কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, যশোর, দিনাজপুর বোর্ড ২০২২
কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
নিচের চিত্রগুলো লক্ষ করো এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
- ক)(1)
সম্পূরক খাদ্য কী?
- খ)(2)
পুকুরে সার প্রয়োগ করা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো
- গ)(3)
ধানের সাথে চিত্র 'ক' এর চাষের কৌশল ব্যাখ্যা করো
- ঘ)(4)
চিত্র 'ক' ও চিত্র 'খ' এর মধ্যে বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মাছ বা জলজ প্রাণীর স্বাভাবিক ও দ্রুত বৃদ্ধির জন্য প্রাকৃতিক খাদ্যের পাশাপাশি বাইরে থেকে নিয়মিত যে অতিরিক্ত পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করা হয়, তাকে সম্পূরক খাদ্য বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পুকুরে প্রাকৃতিক খাদ্য উৎপাদনের জন্য সার প্রয়োগ করা হয়।
পুকুরের পানিতে জৈব ও অজৈব সার প্রয়োগ করলে ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন (উদ্ভিদকণা) এবং জুপ্ল্যাঙ্কটন (প্রাণীকণা)-এর মতো প্রাকৃতিক খাদ্যের বংশবৃদ্ধি ঘটে। প্রাকৃতিক খাদ্য পর্যাপ্ত পরিমাণে তৈরি হলে মাছ বা চিংড়ির দ্রুত শারীরিক বৃদ্ধি নিশ্চিত হয়, সম্পূরক খাদ্যের ওপর নির্ভরতা কমে এবং মাছ চাষের উৎপাদন ব্যয় অনেকটাই হ্রাস পায়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্র 'ক' হলো গলদা চিংড়ি। ধানের সাথে গলদা চিংড়ি চাষের কৌশল নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. জমি নির্বাচন ও প্রস্তুতি: মাঝারি নিচু বা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধযুক্ত জমি নির্বাচন করা হয় যেখানে ৪-৬ মাস পানি জমে থাকে। জমির চারদিকে মজবুত আল তৈরি করতে হয় এবং অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন ও পানির উচ্চতা ধরে রাখার জন্য বাঁশের বানা বা জাল স্থাপন করতে হয়।
২. নালা বা গর্ত তৈরি: জমির ভেতর একপাশে বা মাঝে নিচু নালা (ক্যানেল) বা ডোবা তৈরি করা হয়, যাতে জমিতে পানি কমে গেলে চিংড়ি সেখানে আশ্রয় নিতে পারে।
৩. ধানের চারা রোপণ: উচ্চফলনশীল ও জলমগ্নতা সহনশীল জাতের (যেমন- বিআর-১১, ব্রি ধান-২৩, ব্রি ধান-৭৬ ইত্যাদি) চারা জমিতে শাড়িবদ্ধভাবে রোপণ করা হয়।
৪. জুভেনাইল বা পোনা মজুত: ধান রোপণের ১৫-২০ দিন পর যখন জমিতে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক খাদ্য তৈরি হয়, তখন সুস্থ-সবল গলদা চিংড়ির জুভেনাইল বা পোনা মজুত করা হয়।
৫. পরিচর্যা ও কীটনাশক নিয়ন্ত্রণ: জমিতে পর্যাপ্ত পানির গভীরতা বজায় রাখতে হয় এবং ক্ষতিকর রাসায়নিক কীটনাশক প্রয়োগ পুরোপুরি পরিহার করতে হয়; সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা (IPM) অনুসরণ করা হয়।
৬. আহরণ: ধান পাকার আগে পানি নিষ্কাশন করে নালা বা ডোবা থেকে সহজে গলদা চিংড়ি আহরণ করা হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের চিত্র 'ক' হলো গলদা চিংড়ি এবং চিত্র 'খ' হলো বাগদা চিংড়ি। এদের মধ্যে প্রধান বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্যগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. বাসস্থান বা পরিবেশ: গলদা চিংড়ি মূলত মিঠাপানি বা স্বাদু পানির চিংড়ি। অন্যদিকে বাগদা চিংড়ি উপকূলীয় লোনা বা ঈষৎ লোনা (আধা-লোনা) পানির চিংড়ি।
২. দৈহিক গঠন ও উপাঙ্গ: গলদা চিংড়ির দ্বিতীয় জোড়া বক্ষ-পা (পেরিওপড) বা চেলাপড অত্যন্ত দীর্ঘ, মোটা ও নীলচে বা কালচে রঙের নখরযুক্ত হয় (বিশেষ করে পুরুষ চিংড়িতে)। বাগদা চিংড়ির ক্ষেত্রে পাগুলো অপেক্ষাকৃত সমানুপাতিক এবং এদের এমন দীর্ঘ চেলাপড থাকে না।
৩. খোলসের দাগ ও বর্ণ: বাগদা চিংড়ির সারা দেহে বা খোলসে বাঘের মতো কালো ও হালকা হলুদাভ ডোরার দাগ (stripes) থাকে। গলদা চিংড়ির দেহে সাধারণত এ ধরনের ডোরাকাটা দাগ থাকে না, এরা দেখতে নীলাভ-সবুজ বা ধূসর বর্ণের হয়ে থাকে।
৪. পিঠের কাঁটা বা রোস্ট্রাম: গলদা চিংড়ির রোস্ট্রাম বাঁকানো এবং লম্বাটে হয়। বাগদা চিংড়ির রোস্ট্রাম সোজা এবং এর উপরের ও নিচের কিনারা খাঁজকাটা হয়।
৫. প্রজনন পরিবেশ: গলদা চিংড়ির পোনা উৎপাদনের জন্য ডিম ফোটার পর লোনা বা ব্র্যাকিশ ওয়াটার প্রয়োজন হলেও বয়োপ্রাপ্ত চিংড়ি মিঠাপানিতে বাস করে। পক্ষান্তরে, বাগদা চিংড়ি প্রজনন ও বৃদ্ধির পুরো চক্রেই গভীর সাগর ও উপকূলীয় লোনা পানির ওপর নির্ভরশীল।সুতরাং, দৈহিক গঠন, খোলসের দাগ এবং পরিবেশের পার্থক্যের মাধ্যমেই গলদা ও বাগদা চিংড়িকে স্পষ্টভাবে পৃথক করা যায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও