ভূগোল ১ম পত্র • জলবায়ুর উপাদান ও নিয়ামক • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর বোর্ড ২০২৩
ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
জলবায়ু অঞ্চল কাকে বলে?
- খ)(2)
বায়ুরচাপের পার্থক্যই বায়ুপ্রবাহের কারণ- ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে 'ক' চিহ্নিত বায়ুচাপ বলয়ের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে 'খ' ও 'গ' চিহ্নিত চাপ বলয়ের বৈশিষ্ট্যের তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জলবায়ুর বিভিন্ন উপাদানের (যেমন—উষ্ণতা, আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাত ইত্যাদি) বৈশিষ্ট্যের সমতার ভিত্তিতে সমগ্র পৃথিবীকে বা কোনো বিস্তীর্ণ ভূখণ্ডকে যে নির্দিষ্ট ভৌগোলিক ভাগে বিভক্ত করা হয়, তাকে জলবায়ু অঞ্চল বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ভূপৃষ্ঠের বিভিন্ন স্থানে তাপমাত্রার তারতম্য ও পৃথিবীর আবর্তন গতির কারণে বায়ুমণ্ডলের চাপের পার্থক্য সৃষ্টি হয়। কোনো স্থানে তাপমাত্রা বেশি হলে বায়ু উষ্ণ ও হালকা হয়ে ওপরে উঠে যায়, ফলে সেখানে নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়; আবার তাপমাত্রা কম হলে বায়ু ভারী ও শীতল হয়ে উচ্চচাপ সৃষ্টি করে। বায়ুর ধর্মই হলো চাপ সমতায় রাখার জন্য উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে ছুটে চলা। সুতরাং, এই চাপের পার্থক্যের ফলেই মূলত ভূপৃষ্ঠে বায়ুপ্রবাহের উৎপত্তি ঘটে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'ক' চিহ্নিত অঞ্চলটি ০° থেকে ১০° অক্ষাংশে অবস্থিত, যা হলো 'নিরক্ষীয় নিম্নচাপ বলয়'।
এই চাপ বলয়ের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ:
১. লম্বভাবে সূর্যকিরণ: নিরক্ষরেখার উভয় পাশে সারা বছর সূর্য প্রায় লম্বভাবে কিরণ দেওয়ায় এখানকার বায়ু সর্বদা অত্যন্ত উষ্ণ ও হালকা থাকে।
২. জলভাগের আধিক্য ও জলীয় বাষ্প: এ অঞ্চলে স্থলভাগের তুলনায় জলভাগের পরিমাণ বেশি হওয়ায় বায়ুতে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প থাকে। শুষ্ক বায়ুর চেয়ে আর্দ্র বায়ু হালকা হওয়ায় তা নিম্নচাপ তৈরি করে।
৩. বায়ুর ঊর্ধ্বগমন ও শান্ত অবস্থা: উষ্ণ ও হালকা আর্দ্র বায়ু শীতল বায়ুর চাপে ওপরে উঠে যায়। ফলে ভূপৃষ্ঠের সমান্তরালে কোনো বায়ু চলাচল করে না এবং অঞ্চলটি প্রায় শান্ত থাকে। এজন্য একে 'নিরক্ষীয় শান্ত বলয়' (Doldrums) বলা হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'খ' চিহ্নিত চাপ বলয়টি ২৫°–৩৫° অক্ষাংশে অবস্থিত 'কর্কটীয় বা ক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয়' এবং 'গ' চিহ্নিত চাপ বলয়টি ৬০°–৬৫° অক্ষাংশে অবস্থিত 'উপমেরুদেশীয় নিম্নচাপ বলয়'।
নিচে এদের তুলনামূলক বৈশিষ্ট্যসমূহ বিশ্লেষণ করা হলো:
১. চাপের প্রকৃতি: 'খ' বলয়টি উচ্চচাপ বলয়, যেখানে বায়ুর ঘনত্ব বেশি এবং নিম্নমুখী প্রবাহ ঘটে। পক্ষান্তরে, 'গ' বলয়টি নিম্নচাপ বলয়, যেখানে বায়ুর ঘনত্ব কম এবং ঊর্ধ্বমুখী প্রবাহ ঘটে।
২. তাপমাত্রা ও সৃষ্টির কারণ: 'খ' অঞ্চলে নিরক্ষীয় অঞ্চল থেকে উঠে আসা উষ্ণ বায়ু শীতল ও ভারী হয়ে ২৫°–৩৫° অক্ষাংশে নিচে নেমে এসে উচ্চচাপের সৃষ্টি করে। অন্যদিকে, 'গ' অঞ্চলে মেরু অঞ্চলের তুলনায় তাপমাত্রা কিছুটা বেশি থাকা এবং পৃথিবীর আবর্তন জনিত কেন্দ্রাতিগ (অপকেন্দ্র) শক্তির কারণে বায়ু বাইরে নিক্ষিপ্ত হয়ে নিম্নচাপ বলয় গড়ে তোলে।
৩. বায়ুর গতি প্রকৃতি: 'খ' অঞ্চলটি একটি শান্ত বলয় (অশ্ব অক্ষাংশ হিসেবে পরিচিত), যেখানে বায়ুর উল্লম্ব নিম্নগমন ঘটে কিন্তু অনুভূমিক প্রবাহ তেমন থাকে না। অপরদিকে, 'গ' অঞ্চলে উপক্রান্তীয় উচ্চচাপ থেকে আসা পশ্চিমা বায়ু ও মেরুদেশীয় উচ্চচাপ থেকে আসা মেরু বায়ুর সংঘর্ষের ফলে প্রবল আলোড়ন ও ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি হয়।
৪. জলবায়ুগত প্রভাব: 'খ' উচ্চচাপ বলয়ে মেঘ ও বৃষ্টিপাত খুব কম হওয়ায় বিশ্বের অধিকাংশ উষ্ণ মরুভূমি এই অঞ্চলে অবস্থিত। বিপরীতভাবে, 'গ' অঞ্চলে নিম্নচাপের দরুন প্রচুর মেঘ, বৃষ্টিপাত ও তুষারপাত হয়।সুতরাং, অবস্থান, বায়ুপ্রবাহের প্রকৃতি এবং আবহাওয়াগত প্রভাবের দিক থেকে উদ্দীপকের 'খ' ও 'গ' চাপ বলয়ের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও