ভূগোল ১ম পত্র • জলবায়ুর উপাদান ও নিয়ামক • Combined Board • রাজশাহী, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, দিনাজপুর বোর্ড ২০২১
ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন
মিতু শীতের ছুটিতে পঞ্চগড় হতে কক্সবাজার বেড়াতে গেল। সে পঞ্চগড়ে শীতের তীব্রতা চিন্তা করে অনেক শীতের কাপড় নিয়ে কক্সবাজার পৌঁছে দেখল সেখানে শীতের তীব্রতা পঞ্চগড় হতে অনেক কম।
- ক)(1)
জলবায়ু কী?
- খ)(2)
বায়ুর তাপমাত্রা জলবায়ুর গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে ভ্রমণকৃত স্থানের তাপমাত্রা বেশি হবার কারণ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে স্থানদ্বয়ের তাপের তারতম্যের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের ৩০ থেকে ৪০ বছরের আবহাওয়ার গড় অবস্থাকে জলবায়ু বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বায়ুর তাপমাত্রা জলবায়ুর অন্যতম প্রধান নিয়ন্ত্রক উপাদান। ভূপৃষ্ঠের বায়ুর তাপমাত্রা পরিবর্তনের সাথে সাথে বায়ুর চাপ, আর্দ্রতা, বায়ুপ্রবাহ এবং বৃষ্টিপাতের ধরন পরিবর্তিত হয়। কোনো অঞ্চলের উষ্ণতা বেশি হলে বায়ুর ঘনত্ব কমে যায় এবং নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়, যা বায়ুপ্রবাহের অভিমুখ নির্ধারণ করে। ফলে কোনো অঞ্চলের সামগ্রিক জলবায়ুর প্রকৃতি কেমন হবে তা প্রধানত বায়ুর তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মিতুর ভ্রমণকৃত স্থান কক্সবাজারে শীতকালে পঞ্চগড়ের তুলনায় তাপমাত্রা বেশি হবার মূল কারণ হলো সমুদ্রের নৈকট্য এবং অক্ষাংশীয় অবস্থান। কক্সবাজার সমুদ্রোপকূলে অবস্থিত হওয়ায় সেখানে 'সমভাবাপন্ন জলবায়ু' বিরাজ করে। সমুদ্রের পানি ধীরে ধীরে উষ্ণ হয় এবং ধীরে ধীরে শীতল হয়। ফলে শীতকালে সমুদ্র সংলগ্ন ভূভাগ স্থলভাগের মতো দ্রুত তাপ হারিয়ে অতিরিক্ত শীতল হতে পারে না। সমুদ্র থেকে আসা উষ্ণ সামুদ্রিক বায়ুর প্রভাবে শীতকালে কক্সবাজার তুলনামূলকভাবে উষ্ণ থাকে। এছাড়া কক্সবাজার পঞ্চগড় অপেক্ষা বিষুবরেখার তুলনামূলক নিকটে (কম অক্ষাংশে) অবস্থিত হওয়ায় সেখানে সূর্যের কিরণ কিছুটা লম্বভাবে পড়ে, যার ফলে শীতকালে কক্সবাজারের তাপমাত্রা বেশি থাকে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত পঞ্চগড় ও কক্সবাজারের তাপমাত্রার তারতম্য প্রধানত অক্ষাংশীয় অবস্থান এবং সমুদ্র থেকে দূরত্বের পার্থক্যের কারণে ঘটে থাকে:
১. অক্ষাংশীয় ব্যবধান: পঞ্চগড় বাংলাদেশের সর্বউত্তরের জেলা হওয়ায় এটি ক্রান্তীয় অঞ্চলের উত্তর প্রান্তে অবস্থিত এবং বিষুবরেখা থেকে কক্সবাজারের চেয়ে বেশি দূরে অবস্থিত। শীতকালে উত্তর গোলার্ধে সূর্য হেলে কিরণ দেয়ায় পঞ্চগড়ে সূর্যের তির্যক কিরণের মাত্রা কক্সবাজারের চেয়ে বেশি হয়, ফলে পঞ্চগড় দ্রুত শীতল হয়।
২. সমুদ্র থেকে দূরত্ব (মহাদেশীয়তা বনাম উপকূলীয় প্রভাব): পঞ্চগড় সমুদ্র থেকে বহু দূরে অভ্যন্তরীণ ভূভাগে অবস্থিত হওয়ায় সেখানে মহাদেশীয় বা চরমভাবাপন্ন জলবায়ু দেখা যায়। স্থলভাগ খুব দ্রুত তাপ বিকিরণ করে শীতল হয়ে যায়, ফলে শীতকালে পঞ্চগড়ে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ অনুভূত হয়। অন্যদিকে, কক্সবাজার বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী হওয়ায় সমুদ্রের প্রভাবে সমভাবাপন্ন জলবায়ু বিদ্যমান থাকে; যা শীতের তীব্রতাকে অনেক কমিয়ে দেয়।
৩. হিমালয় পর্বতের নৈকট্য: পঞ্চগড় হিমালয় পর্বতের কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় উত্তর দিক থেকে আসা শুষ্ক ও হিমশীতল বায়ু সরাসরি এখানে প্রবেশ করে শীতের তীব্রতা বাড়িয়ে দেয়, যা কক্সবাজারে পৌঁছাতে পারে না।
সুতরাং, ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে শীতকালে পঞ্চগড়ে তীব্র শীত থাকলেও কক্সবাজারে সমভাবাপন্ন ও আরামদায়ক তাপমাত্রা বজায় থাকে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও