গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র • বাংলাদেশ নৌবাহিনী কলেজ, চট্টগ্রাম • বাংলাদেশ নৌবাহিনী কলেজ, চট্টগ্রাম টেস্ট পরীক্ষা ২০২৬

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

দৃশ্যকল্প-১ : "?" চিহ্নিত রোগের নাম ঘানা দেশীয় ভাষা থেকে শব্দটির উৎপত্তি। এর অর্থ বঞ্চিত শিশু।
দৃশ্যকল্প-২ : লেশমৌল -> P, লৌহ, তামা, দস্তা।

  1. ক)

    ডাই সাকারাইড কী?

    (1)
  2. খ)

    খাদ্য ও পুষ্টি শিক্ষার মাধ্যমে জনগণ কমদামে অধিক পুষ্টিকর খাদ্য শনাক্ত করতে পারে। -ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্যকল্প-১ -এ "?" চিহ্নিত রোগের লক্ষণ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যকল্প-২-এ P চিহ্নিত উপাদানের অভাবজনিত রোগের নাম উল্লেখপূর্বক এর প্রতিকার সম্পর্কে আলোচনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব কার্বোহাইড্রেট বা শর্করাকে আর্দ্র বিশ্লেষণ করলে দুটি মনোস্যাকারাইড অণু পাওয়া যায়, তাকে ডাইস্যাকারাইড বলে। যেমন— সুক্রোজ, ল্যাকটোজ, মল্টোজ।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    খাদ্য ও পুষ্টি শিক্ষার মাধ্যমে খাদ্য উপাদানের উৎস ও বিকল্প খাদ্য সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা যায়। অনেক সময় ব্যয়বহুল খাবারের চেয়ে তুলনামূলক কম মূল্যের খাবারে সমান বা অধিক পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান থাকে (যেমন— আপেলের চেয়ে পেয়ারায় বেশি ভিটামিন সি, কিংবা দামি মাছ-মাংসের বিকল্প হিসেবে ডিম বা ডাল)। খাদ্য ও পুষ্টি সম্পর্কিত সঠিক জ্ঞান থাকলে সাধারণ মানুষ সস্তা অথচ পুষ্টিকর খাদ্য নির্বাচন করে সীমিত আয়ের মধ্যেও সুষম খাদ্য নিশ্চিত করতে পারে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-১ এ '?' চিহ্নিত রোগটি হলো 'কোয়াশিওরকর' (Kwashiorkor)। এটি ঘানার এক আদিবাসী শব্দ, যার অর্থ 'বঞ্চিত শিশু' বা 'যে শিশু তার মায়ের দুধ থেকে বঞ্চিত হয়েছে'। এটি মূলত প্রোটিনের মারাত্মক ঘাটতিজনিত রোগ।

    কোয়াশিওরকর রোগের প্রধান লক্ষণসমূহ নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
    ১. শোথ বা ইডিমা (Edema): শিশুর হাত, পা ও মুখে পানি জমে ফুলে যায় (Moon face বা চাঁদের মতো গোল মুখ)।
    ২. বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া: শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি ও বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয় এবং ওজন হ্রাস পায়।
    ৩. ত্বক ও চুলের পরিবর্তন: ত্বক খসখসে, শুষ্ক ও আঁশের মতো হয়ে ফেটে যায় (Flaky paint dermatosis)। চুলের রঙ ফ্যাকাশে, লালচে বা তামাট বর্ণ ধারণ করে এবং চুল সহজেই ঝরে পড়ে।
    ৪. মানসিক পরিবর্তন: শিশু সবসময় খিটখিটে মেজাজের ও বিষণ্ণ থাকে, খাওয়া-দাওয়ায় তীব্র অরুচি দেখা দেয়।
    ৫. পেশিক্ষয়: মাংসপেশি শুকিয়ে যায় এবং যকৃতে চর্বি জমে পেট স্ফীত হয়ে ওঠে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যকল্প-২ এ উল্লিখিত লেশমৌলগুলোর (Trace minerals) মধ্যে P চিহ্নিত উপাদানটি হলো আয়োডিন (অন্যগুলো লৌহ, তামা ও দস্তা হওয়ায় লেশমৌলের প্রধান ঘাটতিজনিত মৌল হিসেবে P নির্দেশ করে আয়োডিনকে)। আয়োডিনের অভাবজনিত প্রধান রোগ হলো 'গলগণ্ড' (Goitre)। এছাড়াও শিশুদের ক্ষেত্রে এর অভাবে ক্রেটিনিজম বা বামনত্ব এবং মানসিক জড়বুদ্ধিতা দেখা দেয়।

    গলগণ্ড ও আয়োডিনের অভাবের প্রতিকার:
    ১. আয়োডিনযুক্ত খাদ্য গ্রহণ: খাদ্যতালিকায় সামুদ্রিক মাছ, সামুদ্রিক শৈবাল, মাছের তেল এবং উপকূলীয় অঞ্চলের খাদ্য উপাদান নিয়মিত অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
    ২. আয়োডিনযুক্ত লবণের ব্যবহার: সাধারণ লবণের পরিবর্তে সরকার অনুমোদিত পটাসিয়াম আয়োডেট সমৃদ্ধ আয়োডিনযুক্ত লবণ রান্না ও খাওয়ার কাজে ব্যবহার করতে হবে।
    ৩. রান্নায় সতর্কতা: আয়োডিন একটি উদ্বায়ী পদার্থ, তাই রান্নার শেষের দিকে লবণ দেওয়া বা রান্না শেষে মুখ বন্ধ পাত্রে রাখা উচিত।
    ৪. সচেতনতা বৃদ্ধি: বিশেষ করে পাহাড়ি বা চরাঞ্চলের জনগণকে আয়োডিনের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে হবে।
    ৫. চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন: রোগের তীব্রতা বেশি হলে বা থাইরয়েড গ্রন্থি অতিরিক্ত স্ফীত হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে থাইরক্সিন থেরাপি বা প্রয়োজনে অস্ত্রোপচার করাতে হবে।

    সুতরাং, আয়োডিনযুক্ত লবণ ও উপযুক্ত খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমেই এ রোগের সহজ প্রতিকার সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন