‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • সরকার কাঠামো ও সরকারের অঙ্গসমূহ • বিএএফ শাহীন কলেজ • বিএএফ শাহীন কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৪

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন

সরকার- A. আইন বিভাগ- B. শাসন বিভাগ, C. বিচার বিভাগ।

  1. ক)

    প্রজাতন্ত্র কী?

    (1)
  2. খ)

    দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের-A এর ক্ষমতা ও কার্যাবলি বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের C এর স্বাধীনতা রক্ষার উপায়গুলো বর্ণনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রপ্রধান বংশানুক্রমিকভাবে মনোনীত না হয়ে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জনগণের দ্বারা নির্বাচিত হন, তাকে প্রজাতন্ত্র বলা হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা বলতে এমন একটি আইনসভাকে বোঝায় যা দুটি স্বতন্ত্র পরিষদ বা কক্ষ নিয়ে গঠিত—উচ্চকক্ষ (Upper House) ও নিম্নকক্ষ (Lower House)। যেমন—যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট (হাউস অব লর্ডস ও হাউস অব কমন্স) এবং ভারতের সংসদ (রাজ্যসভা ও লোকসভা)। এই ধরনের ব্যবস্থায় যেকোনো বিল পাস করতে উভয় কক্ষের অনুমোদন ও পর্যালোচনার প্রয়োজন হয়, যা হঠকারী আইন প্রণয়ন রোধে সহায়ক।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'A' নির্দেশ করছে সরকারের 'আইন বিভাগ'। আইন বিভাগ সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। নিম্নে এর ক্ষমতা ও কার্যাবলি আলোচনা করা হলো:

    ১. আইন প্রণয়ন ও সংশোধন: আইন বিভাগের প্রধান কাজ হলো দেশের জন্য নতুন আইন প্রণয়ন করা, পুরনো আইনের সংশোধন করা এবং অকার্যকর আইন বাতিল করা।

    ২. অর্থ সংক্রান্ত ক্ষমতা: জাতীয় বাজেট পাস, কর ধার্য, ঋণ গ্রহণ অনুমোদন এবং জাতীয় তহবিলের নিয়ন্ত্রণ আইনসভার মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়। আইনসভার সম্মতি ছাড়া কোনো কর আরোপ বা ব্যয় করা যায় না।

    ৩. শাসন বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ: মন্ত্রীপরিষদ শাসিত ব্যবস্থায় আইনসভা প্রশ্ন-উত্তর, মুলতবি প্রস্তাব, নিন্দা প্রস্তাব ও অনাস্থা প্রস্তাবের মাধ্যমে শাসন বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহিতার আওতায় রাখে।

    ৪. বিচার সংক্রান্ত কাজ: কিছু কিছু দেশে আইনসভা সর্বোচ্চ আদালত হিসেবেও কাজ করে (যেমন ব্রিটেনের উচ্চকক্ষ)। এছাড়া রাষ্ট্রপ্রধান বা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ বা অভিশংসন (Impeachment) সংক্রান্ত বিচার প্রক্রিয়া আইনসভাতেই পরিচালিত হয়।

    ৫. সংবিধান সংশোধন: দেশের মৌলিক দলিল সংবিধান পরিবর্তন ও সংশোধনের দায়িত্ব প্রধানত আইন বিভাগের ওপরই ন্যস্ত থাকে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের 'C' নির্দেশ করছে 'বিচার বিভাগ'। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অত্যন্ত জরুরি। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষার প্রধান উপায়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

    ১. নিরপেক্ষ বিচারক নিয়োগ: বিচারক নিয়োগে রাজনৈতিক বিবেচনা বাদ দিয়ে মেধা, সততা, দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিরপেক্ষ কমিশন বা স্বচ্ছ পদ্ধতির মাধ্যমে বিচারক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

    ২. চাকুরির সুনির্দিষ্ট মেয়াদ ও নিরাপত্তা: বিচারকদের কাজের নিরাপত্তা দিতে হবে। সাধারণ কারণে পদচ্যুত না করে সংবিধানে বর্ণিত সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল বা সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে সহজে বিচারক অপসারণ রোধ করতে হবে।

    ৩. উপযুক্ত বেতন ও সুবিধাদি: বিচারকদের যাতে কোনো প্রকার আর্থিক প্রলোভন স্পর্শ করতে না পারে, সেজন্য তাদের পর্যাপ্ত বেতন-ভাতা ও সম্মানজনক সুযোগ-সুবিধা দেওয়া প্রয়োজন এবং চাকুরিরত অবস্থায় তাদের ক্ষতি হতে পারে এমন পরিবর্তন না করা।

    ৪. শাসন বিভাগ থেকে পৃথকীকরণ: সংবিধান অনুযায়ী বিচার বিভাগকে আইন ও শাসন বিভাগের প্রভাব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ও স্বাধীন রাখা অপরিহার্য। বিচারিক কাজে অন্য কোনো বিভাগের হস্তক্ষেপ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে।

    ৫. আদালত অবমাননার ক্ষমতা: বিচার বিভাগের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আদালত অবমাননার নিজস্ব ক্ষমতা বিচারকদের হাতে থাকা উচিত।

    সুতরাং, উপযুক্ত বিষয়গুলো নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল বিচার বিভাগের কার্যকর স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখা সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন