গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-১;দৃশ্যকল্প-২: ফিরোজা বেগম ছোট মেয়ের জন্মদিনে স্বল্পদামে একটি জমকালো আধুনিক জামা কিনেন। তিনি মনে করেন “পোশাক ও বস্ত্র শিল্পের উন্নয়নে এই ধরনের ফ্যাশনযুক্ত পোশাক ক্রয় সম্ভব।”
- ক)(1)
স্টাইল কাকে বলে?
- খ)(2)
পোশাক পেশার পরিচিতি দেয়— বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
দৃশ্যকল্প-১ এ চিহ্নিত স্থানটি কী নির্দেশ করে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
দৃশ্যকল্প-২ এ উল্লিখিত ফিরোজা বেগমের উক্তিটির সপক্ষে তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পোশাকের কোনো সুনির্দিষ্ট বা বিশেষ বৈশিষ্ট্যময় রূপ বা প্রকাশভঙ্গি, যা একে অন্য পোশাক থেকে পৃথক করে, তাকে স্টাইল বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পোশাক মানুষের পেশাগত পরিচয় প্রকাশে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বিশেষ বিশেষ পেশার মানুষের কাজের সুবিধার জন্য এবং তাঁদের সমাজে আলাদাভাবে শনাক্ত করার জন্য নির্দিষ্ট ধরনের পোশাক বা ইউনিফর্ম নির্ধারিত থাকে। যেমন— চিকিৎসকদের সাদা অ্যাপ্রন, আইনজীবীদের কালো কোট বা গাউন, পুলিশ বা সামরিক বাহিনীর নির্ধারিত উর্দি ইত্যাদি। এসব পোশাক দেখেই দূর থেকে একজন ব্যক্তির পেশা সম্পর্কে নিশ্চিত ধারণা পাওয়া যায়। সুতরাং, পোশাক মানুষের পেশার পরিচিতি বহন করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-১ এর চিত্রে চিহ্নিত প্রশ্নবোধক (?) স্থানটি ‘ফ্যাশন চক্র’ (Fashion Cycle) নির্দেশ করে।
ফ্যাশন চক্র হলো এমন একটি পরিক্রমা যার মাধ্যমে কোনো একটি নতুন ফ্যাশনের আগমন ঘটে, তা সমাজে বিস্তার লাভ করে এবং অবশেষে তার অবলুপ্তি ঘটে। চিত্রে ফ্যাশনের বিভিন্ন পর্যায়— উদয়, আবির্ভাব, জনপ্রিয়তা, প্রসার লাভ, পতন ও বিলুপ্তি— ধারাবাহিকভাবে প্রদর্শিত হয়েছে।
একটি ফ্যাশন চক্রের ধাপগুলো নিম্নরূপ:
১. উদয় ও আবির্ভাব: কোনো নতুন ডিজাইনের সূচনা এবং বাজারে তার আত্মপ্রকাশ।
২. জনপ্রিয়তা ও প্রসার লাভ: ফ্যাশনটি সাধারণ ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং ব্যাপকভাবে গৃহীত হয়ে চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছায়।
৩. পতন ও বিলুপ্তি: দীর্ঘদিন চলার পর একঘেয়েমি তৈরি হয়, চাহিদা হ্রাস পায় এবং একপর্যায়ে বাজার থেকে তা সম্পূর্ণ হারিয়ে যায় এবং নতুন কোনো ফ্যাশনের সূচনা হয়।
অতএব, চিত্রের সামগ্রিক প্রক্রিয়াটি স্পষ্টভাবে ফ্যাশন চক্রকেই নির্দেশ করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-২ এ উল্লিখিত ফিরোজা বেগমের “পোশাক ও বস্ত্র শিল্পের উন্নয়নে এই ধরনের ফ্যাশনযুক্ত পোশাক ক্রয় সম্ভব” উক্তিটি সম্পূর্ণ যথার্থ এবং এর সপক্ষে আমার মতামত তুলে ধরা হলো:
আধুনিক প্রযুক্তির বিকাশ ও বস্ত্র শিল্পের অগ্রগতির কারণে বর্তমানে পোশাক শিল্পে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। পূর্বে যেকোনো জমকালো বা ফ্যাশনেবল পোশাক কেবল উচ্চবিত্তদের নাগালের মধ্যে ছিল, কারণ সেগুলোর উৎপাদন ব্যয় ছিল অনেক বেশি। কিন্তু আধুনিক টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস শিল্পের যান্ত্রিকীকরণ, স্বয়ংক্রিয় সেলাই ও প্রিন্টিং ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কৃত্রিম তন্তুর সহজলভ্যতার ফলে এখন খুব দ্রুত ও কম খরচে মানসম্মত আকর্ষণীয় পোশাক তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে।
ফিরোজা বেগম তাঁর ছোট মেয়ের জন্য যে স্বল্পমূল্যে জমকালো আধুনিক পোশাক কিনতে পেরেছেন, তা দেশের বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাতের আধুনিকায়ন এবং বড় আকারের উৎপাদনের (Mass Production) সুফল। বৃহৎ পরিসরে উৎপাদনের কারণে পোশাকের একক উৎপাদন খরচ কমে যায়, যার ফলে মধ্যবিত্ত ও সাধারণ আয়ের ক্রেতারাও অল্প মূল্যে হালফ্যাশনের পোশাক ক্রয় করার সুযোগ পাচ্ছেন।
সুতরাং, আধুনিক প্রযুক্তি ও বস্ত্র শিল্পের টেকসই উন্নয়নই স্বল্পমূল্যে সাধারণ মানুষের কাছে আধুনিক ফ্যাশনযুক্ত পোশাক সহজলভ্য করেছে। তাই ফিরোজা বেগমের উক্তিটি বাস্তবসম্মত ও যৌক্তিক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও