কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, যশোর, দিনাজপুর বোর্ড ২০২২
কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন
নিচের চিত্রটি লক্ষ করো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
- ক)(1)
রাক্ষুসে মাছ কী?
- খ)(2)
নিরাপদ মাছ সংরক্ষণের সুবিধা লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের চিংড়ি মাছটি চাষের জন্য কীভাবে ঘের নির্মাণ করবে। ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের মাছটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কীরূপ প্রভাব ফেলতে পারে তা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব মাছ পুকুর বা জলাশয়ের অন্যান্য ছোট ও পোনা মাছ খেয়ে বেঁচে থাকে, সেগুলোকে রাক্ষুসে মাছ বলে (যেমন— বোয়াল, শোল, গজার ইত্যাদি)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নিরাপদ মাছ সংরক্ষণের সুবিধাগুলো হলো:
১. মাছের গুণগত মান, স্বাদ এবং পুষ্টিমূল্য দীর্ঘদিন ভালো ও অক্ষুণ্ণ থাকে।
২. স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টিকারী ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ (যেমন ফরমালিন) ব্যবহার না করায় মানবস্বাস্থ্য সুরক্ষিত থাকে।
৩. সহজে দূরবর্তী বাজারে বা বিদেশে রপ্তানি করে ন্যায্যমূল্য পাওয়া যায় এবং অপচয় হ্রাস পায়। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রদর্শিত মাছটি হলো বাগদা চিংড়ি। বাগদা চিংড়ি চাষের জন্য ঘের নির্মাণের ধাপগুলো নিম্নরূপ:
১. স্থান নির্বাচন: উপকূলীয় অঞ্চলের জোয়ার-ভাটার পানি ওঠানামা করে এমন উপযুক্ত কাদামাটি বা দোআঁশ মাটির স্থান নির্বাচন করতে হবে।
২. পাড় বা বাঁধ নির্মাণ: সর্বোচ্চ জোয়ারের চেয়ে কমপক্ষে ১-১.৫ ফুট উঁচু করে মজবুত ও টেকসই বাঁধ বা পাড় নির্মাণ করতে হবে, যেন বন্যায় পাড় না ডুবে যায়।
৩. স্লুইস গেট/কপাট স্থাপন: পানির প্রবেশ ও নিষ্কাশনের সুবিধার্থে উপযুক্ত স্থানে কাঠের বা পাকা স্লুইস গেট তৈরি করতে হবে। গেটে তারের বা নাইলনের সূক্ষ্ম জাল দিতে হবে যাতে শিকারি মাছ ঢুকতে এবং চিংড়ি বের হতে না পারে।
৪. আয়তন ও গভীরতা: ঘেরের আদর্শ গভীরতা সাধারণত ৩-৪ ফুট রাখা হয় এবং সুবিধাজনক আকার নির্ধারণ করা হয়।
৫. আগাছা ও অপ্রয়োজনীয় জলজ প্রাণী অপসারণ: ঘের তৈরির পর বিষাক্ত গ্যাস ও অবাঞ্ছিত জলজ জীব দূর করে চুন ও সার প্রয়োগের মাধ্যমে ঘেরটিকে চাষের উপযোগী করা হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের মাছটি হলো বাগদা চিংড়ি, যা 'সাদা সোনা' (White Gold) নামে পরিচিত। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে, যা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: হিমায়িত খাদ্য হিসেবে বাগদা চিংড়ি বিদেশে (বিশেষ করে ইউরোপ ও আমেরিকায়) ব্যাপক চাহিদাসম্পন্ন। রপ্তানি আয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এ খাত থেকে অর্জিত হয়।
২. কর্মসংস্থান সৃষ্টি: চিংড়ি চাষ, পোনা আহরণ ও হ্যাচারি পরিচালনা, প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা এবং পরিবহন ব্যবস্থাপনায় উপকূলীয় অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষের সরাসরি ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।
৩. দারিদ্র্য বিমোচন ও উপকূলীয় অর্থনীতি: দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় লবণাক্ত পতিত জমিতে উন্নত প্রযুক্তিতে বাগদা চাষের মাধ্যমে চাষিদের আয় বৃদ্ধি পায় এবং সার্বিক দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
৪. জাতীয় আয়ে অবদান: মৎস্য খাতের মধ্য দিয়ে চিংড়ি শিল্প দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বৃদ্ধিতে কার্যকর অবদান রাখে।সুতরাং, উপযুক্ত ঘের ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে বাগদা চিংড়ি চাষ দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করতে বিরাট ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও