সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, সিলেট বোর্ড ২০১৭
সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
রবিন ছোটবেলা থেকেই শহরে বসবাস করছে। বাবার সাথে গ্রামে দাদার বাড়ি বেড়াতে গিয়ে সে দেখল, গ্রামের মানুষেরা সহজ-সরল, মিতব্যয়ী, আন্তরিক, বিনোদনপ্রিয়, শান্তিপ্রিয় ও ধার্মিক। অথচ শহরের মানুষের মধ্যে এর ভিন্নতা লক্ষ করা যায়।
- ক)(1)
সংস্কৃতির ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Culture' শব্দটি প্রথম কে ব্যবহার করেন?
- খ)(2)
সাংস্কৃতিক ব্যবধান বলতে কী বোঝ ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বাংলাদেশের গ্রামীণ সংস্কৃতির ধরন ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
নগর সংস্কৃতি গ্রামীণ সংস্কৃতি থেকে ভিন্ন” – উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সংস্কৃতির ইংরেজি প্রতিশব্দ 'Culture' শব্দটি নৃবিজ্ঞানী ই. বি. টেইলর (E. B. Tylor) তাঁর 'Primitive Culture' (১৮৭১) গ্রন্থে প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক ও তাত্ত্বিক অর্থে ব্যবহার করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সমাজবিজ্ঞানী উইলিয়াম এফ. অগবার্নের মতে, সংস্কৃতির দুটি রূপ রয়েছে—বস্তুগত সংস্কৃতি ও অবস্তুগত সংস্কৃতি। বস্তুগত সংস্কৃতি (যেমন—প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি, দালানকোঠা ইত্যাদি) খুব দ্রুত পরিবর্তিত হয়, কিন্তু সে তুলনায় অবস্তুগত সংস্কৃতি (যেমন—মূল্যবোধ, ধ্যান-ধারণা, রীতিনীতি) ধীরগতিতে পরিবর্তিত হয়। এই দুইয়ের পরিবর্তনের গতির তারতম্যের কারণে যে ব্যবধান বা পশ্চাৎপদতার সৃষ্টি হয়, তাকে সাংস্কৃতিক ব্যবধান (Cultural Lag) বলে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বাংলাদেশের লোকায়ত ও ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ সংস্কৃতির ধরন প্রতিফলিত হয়েছে।
গ্রামীণ সংস্কৃতি মূলত প্রকৃতি-ঘনিষ্ঠ, সরল ও পারস্পরিক সহমর্মিতামূলক সম্পর্কের ওপর প্রতিষ্ঠিত। উদ্দীপকে রবিন লক্ষ্য করে যে, গ্রামের মানুষ সহজ-সরল, মিতব্যয়ী, আন্তরিক, বিনোদনপ্রিয়, শান্তিপ্রিয় ও ধার্মিক। গ্রামীণ সমাজে মুখোমুখি ও প্রত্যক্ষ সম্পর্ক (Primary relation) বিদ্যমান থাকে। এখানকার মানুষের জীবনযাত্রা জটিলতাহীন, লোকজ ঐতিহ্য ও ধর্মীয় বিশ্বাস দ্বারা চালিত এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ। উদ্দীপকের এই বৈশিষ্ট্যগুলো বাংলাদেশের সনাতন গ্রামীণ সংস্কৃতিরই অনন্য রূপ প্রকাশ করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“নগর সংস্কৃতি গ্রামীণ সংস্কৃতি থেকে ভিন্ন”—উক্তিটি যথার্থ।
গ্রামীণ সংস্কৃতি ও নগর সংস্কৃতির মধ্যে স্পষ্ট কাঠামোগত ও আচরণগত পার্থক্য রয়েছে। গ্রামীণ সমাজে অনানুষ্ঠানিক সামাজিক নিয়ন্ত্রণ, যৌথ পরিবার ব্যবস্থা, পারস্পরিক আন্তরিকতা ও সহজ-সরল জীবনযাপন প্রধান বৈশিষ্ট্য। সেখানে মানুষ একে অপরকে ঘনিষ্ঠভাবে চেনে এবং ধর্মীয় ও লোকায়ত সংস্কৃতি জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করে।
অপরদিকে, নগর সংস্কৃতি হলো অত্যন্ত জটিল, আনুষ্ঠানিক, বৈচিত্র্যময় ও যান্ত্রিক। নগর জীবনে মাধ্যমিক সম্পর্কের প্রাধান্য বেশি; সেখানে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবোধ, আত্মকেন্দ্রিকতা এবং কৃত্রিমতা পরিলক্ষিত হয়। নগরে মানুষ প্রধানত বস্তুগত সমৃদ্ধি, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও প্রতিযোগিতামূলক পেশাজীবনে অভ্যস্ত। উদ্দীপকেও রবিন প্রত্যক্ষ করেছে যে, গ্রামের মানুষের অকৃত্রিম আন্তরিকতা ও ধর্মপ্রাণতার বিপরীতে শহরের মানুষের চালচলনে স্পষ্ট ভিন্নতা রয়েছে। সুতরাং, জীবনযাপনের ধরন, সামাজিক সম্পর্ক ও মূল্যবোধের দিক থেকে নগর সংস্কৃতি নিঃসন্দেহে গ্রামীণ সংস্কৃতি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও