে ১৮৫০ সালের মধ্যে ইংল্যান্ড ও ইউরোপের অন্যান্য দেশে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন সংঘটিত হয়। উক্ত পরিবর্তনের ফলে উৎপাদন ক্ষেত্রে সনাতন পদ্ধতির পরিবর্তে যান্ত্রিক পদ্ধতি প্রয়োগ ঘটে এবং মানুষের চিন্তা চেতনার ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়।

  1. ক)

    ব্ল্যাক ডেথ কি?

    (1)
  2. খ)

    সক্ষম দরিদ্র বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের উল্লিখিত পরিবর্তনটি কি নামে পরিচিত? ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের উল্লিখিত পরিবর্তনটি সমাজকর্ম পেশার বিকাশে কি ধরনের অবদান রেখেছে? বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ব্ল্যাক ডেথ হলো চতুর্দশ শতাব্দীতে (১৩৪৮-১৩৪৯ সালে) ইউরোপে ছড়িয়ে পড়া একটি ভয়াবহ বিউবনিক প্লেগ মহামারি।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সক্ষম দরিদ্র (Able-bodied poor) বলতে এমন সব দরিদ্র ব্যক্তিকে বোঝায় যাদের শারীরিক সামর্থ্য ও কর্মক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কোনো কর্মসংস্থান নেই কিংবা যারা অলসতা বা ইচ্ছাকৃতভাবে কাজের অনীহা থেকে ভিক্ষাবৃত্তি করে। ১৬০১ সালের দরিদ্র আইন অনুযায়ী এ ধরনের ব্যক্তিদের সাহায্য বা ভিক্ষা দেওয়া নিষিদ্ধ ছিল এবং তাদের সংশোধনগার বা শ্রমগারে বাধ্যতামূলক কায়িক শ্রমে নিয়োজিত করা হতো।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিবর্তনটি 'শিল্পবিপ্লব' (Industrial Revolution) নামে পরিচিত।

    ১৭৬০ থেকে ১৮৫০ সালের মধ্যে ইংল্যান্ডে শুরু হয়ে গোটা ইউরোপে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রয়োগের মাধ্যমে অর্থনৈতিক ও উৎপাদন ব্যবস্থায় যে রূপান্তর ঘটে, তাকে শিল্পবিপ্লব বলা হয়। এর ফলে সনাতন হস্তচালিত উৎপাদন ব্যবস্থার পরিবর্তে বাষ্পীয় শক্তি ও যন্ত্রচালিত কারখানানির্ভর উৎপাদন পদ্ধতির সূত্রপাত হয়।

    উদ্দীপকে ১৭৬০ থেকে ১৮৫০ সালের মধ্যে ইংল্যান্ড ও ইউরোপের উৎপাদন ব্যবস্থায় হস্তশিল্প বা সনাতন পদ্ধতির পরিবর্তে যান্ত্রিক পদ্ধতি প্রবর্তন এবং মানুষের চিন্তা-চেতনার আমূল পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। উৎপাদন ক্ষেত্রে এই যুগান্তকারী আমূল পরিবর্তনই ইতিহাসে শিল্পবিপ্লব হিসেবে পরিগণিত।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত পরিবর্তনটি অর্থাৎ শিল্পবিপ্লব সমাজকর্ম পেশার উদ্ভব ও বিকাশে সর্বাধিক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অবদান রেখেছে।

    ১. বহুমুখী ও জটিল সমস্যার সৃষ্টি: শিল্পবিপ্লবের ফলে নগরায়ণ, বস্তি সমস্যা, বেকারত্ব, শিল্প-দুর্ঘটনা, শিশুশ্রম, পরিবেশ দূষণ, মানসিক চাপ এবং পারিবারিক ভাঙনের মতো জটিল আর্থসামাজিক সমস্যার উদ্ভব হয়। এসব সমস্যা সনাতন দানশীলতা বা পরোপকার দ্বারা সমাধান করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

    ২. বৈজ্ঞানিক ও পেশাদার সেবার প্রয়োজনীয়তা: জটিল সামাজিক সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সমাজবিজ্ঞানের জ্ঞান, মানবীয় আচরণ ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রয়োগের অপরিহার্যতা দেখা দেয়। ফলে আধুনিক সমাজকর্ম পেশার ধারণার উন্মেষ ঘটে।

    ৩. প্রাতিষ্ঠানিক সংগঠনের বিকাশ: শিল্পবিপ্লবোত্তর সমস্যা মোকাবিলায় সমাজকল্যাণমূলক বিভিন্ন সংস্থা যেমন—চ্যারিটি অর্গানাইজেশন সোসাইটি (COS), সেটেলমেন্ট আন্দোলন ইত্যাদির উদ্ভব ঘটে, যা পেশাদার সমাজকর্মের ভিত্তি রচনা করে।

    ৪. সমাজকর্ম শিক্ষার প্রসার: বিংশ শতাব্দীর শুরুতে সমস্যার বৈজ্ঞানিক সমাধানের জন্য সমাজকর্মীদের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ ও ডিগ্রি চালু হয়, যা সমাজকর্মকে একটি স্বতন্ত্র পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

    সুতরাং, বলা যায় যে শিল্পবিপ্লবের অভিঘাত ও সৃষ্ট বাস্তবতাই আধুনিক পেশাদার সমাজকর্মের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করে এবং এর বিকাশকে অবশ্যম্ভাবী করে তোলে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন