পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • মূল্যবোধ, আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য • ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, যশোর • ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, যশোর টেস্ট পরীক্ষা ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
জনাব সফিক একজন সমাজকর্মী। তিনি এমন একটি সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করছেন যেখানে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, বংশ নির্বিশেষে কোনো পার্থক্য থাকবে না। সকলেই সমান সুযোগ-সুবিধা পেয়ে ব্যক্তিসত্তার বিকাশ ঘটাতে পারবেন। অপরদিকে, জনাব 'রহিম' একজন শিক্ষক। তিনি শিক্ষার্থীদের সৎ, সহনশীল ও অন্যদের প্রতি। 'শ্রদ্ধাশীল হওয়ার শিক্ষা দেন, যাতে ব্যক্তি জীবনে তারা ভালো মানুষ হিসেবে সমাজে ভূমিকা রাখতে পারে।
- ক)(1)
আইনের ইংরেজি প্রতিশব্দ লেখ।
- খ)(2)
স্বাধীনতা কাকে বলে?
- গ)(3)
জনাব সফিক সমাজে কী প্রতিষ্ঠায় কাজ করছেন? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে জনাব 'রহিম' যে বিষয়টি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দিচ্ছেন সেটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আইনের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো 'Law' (ল)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাধারণ অর্থে স্বাধীনতা বলতে মানুষের ইচ্ছামতো যেকোনো কিছু করার ক্ষমতাকে বোঝায়। কিন্তু পৌরনীতিতে স্বাধীনতা বলতে অন্যের স্বাধীনতায় বা অধিকারে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ না করে নিজের ব্যক্তিত্ব বিকাশের উপযোগী পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার অধিকারকে বোঝায়। অধ্যাপক লাস্কির মতে, স্বাধীনতা হলো সেই পরিবেশের সংরক্ষণ যেখানে মানুষ তার ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশ ঘটাতে পারে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের জনাব সফিক সমাজে 'সাম্য' (Equality) প্রতিষ্ঠায় কাজ করছেন।
পৌরনীতিতে সাম্য বলতে এমন একটি সামাজিক অবস্থাকে বোঝায় যেখানে কোনো বিশেষ সুযোগ-সুবিধা থাকবে না এবং জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ নির্বিশেষে সকল নাগরিককে আত্মবিকাশের সমান সুযোগ দেওয়া হবে। সাম্য বৈষম্য দূর করে সমাজের প্রতিটি সদস্যের মানবিক মর্যাদার স্বীকৃতি দেয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সমাজকর্মী জনাব সফিক এমন একটি সমাজ গড়তে চাচ্ছেন যেখানে জাতি, ধর্ম, বর্ণ বা বংশের ভিত্তিতে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না এবং সকলেই সমান সুযোগ-সুবিধা পেয়ে তাদের ব্যক্তিসত্তার বিকাশ ঘটাতে পারবে। সাম্যের মূল ধারণাই হলো কোনো প্রকার বৈষম্য ছাড়া সবার জন্য সমান সুযোগের নিশ্চয়তা বিধান করা। অতএব, তিনি সমাজে মূলত সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠায় কাজ করছেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জনাব 'রহিম' শিক্ষার্থীদের 'নৈতিকতা ও মূল্যবোধ' শিক্ষা দিচ্ছেন।
নৈতিকতা হলো মানুষের অন্তরের এমন এক বিবেকপ্রসূত ধারণা যা সৎ ও অসৎ, ভালো ও মন্দের পার্থক্য নির্দেশ করে। মূল্যবোধ হলো সমাজে প্রচলিত সেসব বিশ্বাস, আদর্শ ও মানদণ্ড যা মানুষের আচার-আচরণকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালিত করে। সততা, পরমতসহিষ্ণুতা, অন্যের প্রতি শ্রদ্ধা ও সহানুভূতিশীল আচরণ হলো উচ্চমানের নৈতিক গুণাবলি ও সামাজিক মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ।
উদ্দীপকে শিক্ষক জনাব রহিম তার শিক্ষার্থীদের সৎ, সহনশীল এবং অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শিক্ষা দিচ্ছেন। এই গুণগুলো নাগরিককে খাঁটি ও ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। সমাজে শৃঙ্খলা ও শান্তি বজায় রাখতে আইনের চেয়েও নৈতিকতার প্রভাব অনেক গভীর; কারণ আইন বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া হয়, কিন্তু নৈতিকতা অন্তর থেকে জন্ম নেয়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই নৈতিক গুণাবলি বিকশিত হলে তারা দুর্নীতিমুক্ত, দায়িত্বশীল ও মানবিক গুণসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে সমাজে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
সুতরাং, জনাব রহিম শিক্ষার্থীদের চরিত্র গঠন ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে নৈতিকতা ও সামাজিক মূল্যবোধের শিক্ষাই প্রদান করছেন, যা সুস্থ সমাজ বিনির্মাণে অত্যন্ত কার্যকর।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও