ভূগোল ১ম পত্র • সমুদ্রস্রোত ও জোয়ার-ভাটা • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, দিনাজপুর বোর্ড ২০২১
ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
সমুদ্রস্রোত কাকে বলে?
- খ)(2)
বায়ু প্রবাহ সমুদ্র স্রোতের অন্যতম কারণ ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের 'গ' চিহ্নিত স্রোতটির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে 'ক' ও 'খ' চিহ্নিত স্রোত দুটির মধ্যে যে সাদৃশ্য রয়েছে তা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মহাসাগরের উপরিভাগের জলরাশির এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নির্দিষ্ট দিকে এবং নিয়মিতভাবে প্রবাহিত হওয়াকে সমুদ্রস্রোত বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নিয়ত বায়ুপ্রবাহ সমুদ্রস্রোত সৃষ্টির প্রধান ও অন্যতম কারণ। নিয়ত বায়ু (যেমন: অয়ন বায়ু, পশ্চিমা বায়ু ও মেরু বায়ু) নির্দিষ্ট গতিপথে সারা বছর নিয়মিতভাবে প্রবাহিত হয়। এই বায়ুপ্রবাহ সমুদ্রের জলপৃষ্ঠের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় জলের সঙ্গে ঘর্ষণের সৃষ্টি করে এবং জলরাশিকে বায়ুর প্রবাহের দিকে চালিত করে। ফলে মহাসাগরে স্থায়ী ও বিশাল সমুদ্রস্রোতের উৎপত্তি ঘটে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'গ' চিহ্নিত স্রোতটি হলো উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের 'উপসাগরীয় স্রোত' (Gulf Stream) বা উত্তর আটলান্টিক স্রোত।
এই স্রোতটির গুরুত্ব নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. জলবায়ুর ওপর প্রভাব: এই উষ্ণ স্রোতটি উত্তর আমেরিকার পূর্ব উপকূল এবং পশ্চিম ইউরোপের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ঐ অঞ্চলের ঠান্ডার তীব্রতা কমায় এবং আবহাওয়াকে অপেক্ষাকৃত আর্দ্র ও নাতিশীতোষ্ণ রাখে। ফলে শীতকালেও ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জ ও নরওয়ের বন্দরগুলো বরফমুক্ত থাকে।
২. মৎস্যক্ষেত্রের বিকাশ: উত্তর দিক থেকে আসা শীতল ল্যাব্রাডর স্রোতের সাথে এই উষ্ণ স্রোতের মিলনের ফলে নিউফাউন্ডল্যান্ডের নিকটে বিখ্যাত 'গ্র্যান্ড ব্যাংক' মৎস্যক্ষেত্র গড়ে উঠেছে, যা বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৩. বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচল: এই স্রোতের প্রভাবে ইউরোপের পশ্চিম উপকূলের বন্দরগুলো সারা বছর উন্মুক্ত থাকে, যা আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের মানচিত্রে আটলান্টিক মহাসাগরের প্রবাহ নির্দেশ করা হয়েছে। এখানে 'ক' চিহ্নিত স্রোতটি হলো দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের শীতল 'বেঙ্গুয়েলা স্রোত' (বা দক্ষিণ আটলান্টিক উপ-বলয়) এবং 'খ' চিহ্নিত স্রোতটি হলো বিষুবীয় অঞ্চলের 'দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোত' বা আটলান্টিক মহাসাগরীয় স্রোতপ্রবাহ।
'ক' ও 'খ' চিহ্নিত স্রোত দুটির মধ্যে বিদ্যমান সাদৃশ্যগুলো নিম্নরূপ:
১. মহাসাগরীয় অবস্থান: দুটি স্রোতই দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের জলচক্র বা বৃত্তীয় স্রোতব্যবস্থার (Gyre) অবিচ্ছেদ্য অংশ।
২. প্রবাহের আন্তঃসংযোগ: অ্যান্টার্কটিকা বা দক্ষিণ থেকে আসা শীতল বেঙ্গুয়েলা স্রোত ('ক') আফ্রিকার পশ্চিম উপকূল ধরে উত্তর দিকে প্রবাহিত হয়ে নিরক্ষরেখার কাছাকাছি পৌঁছায় এবং পরবর্তীতে পূর্বালী বা বাণিজ্য বায়ুর প্রভাবে পশ্চিমমুখী হয়ে দক্ষিণ নিরক্ষীয় স্রোত ('খ') হিসেবে প্রবাহিত হয়। অর্থাৎ একটি স্রোত অন্যটির ধারাবাহিকতায় রূপ নেয়।
৩. বায়ুপ্রবাহ দ্বারা নিয়ন্ত্রণ: উভয় স্রোতই নিয়ত বায়ুপ্রবাহ (যেমন: পশ্চিমা বায়ু ও দক্ষিণ-পূর্ব অয়ন বায়ু) দ্বারা পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়।
৪. বাণিজ্য ও মৎস্য সম্পদ: উভয় স্রোতপ্রবাহই আটলান্টিক মহাসাগরের তাপমাত্রার ভারসাম্য রক্ষা করে এবং সংশ্লিষ্ট উপকূলীয় অঞ্চলের মৎস্য আহরণ ও জাহাজ চলাচলে প্রভাব ফেলে।অতএব, 'ক' ও 'খ' স্রোত দুটি দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের একই চক্রাকার প্রবাহরীতির দুটি পরস্পর সম্পর্কযুক্ত অংশ হওয়ায় এদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ উৎপত্তিগত ও গতিপ্রকৃতিগত সাদৃশ্য রয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও