ভূগোল ২য় পত্র • কৃষি • Combined Board • ঢাকা, দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন
একটি খাদ্যশস্য যা উত্তর আমেরিকার প্রেইরী অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে উৎপাদিত হয় বলে তাকে 'পৃথিবীর রুটির ঝুড়ি' বলা হয়। তবে চীন হচ্ছে শস্যটির প্রধান উৎপাদনকারী দেশ।
- ক)(1)
ব্যাপক কৃষি কাকে বলে?
- খ)(2)
বাংলাদেশে পাটকে সোনালি আঁশ বলা হয়- ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত শস্যটি উৎপাদনের অনুকূল ভৌগোলিক নিয়ামক ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত ৩ শস্যটির বিশ্ববাণিজ্যে দেশ দু'টির ভূমিকার তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনসংখ্যার তুলনায় অধিক জমিতে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যাপক ব্যবহারের মাধ্যমে যে কৃষি কাজ পরিচালিত হয়, তাকে ব্যাপক কৃষি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পাট বাংলাদেশের একটি প্রধান অর্থকরী ফসল। কাঁচা পাট এবং পাটজাত দ্রব্য (যেমন—চট, বস্তা, কার্পেট ইত্যাদি) বিদেশে রপ্তানি করে বাংলাদেশ প্রচুর পরিমাণে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। পাটের আঁশের সোনালি রঙ এবং এর অপরিসীম অর্থনৈতিক মূল্যের কারণে রূপক অর্থে একে বাংলাদেশের 'সোনালি আঁশ' বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত খাদ্যশস্যটি হলো গম। গম উৎপাদনের অনুকূল ভৌগোলিক নিয়ামকসমূহ প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত:
১. প্রাকৃতিক নিয়ামক:
- তাপমাত্রা: গম সাধারণত নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের ফসল। গম চাষের প্রাথমিক পর্যায়ে ১৫° থেকে ২০° সেলসিয়াস এবং ফসল পাকার সময় ২০° থেকে ২৫° সেলসিয়াস তাপমাত্রার প্রয়োজন হয়।
- বৃষ্টিপাত: গম চাষে ৫০ থেকে ৭৫ সেন্টিমিটার পরিমিত বৃষ্টিপাত সবচেয়ে উপযোগী। অতিবৃষ্টি গমের জন্য ক্ষতিকর।
- মৃত্তিকা: উর্বর দোআঁশ, বেলে-দোআঁশ এবং এঁটেল-দোআঁশ মাটি গম চাষের জন্য সর্বোৎকৃষ্ট।
- ভূ-প্রকৃতি: পানি জমে না এমন মৃদু ঢালু বা সমতল ভূমি গম চাষের জন্য উপযুক্ত।
২. অর্থনৈতিক নিয়ামক: জমি প্রস্তুত, বীজ বপন এবং ফসল কাটার জন্য পর্যাপ্ত মূলধন, উন্নত যন্ত্রপাতি (যেমন—ট্রাক্টর, কম্বাইন্ড হারভেস্টার) এবং দক্ষ শ্রমিকের প্রয়োজন হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত দেশ দুটি হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (উত্তর আমেরিকা/প্রেইরী অঞ্চল) এবং চীন; আর খাদ্যশস্যটি হলো গম। বিশ্ব গম বাণিজ্যে দেশ দুটির ভূমিকার তুলনামূলক বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হলো:
১. উৎপাদন ও অভ্যন্তরীণ চাহিদা: চীন বিশ্বের শীর্ষ গম উৎপাদনকারী দেশ। কিন্তু চীনের বিশাল জনসংখ্যার কারণে উৎপাদিত গমের প্রায় সম্পূর্ণ অংশই তাদের অভ্যন্তরীণ চাহিদায় ব্যয় হয়। ফলে গম রপ্তানিতে চীনের স্থান নগণ্য, বরং নিজস্ব চাহিদা মেটাতে চীনকে মাঝে মাঝে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে গম আমদানি করতে হয়।
২. রপ্তানি বাণিজ্য: অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উৎপাদনে চীনের পেছনে হলেও গম রপ্তানিতে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় দেশ। দেশটির প্রেইরী অঞ্চলে আধুনিক ও ব্যাপক কৃষি পদ্ধতির মাধ্যমে বিপুল উদ্বৃত্ত গম উৎপাদিত হয়। কম জনসংখ্যার কারণে অভ্যন্তরীণ চাহিদা কম থাকায় তারা উদ্বৃত্ত গমের অধিকাংশ বিশ্ববাজারে রপ্তানি করে।
অতএব, আন্তর্জাতিক গম বাণিজ্যের ক্ষেত্রে চালিকাশক্তি বা রপ্তানিকারক হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা অগ্রগণ্য, যেখানে চীন প্রধানত একটি বৃহৎ ভোক্তা ও আমদানিকারক দেশ হিসেবে ভূমিকা রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও