কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর বোর্ড ২০১৯
কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
বাকলিং কী?
- খ)(2)
সাইলেজ কোন ধরনের খাদ্য?
- গ)(3)
উদ্দীপকের গরু দুটির তুলনা করো।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে উদ্দীপকের কোন জাতের গরু পালন করা অধিক লাভজনক? যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
এক বছর বা তার কম বয়সের অপ্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ছাগলকে বাকলিং (Buckling) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাইলেজ হলো কাঁচা বা রসালো ঘাস ফারমেন্টেশন (গাঁজন) প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ করে তৈরি এক ধরনের প্রক্রিয়াজাত রসালো রাফেজ জাতীয় পশুখাদ্য।
ফুল আসার সময় সবুজ ও রসালো ঘাস কেটে টুকরো করে বাতাসমুক্ত অবস্থায় সাইলো পিট বা নির্দিষ্ট পাত্রে অ্যানারোবিক (অবায়বীয়) প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ করা হয়। এতে ঘাসের আর্দ্রতা ও পুষ্টিগুণ দীর্ঘ সময় বজায় থাকে এবং কাঁচা ঘাসের অভাবের সময় এটি গবাদিপশুকে পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে সরবরাহ করা যায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্র-ক হলো একটি দেশি জাতের গরু (Zebu বা Bos indicus) এবং চিত্র-খ হলো একটি উন্নত বিদেশি দুগ্ধজাত গরু, প্রধানত হলস্টাইন-ফ্রিজিয়ান (Bos taurus)। এদের মধ্যে তুলনামূলক বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
১. কুঁজ বা গলকম্বল: চিত্র-ক-এর গরুর পিঠে সুস্পষ্ট কুঁজ এবং গলায় গলকম্বল বিদ্যমান। অপরপক্ষে, চিত্র-খ-এর গরুর পিঠ সোজা, কোনো কুঁজ থাকে না এবং গলকম্বল অনুপস্থিত বা খুবই ক্ষুদ্র।
২. শারীরিক গঠন ও আকার: চিত্র-ক-এর গরু মাঝারি বা ক্ষুদ্রাকৃতির এবং হালকা পাতলা গড়নের। চিত্র-খ-এর গরু আকারে বেশ বড়, প্রশস্ত এবং ভারী দেহবিশিষ্ট।
৩. উৎপাদন ক্ষমতা: চিত্র-ক (দেশি জাত) মূলত দুধ উৎপাদনে অত্যন্ত কম (দৈনিক ১-২ লিটার) উৎপাদনশীল, যদিও এটি কৃষি কাজে বা ভার বহনে উপযোগী। অন্যদিকে, চিত্র-খ (হলস্টাইন-ফ্রিজিয়ান) একটি অত্যন্ত উচ্চ উৎপাদনশীল দুধেল জাত, যা দৈনিক ১৫-২৫ লিটার বা তারও বেশি দুধ দিতে সক্ষম।
৪. জলবায়ু ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: চিত্র-ক-এর গরু স্থানীয় আবহাওয়ার সাথে পুরোপুরি খাপ খাইয়ে চলতে পারে এবং এর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি। অপরদিকে, চিত্র-খ গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ার প্রতি সংবেদনশীল এবং রোগবালাইয়ের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাণিজ্যিক ডেইরি খামার ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিক বিবেচনা করলে উদ্দীপকের চিত্র-খ অর্থাৎ উন্নত বিদেশি জাতের (হলস্টাইন-ফ্রিজিয়ান বা এর সংকর জাত) গরু পালন করা অধিক লাভজনক।
এর সপক্ষে যুক্তিগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. উচ্চ দুগ্ধ উৎপাদন: আমাদের দেশে দুধের ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। চিত্র-ক-এর দেশি গরু থেকে দৈনিক গড়ে মাত্র ১-২ লিটার দুধ পাওয়া যায়, যা খামার পর্যায়ে অলাভজনক। পক্ষান্তরে চিত্র-খ-এর জাত থেকে দৈনিক গড়ে ১৫-২৫ লিটার দুধ উৎপাদন সম্ভব, ফলে খামারির আর্থিক লাভ বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
২. বাণিজ্যিক উপযোগিতা: বর্তমান বাজারে দেশি জাতের গরুর তুলনায় উন্নত জাতের দুগ্ধবতী গাভীর বাণিজ্যিক গুরুত্ব অনেক বেশি। উচ্চ মূল্যের দুধ ও পরবর্তীতে বাছুর বিক্রির মাধ্যমে অধিক মুনাফা অর্জন সম্ভব হয়।
৩. সংকর জাতের সম্ভাবনা: সম্পূর্ণ বিদেশি জাতের গরু পালনে আমাদের দেশের আবহাওয়ায় কিছু অসুবিধা থাকলেও, চিত্র-খ জাতের সাথে দেশি জাতের ক্রস-ব্রিডিং বা সংকরায়নের মাধ্যমে উৎপাদিত গরু বাংলাদেশের আবহাওয়ায় দারুণভাবে অভিযোজিত এবং অত্যন্ত লাভজনক প্রমাণিত হয়েছে।
৪. খাদ্য রূপান্তর দক্ষতা: উন্নত জাতের গরুর খাদ্য রূপান্তর ক্ষমতা (Feed Conversion Ratio) দেশি গরুর চেয়ে বেশি, ফলে যে খাদ্য সরবরাহ করা হয় তার মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ দুধ ও মাংস উৎপাদিত হয়।
অতএব, উপযুক্ত বাসস্থান, সঠিক পুষ্টি ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে চিত্র-খ জাতের গরু বা এর সংকর জাত পালন করাই বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সর্বাধিক লাভজনক বিনিয়োগ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও