মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮
মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
নাহিন নবম শ্রেণিতে পড়ে। সে বাবার সঙ্গে প্রতিদিন খবরের। কাগজ পড়ে এবং টেলিভিশনে খবর শোনে। সম্প্রতি বাংলাদেশে অনুপ্রবেশাধীন রোহিঙ্গাদের দুঃখ-দুর্দশার খবর তাকে খুব কষ্ট দেয়। কীভাবে তাদের সাহায্য করা যায় এই নিয়ে চিন্তা করতে থাকে। নাহিনের মামা মতিন সাহেব যেকোনো বিষয় সম্পর্কে যথার্থ বিবেচনা ছাড়াই যুক্তিহীন, নেতিবাচক ও বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব পোষণ করেন। যেমন- তিনি মনে করেন দরিদ্রদের লেখাপড়া করার প্রয়োজন নেই। মতিন সাহেবের এ ধরনের মানসিকতা অনেকের কাছেই গ্রহণযোগ্য নয়।
- ক)(1)
মনোভাব কী?
- খ)(2)
প্রাসঙ্গিক আইন প্রণয়ন কীভাবে পূর্বসংস্কার হ্রাস করে?
- গ)(3)
নাহিনের আচরণ মনোভাবের কোন উপাদানের অন্তর্ভুক্ত? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
মতিন সাহেবের মানসিকতাকে মনোবিজ্ঞানের ভাষায় কী বলে? এর বৈশিষ্ট্যসমূহ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো ব্যক্তি, বস্তু বা বিষয়ের প্রতি ব্যক্তির ইতিবাচক বা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া প্রকাশের স্থায়ী ও অর্জিত মানসিক প্রস্তুতিকে মনোভাব (Attitude) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রাসঙ্গিক আইন প্রণয়ন সমাজের মানুষের বাহ্যিক আচরণকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিবর্তন করতে বাধ্য করে। কোনো বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করা হলে মানুষ শাস্তির ভয়ে প্রকাশ্যে বিদ্বেষপূর্ণ আচরণ পরিহার করে। পরবর্তীতে এই বাধ্যতামূলক আচরণ একসময় ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ বিশ্বাসে পরিণত হয়, যা ক্রমান্বয়ে কুসংস্কার বা পূর্বসংস্কার হ্রাস করতে সাহায্য করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নাহিনের আচরণ মনোভাবের 'আবেগীয় উপাদান' (Affective Component)-এর অন্তর্ভুক্ত।
মনোভাব মূলত তিনটি উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত—জ্ঞানমূলক, আবেগীয় এবং আচরণগত। আবেগীয় উপাদান বলতে কোনো উদ্দীপক বা বিষয়ের প্রতি ব্যক্তির অনুভূত অনুভূতি, সংবেদনশীলতা, সহানুভূতি বা কষ্টবোধকে বোঝায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, নাহিন প্রতিদিন খবর দেখে এবং শুনে রোহিঙ্গাদের দুঃখ-দুর্দশা সম্পর্কে অবহিত হয়। রোহিঙ্গাদের এই মানবেতর অবস্থা তাকে মানসিকভাবে খুব কষ্ট দেয় এবং তাদের সাহায্য করার অনুভূতি তার মনে জাগ্রত হয়। এই কষ্ট ও সহানুভূতির অনুভূতি মনোভাবের আবেগীয় দিকের প্রকাশ ঘটায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মতিন সাহেবের মানসিকতাকে মনোবিজ্ঞানের ভাষায় 'পূর্বসংস্কার' (Prejudice) বলে।
পূর্বসংস্কারের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ:
১. যুক্তিহীনতা ও অনমনীয়তা: পূর্বসংস্কার বাস্তব তথ্য বা যুক্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়, বরং কোনো বস্তু বা দল সম্পর্কে পূর্বনির্ধারিত একটি ধারণা যা সহজে পরিবর্তন করা যায় না। উদ্দীপকে মতিন সাহেব যথার্থ বিবেচনা ছাড়াই যুক্তিহীন মনোভাব পোষণ করেন।
২. নেতিবাচক ও বিদ্বেষমূলক মনোভাব: এটি সাধারণত কোনো ব্যক্তি বা শ্রেণির প্রতি একপেশে, প্রতিকূল ও ঘৃণাপূর্ণ অনুভূতির সৃষ্টি করে। যেমন—তিনি ভাবেন দরিদ্রদের লেখাপড়ার প্রয়োজন নেই।
৩. অতি-সাধারণীকরণ (Overgeneralization): একটি দলের সকল সদস্য সম্পর্কে কোনো প্রমাণ ছাড়াই একই রকম নেতিবাচক ধারণা পোষণ করা হয়।
৪. আবেগমূলক ভিত্তি: এটি বাস্তব যুক্তির চেয়ে অন্ধ বিশ্বাস ও ক্ষতিকর আবেগের ওপর বেশি নির্ভর করে।অতএব, কোনো বাছবিচার ছাড়াই নির্দিষ্ট একটি দলের প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ ও বৈষম্যমূলক বিশ্বাস পোষণ করায় মতিন সাহেবের মানসিকতা নিশ্চিতভাবেই পূর্বসংস্কারের পরিচায়ক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও