পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • মূল্যবোধ, আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য • আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা • আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
নির্বাচনের 'ক' প্রার্থী বিশাল জনসভায় বলেন, 'সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হবে। আপনাদের ভোটেই নির্ধারিত হবে আমি জয়ী হব না পরাজিত হব। জয়-পরাজয় যাই হোক তা আমি মেনে নেব। এমনকি বিরোধী দলের যৌক্তিক পরামর্শ আমি গ্রহণ করতে প্রস্তুত। সংবিধানের ভিত্তিতে সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠাই আমার লক্ষ্য'।
- ক)(1)
মানবাধিকার কী?
- খ)(2)
মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকারের মধ্যে দুটি পার্থক্য লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' কোন মূল্যবোধে উজ্জীবিত? 'বিষয়টির বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়টির সাথে সুশাসনের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়-বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ নির্বিশেষে মানুষের জন্মগত ও মর্যাদাপূর্ণভাবে বেঁচে থাকার জন্য যেসব মৌলিক সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজন, তাকে মানবাধিকার বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মৌলিক অধিকার ও মানবাধিকারের মধ্যে দুটি প্রধান পার্থক্য হলো:
১. পরিধিগত পার্থক্য: মানবাধিকার বিশ্বজনীন এবং সকল মানুষের জন্য প্রযোজ্য, পক্ষান্তরে মৌলিক অধিকার রাষ্ট্রের সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত ও নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের জন্য বলবৎ।
২. আইনগত প্রয়োগযোগ্যতা: মৌলিক অধিকার সংবিধানে সন্নিবেশিত থাকায় তা আদালতের মাধ্যমে সরাসরি বলবৎযোগ্য; কিন্তু সকল মানবাধিকার সবসময় রাষ্ট্রীয় আদালত কর্তৃক সরাসরি বলবৎযোগ্য নাও হতে পারে। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' প্রার্থী 'গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ'-এ উজ্জীবিত।
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ:
১. পরমতসহিষ্ণুতা: অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা এবং ভিন্নমতকে গুরুত্ব দেওয়া।
২. সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের প্রতি শ্রদ্ধা ও সংখ্যালঘুর অধিকার রক্ষা: সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্তে রাষ্ট্র পরিচালিত হলেও বিরোধীদের যৌক্তিক দাবিকে গুরুত্ব দেওয়া।
৩. আইনের প্রতি আনুগত্য: সংবিধান ও আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা।
৪. জয়-পরাজয় মেনে নেওয়ার মানসিকতা: অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ফলাফলকে সানন্দে গ্রহণ করা।
উদ্দীপকের 'ক' প্রার্থী সংখ্যাগরিষ্ঠের রায় মেনে নেওয়া এবং বিরোধীদের যৌক্তিক পরামর্শ গ্রহণের অঙ্গীকার করে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়টির (গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ) সাথে সুশাসনের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়—উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ।
সুশাসন প্রতিষ্ঠার পূর্বশর্তই হলো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমাজে পরমতসহিষ্ণুতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা তৈরি করে। যখন কোনো সমাজে বা রাজনৈতিক নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বিরাজ করে, তখন শাসকগোষ্ঠী সংবিধান মেনে চলে এবং জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকে।
উদ্দীপকে দেখা যায় প্রার্থী 'ক' সংবিধানের ভিত্তিতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন এবং বিরোধীদের মতামত গ্রহণের সদিচ্ছা দেখান। বিরোধীদের মতামতের মূল্যায়ন ও সংবিধানের শাসন সুশাসনের মূল ভিত্তি। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ছাড়া রাষ্ট্রে আইনের শাসন, সাম্য ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়; আর এগুলোর অনুপস্থিতিতে সুশাসন অর্জন অসম্ভব। অতএব, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সুশাসন একে অপরের পরিপূরক ও অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও