কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • ভূমি সম্পৃক্ত কৃষি প্রযুক্তি • Combined Board • চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
মাটির বুনট কী?
- খ)(2)
জৈব পদার্থকে মাটির প্রাণ বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে 'B' মাটি সব ফসলের জন্য উপযোগী- ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' চিহ্নিত মাটি কীভাবে সংশোধন করবে? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মাটির একক কণার (বালি, পলি ও কাদা) পারস্পরিক তুলনামূলক অনুপাতকে মাটির বুনট (Soil Texture) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জৈব পদার্থ মাটির ভৌত, রাসায়নিক ও জৈবিক গুণাবলি উন্নত করে এবং উদ্ভিদের পুষ্টি উপাদানের প্রধান ভাণ্ডার হিসেবে কাজ করে। এটি মাটির পানি ও বায়ু ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করে, গঠন উন্নত করে এবং মাটিতে উপকারী অণুজীবের কার্যাবলি সচল রাখে। জৈব পদার্থবিহীন মাটি প্রায় অনুর্বর ও প্রাণহীন হয়ে পড়ে বলে জৈব পদার্থকে মাটির 'প্রাণ' বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ছক অনুযায়ী pH মান অনুসারে মাটিকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে: অম্লীয় মাটি (A), নিরপেক্ষ মাটি (B) এবং ক্ষারীয় মাটি (C)। সুতরাং, উদ্দীপকে 'B' চিহ্নিত মাটি হলো নিরপেক্ষ মাটি (Neutral Soil)।
নিরপেক্ষ মাটির pH মান সাধারণত ৬.৫ থেকে ৭.৫ (বা প্রায় ৭.০) এর মধ্যে থাকে। এই pH মাত্রায় উদ্ভিদের জন্য প্রয়োজনীয় মুখ্য ও গৌণ পুষ্টি উপাদানগুলোর (যেমন- নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ইত্যাদি) সহজলভ্যতা সর্বাধিক থাকে। এছাড়া, মাটিতে বসবাসকারী উপকারী অণুজীবসমূহ এ মাত্রায় সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থেকে পুষ্টি উপাদান মুক্ত করতে পারে। অম্লীয় বা ক্ষারীয় চরম পরিবেশে পুষ্টি উপাদানের সহজলভ্যতা বাধাগ্রস্ত হয় বা উদ্ভিদের জন্য ক্ষতিকর বিষাক্ততার সৃষ্টি হয়, কিন্তু নিরপেক্ষ মাটিতে এ ধরনের কোনো সমস্যা থাকে না। এ কারণে নিরপেক্ষ মাটি প্রায় সব ধরনের ফসল চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' চিহ্নিত মাটি হলো অম্লীয় মাটি (Acidic Soil), যার pH মান সাধারণত ৭.০ এর চেয়ে কম থাকে।
অম্লীয় মাটির অম্লত্ব দূর করে এর উর্বরতা বৃদ্ধি ও ফসল উৎপাদনের উপযোগী করার প্রক্রিয়াকে মাটি সংশোধন বলা হয়। অম্লীয় মাটি সংশোধনের প্রধান উপায়গুলো নিম্নরূপ:
১. চুন প্রয়োগ: অম্লীয় মাটি সংশোধনের সবচেয়ে কার্যকর ও সাধারণ উপায় হলো চুন (যেমন- কৃষি চুন বা ক্যালসিয়াম কার্বনেট, পোড়া চুন, কলিচুন বা ডলোমাইট) প্রয়োগ করা। চুন মাটির অম্লীয় হাইড্রোজেন ও অ্যালুমিনিয়াম আয়নকে প্রতিস্থাপিত করে মাটির pH বৃদ্ধি করে এবং মাটিকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনে।
২. জৈব সার ব্যবহার: জমিতে নিয়মিত প্রচুর পরিমাণে গোবর, কম্পোস্ট, সবুজ সার ইত্যাদি জৈব সার প্রয়োগ করলে মাটির বাফারিং ক্ষমতা বা প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং অম্লত্ব প্রশমিত হয়।
৩. ক্ষারীয় সার প্রয়োগ: অম্লজাতীয় সার (যেমন- অ্যামোনিয়াম সালফেট) ব্যবহার পরিহার করে ক্ষারীয় বা নিরপেক্ষ সার (যেমন- ইউরিয়া, ট্রিপল সুপার ফসফেট, ক্যালসিয়াম নাইট্রেট) পরিমিত মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে।
৪. কাঠ বা ছাই প্রয়োগ: কাঠের ছাইয়ে প্রচুর পরিমাণে ক্ষারীয় উপাদান থাকে, যা মাটিতে প্রয়োগ করলে তা মাটির অম্লত্ব হ্রাস করতে সহায়তা করে।
৫. সঠিক নিষ্কাশন ব্যবস্থা: অতিরিক্ত জলাবদ্ধতা মাটির অম্লত্ব বৃদ্ধি করতে পারে; তাই উন্নত নিকাশ ব্যবস্থার মাধ্যমে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন করা আবশ্যক।
অতএব, উল্লেখিত বৈজ্ঞানিক ও কার্যকর পদক্ষেপগুলো গ্রহণের মাধ্যমে 'A' চিহ্নিত অম্লীয় মাটি সংশোধন করে পুনরায় উর্বর ও ফসল উৎপাদনের জন্য উপযোগী করে তোলা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও