কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, যশোর, দিনাজপুর বোর্ড ২০২২

কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন

জনাব আবুল কালাম তার বাড়ির পাশের পুকুরে একটি মাছের একক চাষ করেন। তার চাষকৃত মাছটি ১৯৭৭ সালে থাইল্যান্ড থেকে প্রথম আমাদের দেশে আনয়ন করা হয়। মাছটি অধিক ফলনশীল, শত্রু গড়নের এবং সুঘ্রানু। একদিন তিনি লক্ষ করেন তার। পুকুরের কিছু মাছের গায়ে ছোট ছোট লাল দাগ দেখা যাচ্ছে। এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ চাইলে তিনি বলেন এটি মাছের একটি মারাত্মক রোগ। তিনি এই রোগ দমনে কালামকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দিলেন।

  1. ক)

    প্লাংকটন কী?

    (1)
  2. খ)

    পুকুরে চুন প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    আবুল কালামের চাষকৃত মাছটির বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শে আবুল কালামের গৃহীত পদক্ষেপ বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পানিতে মুক্তভাবে ভাসমান আণুবীক্ষণিক জীবকে প্লাংকটন বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পুকুরে চুন প্রয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চুন প্রয়োগের ফলে পানির অম্লত্ব দূর হয়ে পিএইচ (pH) স্বাভাবিক মাত্রায় আসে এবং পানির গুণাগুণ উন্নত হয়। এছাড়া চুন পানির ক্ষতিকর জীবাণু ও পরজীবী ধ্বংস করে রোগজীবাণুর বিস্তার রোধ করে, কাদার বিষাক্ত গ্যাস দূর করে এবং তলদেশে জমে থাকা পুষ্টি উপাদান মুক্ত করে প্রাকৃতিক খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত জনাব আবুল কালামের চাষকৃত মাছটি হলো থাই সরপুঁটি (রাজপুঁটি)। ১৯৭৭ সালে এ মাছটি প্রথম থাইল্যান্ড থেকে বাংলাদেশে আনা হয়।

    মাছটির উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যসমূহ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
    ১. দ্রুত বর্ধনশীলতা ও অধিক ফলনশীল: দেশি সরপুঁটির তুলনায় এ মাছ অত্যন্ত দ্রুত বাড়ে এবং ৩-৪ মাসেই বিক্রয়যোগ্য ওজনের (১০০-১৫০ গ্রাম) হয়ে থাকে।
    ২. খাদ্য অভ্যাস: এরা সর্বভুক প্রকৃতির এবং পানির মধ্য ও নিচের স্তরের খাদ্য গ্রহণ করে। নরম জলজ উদ্ভিদ, শেওলা, কুঁড়ো, খৈল ইত্যাদি সম্পূরক খাদ্য অত্যন্ত আগ্রহের সাথে গ্রহণ করে।
    ৩. সহনশীলতা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: এরা প্রতিকূল পরিবেশ, যেমন কম গভীরতার পানি এবং সামান্য ঘোলা পানিতেও বেঁচে থাকতে পারে।
    ৪. একক ও মিশ্র চাষ উপযোগী: অল্প সময়ে অধিক উৎপাদনের জন্য এদের একক বা অন্যান্য কার্প জাতীয় মাছের সাথে মিশ্র চাষ করা যায়।
    ৫. সুস্বাদু ও পুষ্টিকর: মাছটি কাঁটাযুক্ত হলেও যথেষ্ট পুষ্টিকর এবং স্বাদে দেশি সরপুঁটির অনুরূপ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে জনাব আবুল কালামের পুকুরের মাছের গায়ে ছোট ছোট লাল দাগ দেখা যাওয়ায় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এটিকে মারাত্মক রোগ হিসেবে চিহ্নিত করেন। এই রোগটি হলো মাছের 'ক্ষত রোগ' বা 'এপিজুটিক আলসারেটিভ সিনড্রোম' (EUS)।

    মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী এ রোগ দমনে জনাব আবুল কালামের গৃহীত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপসমূহ নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. চুন ও লবণের প্রয়োগ: ক্ষত রোগ সাধারণত শীতকালে বেশি দেখা যায়। এই রোগ প্রতিকারে প্রতি শতাংশে ১ কেজি হারে চুন এবং ১ কেজি হারে খাবার লবণ পুকুরে ভালোভাবে গুলে প্রয়োগ করতে হয়। এতে পানির অম্লত্ব দূর হয় এবং জীবাণু ধ্বংস হয়।
    ২. আক্রান্ত মাছের প্রাথমিক চিকিৎসা: মাছের প্রাথমিক ক্ষত অবস্থায় প্রতি ১০ লিটার পানিতে ১০০ গ্রাম লবণ গুলে সেই দ্রবণে আক্রান্ত মাছকে ৫-১০ মিনিট ডুবিয়ে রেখে পুনরায় পুকুরে ছেড়ে দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
    ৩. অ্যান্টিবায়োটিক বা জীবাণুনাশক ব্যবহার: রোগের তীব্রতা বেশি হলে মৎস্য কর্মকর্তার নির্দেশ অনুযায়ী পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট বা উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক (যেমন- টেরামাইসিন) সম্পূরক খাদ্যের সাথে মিশিয়ে (প্রতি কেজি খাদ্যে ৬০-১০০ মিলিগ্রাম) একটানা ৭-১০ দিন খাওয়াতে হবে।
    ৪. পুকুরের পরিবেশ উন্নয়ন ও দূষণ রোধ: পুকুরে অতিরিক্ত জৈব সার ও অবিক্রিত খাদ্য পচে যাতে বিষাক্ত গ্যাস তৈরি না হয়, সে ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে আংশিক পানি পরিবর্তন করতে হবে।
    ৫. রোগাক্রান্ত মৃত মাছ অপসারণ: পুকুরে কোনো মাছ মারা গেলে রোগ যেন সুস্থ মাছে ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য মৃত মাছ তুলে মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে।

    অতএব, মৎস্য কর্মকর্তার পরামর্শ মেনে উপযুক্ত রাসায়নিক ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে কালাম সাহেব তার মাছের ক্ষত রোগ কার্যকরভাবে দমন করতে সক্ষম হবেন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন