ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • খুলাফায়ে রাশেদিন (৬৩২-৬৬১ খ্রি.) • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন
ব্রিটিশ পার্লামেন্টকে গণতন্ত্রের সূতিকাগার বলা হয়। ব্রিটিশ আইনসভা ঘ্নিকক্ষ বিশিষ্ট। উচ্চ কক্ষের নাম হাউস অব কমন্স ও নিম্ন কক্ষের নাম হাউস অব লর্ডস। মূলত, হাউস অব কমন্সে নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ ঐক্যমতের ভিত্তিতে দেশ পরিচালনার যাবতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। অপরদিকে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে গঠিত হাউস অব লর্ডসের সদস্যগণ দেশের সার্বিক বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করে সুচিন্তিত মতামত প্রদান করেন।
- ক)(1)
আতিক শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
'যুন্নুরাইন' বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত আইন সভার সাথে তোমার পঠিত খলিফা প্রবর্তিত পরিষদের তুলনা করো।
- ঘ)(4)
ইসলামি খিলাফত পরিচালনায় উদ্দীপকের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিষদের ভূমিকা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'আতিক' শব্দের অর্থ পরম সুন্দর, মুক্ত বা স্বাধীন। হযরত আবু বকর (রা.)-এর সততা, সৌন্দর্য ও পাপমুক্ত জীবনের কারণে তাঁকে 'আতিক' উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'যুন্নুরাইন' একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ 'দুই জ্যোতির অধিকারী'। ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান (রা.) পর্যায়ক্রমে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দুই কন্যা হযরত রুকাইয়া (রা.) এবং হযরত উম্মে কুলসুম (রা.)-কে বিয়ে করেছিলেন। মহানবীর দুই মহিমান্বিত কন্যাকে বিয়ে করার এই অনন্য সৌভাগ্যের কারণেই তাঁকে 'যুন্নুরাইন' উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত ব্রিটিশ আইনসভার দ্বিকক্ষ ব্যবস্থার সাথে ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমর (রা.) প্রবর্তিত 'মজলিস-উশ-শুরা' বা পরামর্শ সভার তুলনা করা যায়।
হযরত উমর (রা.) রাষ্ট্রীয় শাসনকার্য সুচারুভাবে পরিচালনার জন্য পরামর্শ সভা বা মজলিস-উশ-শুরাকে দুটি ভাগে বিভক্ত করেছিলেন—
১. 'মজলিস-ই-আম' বা সাধারণ পরিষদ: এটি উদ্দীপকের নিম্নকক্ষ বা 'হাউস অব কমন্স'-এর অনুরূপ, যেখানে আনসার ও মুহাজিরদের মধ্য থেকে সাধারণ প্রতিনিধিরা উপস্থিত হয়ে রাষ্ট্রের বৃহত্তর ও সাধারণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন।
২. 'মজলিস-ই-খাস' বা উচ্চ পরিষদ: এটি উদ্দীপকের উচ্চকক্ষ বা 'হাউস অব লর্ডস'-এর অনুরূপ। এতে প্রবীণ, অভিজ্ঞ ও বিশিষ্ট সাহাবিগণ সদস্য ছিলেন এবং খলিফা রাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, নীতিনির্ধারণী ও জরুরি বিষয়ে তাঁদের সাথে পরামর্শ করতেন।অতএব, উদ্দীপকের দ্বি-স্তরবিশিষ্ট পরামর্শমূলক আইনসভার কাঠামোটি হযরত উমর (রা.)-এর মজলিস-উশ-শুরার মজলিস-ই-খাস ও মজলিস-ই-আম-এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ইসলামি খিলাফত পরিচালনায় উদ্দীপকের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিষদ অর্থাৎ খলিফা হযরত উমর (রা.) প্রবর্তিত 'মজলিস-উশ-শুরা'র ভূমিকা ছিল অপরিসীম ও কার্যকর গণতন্ত্রের প্রতীক।
ইসলামি শাসনব্যবস্থা কোনো স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা ছিল না; বরং তা পরিচালিত হতো পরামর্শের (শুরা) ভিত্তিতে। খলিফা হযরত উমর (রা.) স্বয়ং ঘোষণা করেছিলেন— 'পরামর্শ ব্যতীত কোনো খিলাফত চলতে পারে না।'
১. রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও যুদ্ধ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত মজলিস-ই-খাস-এ শীর্ষ সাহাবিদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে গৃহীত হতো।
২. রাজস্ব নির্ধারণ, ভূমি নীতি, নতুন বিজিত অঞ্চলের প্রশাসনিক রূপরেখা প্রণয়নের মতো মৌলিক সিদ্ধান্তে মজলিস-ই-আমের সাধারণ প্রতিনিধিদের মতামত নেওয়া হতো।
৩. এই পরিষদের মাধ্যমে খলিফার ওপর একটি সুষ্ঠু জবাবদিহিতা ও ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় থাকত। যেকোনো সাধারণ নাগরিকও খলিফাকে প্রশ্ন করার অধিকার পেতেন।সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত ব্রিটিশ পার্লামেন্টের মতোই খোলাফায়ে রাশেদীনের আমলে মজলিস-উশ-শুরা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, সুষ্ঠু শাসন পরিচালনা ও জনগণের অধিকার সুরক্ষায় কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছিল।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও