কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর বোর্ড ২০১৯

কৃষিশিক্ষা ২য় পত্র প্রশ্ন

রিমন বাবার সাথে মাছের বাজারে গিয়ে দেখল একজন মাছ। ব্যবসায়ী তার ঝুড়িতে মাছ এবং বরফ স্তরে স্তরে সাজালেন। রিমন বাবাকে জিজ্ঞাসা করল, বাবা লোকটি কী কাজ করল। রিমনের বাবা বললেন, মাছ যাতে নষ্ট না হয় তার জন্য এই কাজটি করলেন তিনি। তুমি কি জানো রিমন মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন অনেক দূর এগিয়েছে এবং রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে?

  1. ক)

    ফাইটোপ্লাংকটন কী ?

    (1)
  2. খ)

    মাছ কেন শুকানো হয়?

    (2)
  3. গ)

    মাছ ব্যবসায়ীর কার্যক্রমটি ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের আলোকে মাছ ব্যবসায়ীর কার্যক্রমটির যথার্থতা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জলাশয়ে মুক্তভাবে ভাসমান আণুবীক্ষণিক বা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র উদ্ভিদকণিকাকে ফাইটোপ্লাংকটন বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মাছকে দীর্ঘদিন পচনের হাত থেকে রক্ষা করে সংরক্ষণ করার উদ্দেশ্যে মাছ শুকানো হয়। মাছে প্রচুর আর্দ্রতা থাকে, যার কারণে ব্যাকটেরিয়া ও এনজাইমের ক্রিয়ায় তা দ্রুত নষ্ট হয়। রোদে বা তাপে মাছ শুকিয়ে এর আর্দ্রতা কমিয়ে ১৫-১৮%-এ নামিয়ে আনলে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের আক্রমণ বন্ধ হয় এবং মাছ দীর্ঘকাল ভালো থাকে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে মাছ ব্যবসায়ীর কার্যক্রমটি হলো মাছের পচন রোধে 'বরফজাতকরণ' (Icing) পদ্ধতির প্রয়োগ।

    মাছ ধরার পর স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখলে ব্যাকটেরিয়া ও এনজাইমের ক্রিয়ায় খুব দ্রুত পচন শুরু হয়। উদ্দীপকের ব্যবসায়ী মাছ ও বরফ স্তরে স্তরে সাজিয়ে সংরক্ষণ করেছেন। মাছের ওপর কুচানো বরফের স্তর দিলে মাছের তাপমাত্রা প্রায় ০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে। নিম্ন তাপমাত্রার কারণে মাছে থাকা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াগুলোর বংশবৃদ্ধি ও কার্যক্রম প্রায় নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে এবং অভ্যন্তরীণ এনজাইমের কার্যকারিতাও স্তিমিত হয়ে যায়। এতে মাছের গুণগত মান, সতেজতা ও স্বাদ বজায় থাকে এবং বাজারে ক্রেতার কাছে তা পচনমুক্ত অবস্থায় পৌঁছানো সম্ভব হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের আলোকে মাছ ব্যবসায়ীর কার্যক্রমটি অত্যন্ত সময়োপযোগী, বিজ্ঞানসম্মত ও যথার্থ।

    মাছ একটি অত্যন্ত পচনশীল খাদ্যদ্রব্য। এটি পানির বাইরে আসার পর দ্রুত গুণগত মান হারাতে থাকে। উদ্দীপকে মাছ ব্যবসায়ী বরফ ও মাছ স্তরে স্তরে সাজিয়ে বরফজাতকরণ পদ্ধতির সঠিক প্রয়োগ করেছেন। এর যথার্থতা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. পচন রোধ ও স্থায়িত্ব বৃদ্ধি: বরফ প্রয়োগের ফলে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার ও এনজাইমের ভাঙন প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়, ফলে মাছ কয়েকদিন পর্যন্ত টাটকা থাকে।
    ২. পুষ্টিগুণ ও স্বাদ অক্ষুণ্ণ রাখা: বরফজাতকরণে মাছের মূল আর্দ্রতা ও স্বাদ-গন্ধ প্রায় অপরিবর্তিত থাকে।
    ৩. অর্থনৈতিক ক্ষতি রোধ: মাছ পচে গেলে ব্যবসায়ী সরাসরি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। সঠিক সংরক্ষণের কারণে মাছের অপচয় রোধ হয় এবং ব্যবসায়ী লাভবান হন।
    ৪. পরিবহন ও বাজারজাতকরণ সুবিধা: দূর-দূরান্তের বাজারে মাছ পাঠাতে বরফজাতকরণ অপরিহার্য। এর ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে বা বিদেশে মানসম্মত মাছ সরবরাহ সম্ভব হয়।

    অতএব, মাছের টাটকা ভাব রক্ষা, গুণগত মান সংরক্ষণ এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ী যে পদক্ষেপ নিয়েছেন তা পুরোপুরি বাস্তবসম্মত ও যথাযথ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন