পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ (১৯৪৭-১৯৭১) • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
'M' রাষ্ট্রটি দীর্ঘ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। এর পরই রাষ্ট্রটির এক অঞ্চলের শাসকগোষ্ঠী অন্য অঞ্চলের জনগণের ওপর বৈষম্য মূলক নীতি চালাতে শুরু করে। ফলে ওই অঞ্চলের জনগণের মধ্যে ভীষণ ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। জনগণ শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে থাকে। এক পর্যায়ে অঞ্চলটির জনপ্রিয় নেতা বিরোধী দলীয় এক সম্মেলনে জনগণের বাঁচার দাবি নামে কিছু কর্মসূচি পেশ করেন।
- ক)(1)
যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক কী ছিল?
- খ)(2)
অপারেশন সার্চলাইট বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে তোমার পঠিত বইয়ের কোনো কর্মসূচি সাদৃশ্য আছে কী? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ কর্মসূচি ছিল বাঙালির মুক্তির সনদ- বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল 'নৌকা'।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'অপারেশন সার্চলাইট' হলো ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী কর্তৃক পূর্ব পাকিস্তানের নিরস্ত্র, নিরীহ বাঙালিদের ওপর পরিচালিত বর্বর ও পরিকল্পিত সামরিক গণহত্যার নাম।
বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়া এবং আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন স্বাধিকারের দাবি দমন করার লক্ষ্যেই এই নিষ্ঠুর অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে আমার পঠিত বইয়ের ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক 'ছয় দফা কর্মসূচি'র সাদৃশ্য রয়েছে।
১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) ওপর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সামরিক ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক নীতি চালাতে শুরু করে। এই শোষণের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলে ১৯৬৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে লাহোরে বিরোধী দলসমূহের এক সম্মেলনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের 'বাঁচার দাবি' হিসেবে ঐতিহাসিক ৬ দফা কর্মসূচি পেশ করেন।
উদ্দীপকের 'M' রাষ্ট্রটি পাকিস্তান এবং শোষিত অঞ্চলটি পূর্ব পাকিস্তান। সেখানে জনপ্রিয় নেতা বঙ্গবন্ধুর পেশকৃত 'বাঁচার দাবি' কর্মসূচিটি মূলত বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবির প্রতিচ্ছবি।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ কর্মসূচিটি হলো ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক 'ছয় দফা কর্মসূচি', যা যথার্থ অর্থেই ছিল বাঙালির মুক্তির সনদ বা ম্যাগনাকার্টা।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উপস্থাপিত ৬ দফার মূল দাবিগুলো ছিল:
১. যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থা এবং সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা।
২. কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে কেবল দেশরক্ষা ও পররাষ্ট্র বিষয় ন্যস্ত থাকা; অবশিষ্ট বিষয় অঙ্গরাজ্যগুলোর নিয়ন্ত্রণে রাখা।
৩. দুই অঞ্চলের জন্য সহজে বিনিময়যোগ্য দুটি পৃথক মুদ্রা চালু করা বা একই মুদ্রা থাকলে পূর্ব পাকিস্তান থেকে মুদ্রা পাচার রোধে শাসনতান্ত্রিক বিধান রাখা।
৪. রাজস্ব ও শুল্ক ধার্য এবং আদায়ের ক্ষমতা অঙ্গরাজ্যের হাতে থাকা।
৫. বৈদেশিক বাণিজ্যের ওপর অঙ্গরাজ্যের কর্তৃত্ব এবং অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার নিজস্ব হিসাব সংরক্ষণ।
৬. আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য অঙ্গরাজ্য কর্তৃক আধা-সামরিক বাহিনী (প্যারা-মিলিটারি) গঠনের ক্ষমতা প্রদান।এই কর্মসূচির মাধ্যমেই বাঙালি জাতি প্রথমবারের মতো নিজেদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা খুঁজে পায়। এটি পাকিস্তানি অভ্যন্তরীণ উপনিবেশ ও শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ করে, যার ধারাবাহিকতায় ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০-এর নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয় এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।
অতএব, ছয় দফা কর্মসূচিকে বাঙালির মুক্তির সনদ হিসেবে অভিহিত করা সম্পূর্ণরূপে যথার্থ ও যৌক্তিক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও