ভূগোল ২য় পত্র • খনিজ ও শক্তি সম্পদ • Combined Board • রাজশাহী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৩
ভূগোল ২য় পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
খনিজ কাকে বলে?
- খ)(2)
শক্তি সম্পদ বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে 'ক' খনিজের শীর্ষ দেশের উৎপাদন বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে 'খ' খনিজের ব্যবহার বর্তমানে কমে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রাকৃতিক উপায়ে গঠিত এক বা একাধিক মৌলিক পদার্থের সমন্বয়ে গঠিত নির্দিষ্ট রাসায়নিক গঠন ও অভ্যন্তরীণ পারমাণবিক কাঠামোযুক্ত অজৈব পদার্থকে খনিজ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব প্রাকৃতিক উপাদান বা উৎস থেকে তাপ, বিদ্যুৎ বা যান্ত্রিক শক্তি উৎপাদন করে দৈনন্দিন জীবন ও শিল্প-কারখানা পরিচালনা করা যায়, সেগুলোকে শক্তি সম্পদ বলে।
শক্তি সম্পদ প্রধানত দুই ধরনের— অনবায়নযোগ্য (যেমন: কয়লা, খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি) এবং নবায়নযোগ্য শক্তি সম্পদ (যেমন: সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, জলবিদ্যুৎ ইত্যাদি)। আধুনিক সভ্যতার অগ্রগতি, শিল্পায়ন ও যানবাহনের চালিকাশক্তি হিসেবে শক্তি সম্পদ অপরিহার্য। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে অবকাঠামো নির্মাণের প্রধান কাঁচামাল হিসেবে উল্লেখিত 'ক' খনিজটি হলো লৌহ আকরিক (Iron Ore)। বিশ্বে লৌহ আকরিক উত্তোলনে শীর্ষ দেশ হলো চীন (অথবা অস্ট্রেলিয়া, তবে পাঠ্যবই অনুসারে চীন অন্যতম প্রধান উৎপাদক ও ব্যবহারকারী দেশ)।
পাঠ্যবইয়ের তথ্যমতে, লৌহ আকরিক উৎপাদনে চীন বিশ্বে শীর্ষস্থান অধিকার করে আসছে। চীনের উল্লেখযোগ্য লৌহ উৎপাদনকারী অঞ্চলসমূহ হলো মাঞ্চুরিয়ার আনশান, পেনকি, চাংলিং এবং ইয়াংসিকিয়াং উপত্যকার হানয়াং, তায়েহ প্রভৃতি অঞ্চল। এ ছাড়া উত্তর ও মধ্য চীনের বিভিন্ন প্রদেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে উন্নত মানের আকরিক লোহা উত্তোলন করা হয়। চীনের অভ্যন্তরীণ সুবিশাল শিল্পায়ন, ইস্পাত কারখানা ও অবকাঠামো নির্মাণের চাহিদার কারণে দেশটিতে ব্যাপকভাবে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে লোহা উত্তোলিত হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত কালো বর্ণের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত 'খ' খনিজটি হলো কয়লা। বর্তমানে বিভিন্ন পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক কারণে এর ব্যবহার হ্রাস পাচ্ছে। নিচে কারণগুলো ব্যাখ্যা করা হলো:
১. পরিবেশ দূষণ ও বৈশ্বিক উষ্ণায়ন: কয়লা পোড়ালে প্রচুর পরিমাণে কার্বন ডাই-অক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড এবং বিষাক্ত ধোঁয়া নির্গত হয়, যা বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি (গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়া) ও এসিড বৃষ্টির জন্য প্রধানত দায়ী। পরিবেশ রক্ষায় আন্তর্জাতিকভাবে এর ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।
২. নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসার: বর্তমানে সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, পরমাণু শক্তি এবং জলবিদ্যুতের মতো পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রযুক্তি সহজলভ্য হওয়ায় কয়লার ওপর নির্ভরতা কমে আসছে।
৩. বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার: খনিজ তেল এবং বিশেষ করে প্রাকৃতিক গ্যাস কয়লার তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিকর ও অধিক দক্ষ হওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং শিল্পক্ষেত্রে কয়লার বিকল্প হিসেবে গ্যাস ও তেলের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে।
৪. পরিবহণ ও ছাই ব্যবস্থাপনা: কয়লা পরিবহণ বেশ ব্যয়বহুল এবং ব্যবহারের পর সৃষ্ট বিপুল পরিমাণ ছাই নিষ্পত্তি করা পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকির সৃষ্টি করে।অতএব, পরিবেশগত বিপর্যয় রোধ এবং সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব বিকল্প জ্বালানির সহজলভ্যতার কারণেই বর্তমানে কয়লার ব্যবহার ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও