ভূগোল ১ম পত্র • পৃথিবীর গঠন • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর বোর্ড ২০২৩
ভূগোল ১ম পত্র প্রশ্ন
বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ভূ-বিজ্ঞানীরা এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, ভূপৃষ্ঠ থেকে কেন্দ্রের দিকে পৃথিবীর তাপ, চাপ এবং গঠন উপাদানের ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়। এসব তথ্য পর্যালোচনার মাধ্যমে তাঁরা পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত অঞ্চলকে তিনটি মণ্ডলে ভাগ করেন। যথা: (i) ক মণ্ডল (ii) খ মণ্ডল (iii) গ মণ্ডল।
- ক)(1)
সমভূমির সংজ্ঞা দাও।
- খ)(2)
পর্বত সৃষ্টির প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে গ মণ্ডলটির বৈশিষ্ট্যসমূহ ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
ক ও খ মণ্ডলের তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমুদ্রপৃষ্ঠের সমউচ্চতায় বা সামান্য উঁচুতে অবস্থিত সুদূরবিস্তৃত মৃদু ঢালবিশিষ্ট সমতল ভূমিকে সমভূমি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পর্বত প্রধানত ভূ-অভ্যন্তরের প্রচণ্ড চাপ, তাপ ও বিভিন্ন ভূ-গাঠনিক সঞ্চালনের ফলে সৃষ্টি হয়। টেকটোনিক পাতের সংঘর্ষ ও সঞ্চালনের ফলে শিলাস্তরে প্রবল পার্শ্বচাপের সৃষ্টি হলে সেখানে ভাঁজের সৃষ্টি হয়ে ভঙ্গিল পর্বত গঠিত হয়। এছাড়া ভূ-অভ্যন্তরের গলিত ম্যাগমা প্রবল চাপে ভূপৃষ্ঠের দুর্বল ফাটল দিয়ে বাইরে এসে স্তরে স্তরে সঞ্চিত হয়ে আগ্নেয় পর্বত গঠন করে। আবার ভূ-আলোড়নের সময় শিলাস্তরে ফাটল সৃষ্টি হয়ে চ্যুতি বরাবর কোনো অংশ উপরে উঠে বা বসে গিয়ে চ্যুতি-স্তূপ পর্বত গঠিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ক্রমানুসারে 'গ মণ্ডল' হলো পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা অভ্যন্তরীণ স্তর বা কেন্দ্রমণ্ডল (Core)। কেন্দ্রমণ্ডলের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ:
১. অবস্থান ও বিস্তার: গুরুমণ্ডলের নিচে পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত প্রায় ৩,৪৮৬ কিলোমিটার পুরু স্তর নিয়ে কেন্দ্রমণ্ডল বিস্তৃত।
২. উপবিভাগ: কেন্দ্রমণ্ডলটি দুটি অংশে বিভক্ত— প্রায় ২,২Entire৭০ কিমি পুরু বহিকেন্দ্রমণ্ডল এবং প্রায় ১,২Entire১৬ কিমি ব্যাসার্ধের অন্তকেন্দ্রমণ্ডল।
৩. গঠন উপাদান: এ মণ্ডলটি মূলত নিকেল (Ni) ও লোহা (Fe) দ্বারা গঠিত। এজন্য ভূ-বিজ্ঞানীরা একে সংক্ষেপে 'নাইফ' (Nife) নামে অভিহিত করেন। এতে পারদ ও সীসাও কিছু পরিমাণে রয়েছে।
৪. ঘনত্ব, তাপমাত্রা ও চাপ: কেন্দ্রমণ্ডলের গড় ঘনত্ব প্রায় ১০ থেকে ১২ গ্রাম/ঘনসেমি এবং এর তাপমাত্রা ভূ-অভ্যন্তরের অন্যান্য স্তরের তুলনায় সর্বাধিক (প্রায় ৩০০০° থেকে ৫০০০° সে.)।
৫. অবস্থা: প্রচণ্ড চাপ ও তাপের কারণে বহিকেন্দ্রমণ্ডল তরল অবস্থায় এবং অন্তকেন্দ্রমণ্ডল অত্যন্ত কঠিন অবস্থায় রয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'ক মণ্ডল' হলো অশ্মমণ্ডল বা ভূত্বক (Crust) এবং 'খ মণ্ডল' হলো এর নিচের গুরুমণ্ডল (Mantle)। নিচে এ দুটি মণ্ডলের তুলনামূলক বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো:
১. অবস্থান ও বিস্তার: পৃথিবীর সর্ববহিঃস্থ পাতলা কঠিন আবরণ হলো ক মণ্ডল (ভূত্বক), যার গড় পুরুত্ব প্রায় ১৬ থেকে ২০ কিমি (মহাদেশীয় অংশে ৩৫ কিমি ও মহাসাগরীয় অংশে ৫ কিমি)। পক্ষান্তরে, ভূত্বকের নিচ থেকে কেন্দ্রমণ্ডলের উপরিভাগ পর্যন্ত প্রায় ২,৮৮৫ কিলোমিটার পুরু স্তর হলো খ মণ্ডল (গুরুমণ্ডল)।
২. উপাদানগত বৈসাদৃশ্য: ক মণ্ডল মূলত সিলিকন ও অ্যালুমিনিয়াম (সিয়াল) এবং সিলিকন ও ম্যাগনেসিয়াম (সিমা) দ্বারা গঠিত। অপরদিকে, খ মণ্ডল ব্যাসল্ট ও ডলোমাইট জাতীয় ভারী শিলা এবং লোহা ও ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ সিলিকেট খনিজ দ্বারা গঠিত।
৩. উপবিভাগ: ভূত্বক মহাদেশীয় ও মহাসাগরীয় ভূত্বকে বিভক্ত। অন্যদিকে, গুরুমণ্ডল ঊর্ধ্ব গুরুমণ্ডল (প্রায় ৭০০ কিমি) এবং নিম্ন গুরুমণ্ডলে (প্রায় ২,১৮৫ কিমি) বিভক্ত।
৪. তাপমাত্রা ও চাপ: ক মণ্ডলের গড় তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে কম। কিন্তু খ মণ্ডলের গভীরে তাপমাত্রা ও চাপ বহুগুণ বেশি (উচ্চ তাপমাত্রায় পদার্থগুলো অর্ধ-গলিত বা নমনীয় অবস্থায় থাকে)।
৫. গুরুত্ব: ক মণ্ডলের উপরিভাগে জীবজগৎ বসবাস করে ও মাটি গঠিত হয়; আর খ মণ্ডলের পরিচলন স্রোত পাতের সঞ্চালন ও ভূমিকম্প-আগ্নেয়গিরির মূল কারণ।
সুতরাং, গঠন, ঘনত্ব, পুরুত্ব ও তাপমাত্রাগত বৈশিষ্ট্যে ক ও খ মণ্ডলের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও