ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৯
ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
তালিব সাহেব দুই মেয়ে ও এক ছেলে রেখে মারা যান। তালিব সাহেরেব একমাত্র পুত্রসন্তান মনির। মনির পিতার রেখে যাওয়া সমস্ত সম্পদ একাই ভোগ করতে থাকে। কিছুদিন পর দুইবোন আবিদা ও জবেদা বাবার রেখে যাওয়া সম্পদের ভাগ চাইলে মনির তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। দু'বোন এলাকার চেয়ারম্যান ইসহাক সাহেবের কাছে অভিযোগ দেয়। চেয়ারম্যান সাহেব মনিরকে ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক বোনদের প্রাপ্য দেওয়ার নির্দেশ দেন। বাধ্য হয়ে মনির দু'বোনের প্রাপ্য সম্পদ তাদের বুঝিয়ে দেয়।
- ক)(1)
'গনিমত' শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
'নিশ্চয় আল্লাহ আদল প্রতিষ্ঠাকারীদের ভালোবাসেন।' -ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
মনিরের কর্মকাণ্ডটি শরিয়তের দৃষ্টিতে বিশ্লেষণ করো।
- ঘ)(4)
চেয়ারম্যান ইসহাক সাহেবের নির্দেশটি কি যথার্থ মনে করো? কুরআন ও হাদিসের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'গনিমত' (غنيمة) শব্দের অর্থ হলো যুদ্ধলব্ধ সম্পদ, অর্থাৎ কাফিরদের সাথে শরিয়তসম্মত যুদ্ধে বিজয়ের পর তাদের ফেলে যাওয়া বা অর্জিত সম্পদ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'আদল' শব্দের অর্থ ন্যায়পরায়ণতা, সুবিচার বা সমতা। আল্লাহ তায়ালা সকল ক্ষেত্রে ইনসাফ বা ন্যায়পরায়ণতা প্রতিষ্ঠা করার নির্দেশ দিয়েছেন।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয় আল্লাহ আদল প্রতিষ্ঠাকারীদের ভালোবাসেন" (সূরা আল-মায়িদাহ: ৪২)। আল্লাহ স্বয়ং পরম ন্যায়বিচারক এবং তিনি বান্দার ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে ইনসাফ কায়েম করা পছন্দ করেন। কারো প্রতি পক্ষপাতিত্ব বা জুলুম না করে প্রত্যেকের প্রাপ্য হক যথাযথভাবে আদায় করার মাধ্যমেই আদল প্রতিষ্ঠিত হয়, যা আল্লাহর সন্তুষ্টি ও ভালোবাসা লাভের অন্যতম মাধ্যম।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত মনিরের কর্মকাণ্ডটি শরিয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হারাম, কবিরা গুনাহ এবং মারাত্মক জুলুমের শামিল।
ইসলামি শরিয়তের উত্তরাধিকার আইনে (ইলমুল ফারায়িজ) পিতা-মাতা বা নিকটাত্মীয়ের সম্পত্তিতে পুরুষ ও নারী উভয়েরই সুস্পষ্ট অংশ নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। সূরা আন-নিসায় আল্লাহ তায়ালা স্পষ্টভাবে মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে বোনদের অংশ নির্ধারণ করেছেন এবং একে আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা (হুদুদুল্লাহ) ঘোষণা করেছেন। অন্যের হক জোরপূর্বক আত্মসাৎ করা মারাত্মক অপরাধ।
উদ্দীপকে মনির তার বাবার মৃত্যুর পর সমস্ত সম্পত্তি একা ভোগ করতে থাকে এবং বোনদের প্রাপ্য হিস্যা চাইলে খারাপ ব্যবহার করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। এটি উত্তরাধিকারীদের হক হরণ বা 'হাক্কুল ইবাদ' নষ্ট করার অপরাধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি অন্যের সম্পত্তি অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ করবে, কিয়ামতের দিন তাকে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। অতএব, মনিরের এই কাজ শরিয়তবিরোধী ও অত্যন্ত নিন্দনীয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হ্যাঁ, চেয়ারম্যান ইসহাক সাহেবের নির্দেশটি কুরআন ও হাদিসের আলোকে সম্পূর্ণ যথার্থ, সময়োপযোগী এবং ইনসাফপূর্ণ ছিল।
পবিত্র কুরআনের সূরা আন-নিসার ৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে: "পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে পুরুষদের অংশ আছে এবং পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনের পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে নারীদেরও অংশ আছে, তা কম হোক বা বেশি হোক—এ এক নির্ধারিত অংশ।" এছাড়া সূরা আন-নিসার ১১ নম্বর আয়াতে ভাই ও বোনের উত্তরাধিকার বণ্টনের সুস্পষ্ট নিয়ম নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। শরিয়তের বিধান অনুসারে, বোনদের হক নষ্ট করা আল্লাহর বিধান অমান্য করার শামিল।
উদ্দীপকে চেয়ারম্যান ইসহাক সাহেব একজন সুবিচারক হিসেবে ইসলামি বিধানের ভিত্তিতে মনিরকে তার বোনদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিতে বাধ্য করেছেন। এর ফলে সমাজে ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং দুর্বলরা তাদের প্রাপ্য হক ফিরে পেয়েছে। সৎ কাজের আদেশ ও অন্যায় প্রতিরোধ করা এবং মজলুমের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া শরিয়তের মূল উদ্দেশ্যের একটি। তাই চেয়ারম্যানের এই পদক্ষেপ কুরআনের অনুশাসন ও হাদিসের শিক্ষার সাথে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ ও যথাযথ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও