ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
ইসলাম শিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
আল্লাহ বলেছেন, “ওমা খালাকতুল জিন্না অলইনসা ইল্লা লিয়া বুদুন” আমি জিন ও মানুষকে শুধুমাত্র আমার ইবাদাতের জন্য সৃষ্টি করেছি। কতিপয় মানুষ আল্লাহর নির্দেশমতো দিনে পাঁচবার বিশেষ আমল সম্পাদন করে ।
- ক)(1)
‘সাওম' অর্থ কী?
- খ)(2)
যাকাতের নিসাব কী? লেখ ।
- গ)(3)
উদ্দীপকে কোন আমলের কথা বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকে উল্লিখিত ইবাদাত শৃঙ্খলা ও ভ্রাতৃত্ব শেখায়।”
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘সাওম’ শব্দের আভিধানিক অর্থ বিরত থাকা বা আত্মসংযম করা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শরিয়তের পরিভাষায়, যে পরিমাণ ধন-সম্পদ থাকলে কোনো মুসলমানের ওপর যাকাত প্রদান ফরজ হয়, তাকে যাকাতের ‘নিসাব’ বলা হয়।
সাধারণত নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটানোর পর সাড়ে সাত তোলা (৮৫ গ্রাম) স্বর্ণ অথবা সাড়ে বায়ান্ন তোলা (৫৯৫ গ্রাম) রৌপ্য কিংবা এর সমমূল্যের উদ্বৃত্ত সম্পদ এক বছর পূর্ণ মেয়াদে কারও মালিকানায় থাকলে তাকে যাকাত প্রদান করতে হয়। এটিই হলো যাকাতের নির্ধারিত নিসাব।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে দিনে পাঁচবার বিশেষ আমল সম্পাদনের কথা বলা হয়েছে, যা হলো ‘সালাত’ বা নামাজ।
সালাত ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। কুরআন মাজিদে আল্লাহ তাআলা মানুষকে শুধুমাত্র তাঁর ইবাদাতের উদ্দেশ্যে সৃষ্টির কথা ঘোষণা করেছেন এবং দিনে-রাতে পাঁচবার সালাত কায়েমের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। সালাত হলো বান্দা ও আল্লাহর মধ্যকার আত্মিক যোগাযোগের সর্বোত্তম মাধ্যম। নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী ফজর, জোহর, আসর, মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করা প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ বিবেকসম্পন্ন মুসলমানের ওপর ফরজ। উদ্দীপকে উল্লিখিত দিনে পাঁচবার সম্পাদিত বিশেষ আমলটি এই সালাতকেই নির্দেশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ইবাদাত হলো ‘সালাত’, যা মুমিনের জীবনে শৃঙ্খলা ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠায় অনন্য ভূমিকা পালন করে। নিচে উক্তিটি বিশ্লেষণ করা হলো:
১. শৃঙ্খলার শিক্ষা: সালাত নির্দিষ্ট সময়ে আদায় করতে হয়, যা মানুষকে সময়নিষ্ঠ ও নিয়মানুবর্তী হতে শেখায়। জামাতে নামাজ আদায়ের সময় সবাই সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে সুশৃঙ্খলভাবে ইমামের অনুকরণ করে, যা জীবনের সর্বক্ষেত্রে চরম শৃঙ্খলার বহিঃপ্রকাশ ঘটায়।
২. ভ্রাতৃত্ববোধের শিক্ষা: জামাতে সালাত আদায়কালে সমাজের ধনী-দরিদ্র, রাজা-প্রজা, সাদা-কালো ভেদাভেদ ভুলে একই কাতারে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে মহান আল্লাহর সামনে সিজদাবনত হয়। এতে করে সামাজিক বৈষম্য দূর হয়, পারস্পরিক ভালোবাসা বৃদ্ধি পায় এবং মুসলমানদের মাঝে এক অনন্য ভ্রাতৃত্ববোধের সৃষ্টি হয়।
সুতরাং বলা যায়, সালাত শুধু একটি আনুষ্ঠানিক উপাসনা নয়, বরং এটি ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে শৃঙ্খলা ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠার এক অনন্য মাধ্যম।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও