সমাজকর্ম ১ম পত্র • সমাজকর্ম পদ্ধতি • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১

সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন

জনাব মহসীন একজন পেশাদার সমাজকর্মী। তিনি সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তির উপর জোরপূর্বক 'কোন সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেন না। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ব্যক্তির মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা দেওয়া হয়। যাতে সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তি নিজেই নিজের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম হয়।

  1. ক)

    ব্যক্তি সমাজকর্মের উপাদান কয়টি?

    (1)
  2. খ)

    সমাজকর্ম পেশা বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে ব্যক্তি সমাজকর্মের কোন নীতির ইঙ্গিত রয়েছে?

    (3)
  4. ঘ)

    ব্যক্তির সমস্যা সমাধানে উক্ত নীতির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পার্লম্যানের (H. H. Perlman) মতে ব্যক্তি সমাজকর্মের উপাদান ৫টি (ব্যক্তি, সমস্যা, স্থান, প্রক্রিয়া এবং পেশাগত সম্পর্ক)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সমাজকর্ম পেশা বলতে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান, সুশৃঙ্খল দক্ষতা, নির্দিষ্ট মূল্যবোধ ও নীতিমালার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত সমস্যা সমাধানকারী পেশাকে বোঝায়। এটি মানুষকে ব্যক্তিগত, দলীয় বা সমষ্টিগত পর্যায়ে এমনভাবে সাহায্য করে যেন তারা নিজেরাই নিজেদের সম্পদ ও সক্ষমতা ব্যবহারের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে পারে এবং সমাজে সন্তোষজনক ভূমিকা পালন করতে পারে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ব্যক্তি সমাজকর্মের 'আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার নীতি' (Principle of Client Self-determination)-র ইঙ্গিত রয়েছে।

    ব্যক্তি সমাজকর্মের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার নীতি অনুযায়ী, সাহায্যার্থী বা সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তিকে তার সমস্যা সমাধানে স্বাধীনভাবে নিজস্ব মতামত প্রকাশের এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। একজন পেশাদার সমাজকর্মী সাহায্যার্থীর ওপর জোর করে কোনো সিদ্ধান্ত বা সমাধান চাপিয়ে দেন না, বরং সাহায্যকারী হিসেবে বিকল্প পথ নির্দেশ করেন যাতে ব্যক্তি নিজেই সঠিক সিদ্ধান্ত বেছে নিতে পারে।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব মহসীন একজন পেশাদার সমাজকর্মী হিসেবে সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তির ওপর জোরপূর্বক কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেন না এবং ব্যক্তির মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা দেন, যাতে ব্যক্তি নিজেই নিজের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম হয়। এটি স্পষ্টভাবে ব্যক্তি সমাজকর্মের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার নীতিকেই নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ব্যক্তির সমস্যা সমাধানে আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার নীতির তাৎপর্য অত্যন্ত অপরিসীম। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:

    ১. আত্মবিশ্বাস ও সক্ষমতা বৃদ্ধি: সাহায্যার্থী যখন নিজে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ পায়, তখন তার আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায় এবং সে নিজের ক্ষমতা ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠে।

    ২. স্থায়ী ও কার্যকর সমাধান: বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত সাহায্যার্থী আন্তরিকভাবে গ্রহণ নাও করতে পারে। কিন্তু স্ব-উদ্যোগে ও নিজের সিদ্ধান্তে গৃহীত সমাধান স্থায়ী ও ফলপ্রসূ হয়, কারণ বাস্তবায়নে সাহায্যার্থীর পূর্ণ অঙ্গীকার থাকে।

    ৩. ব্যক্তিত্বের মর্যাদা রক্ষা: প্রতিটি মানুষ স্বাধীন চিন্তার অধিকারী। আত্মনিয়ন্ত্রণ নীতি ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব, স্বাধীনতা ও মর্যাদাকে সম্মান জানায়, যা সাহায্যার্থীকে হীনমন্যতা থেকে মুক্ত করে।

    ৪. পরনির্ভরশীলতা হ্রাস: সমাজকর্মীর লক্ষ্য ব্যক্তিকে পরনির্ভরশীল না করে স্বাবলম্বী করে তোলা। এই নীতি চর্চার ফলে ব্যক্তি ভবিষ্যৎ জীবনের যেকোনো সমস্যা মোকাবিলায় স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে ওঠে।

    সুতরাং, পেশাদার সমাজকর্মে সাহায্যার্থীর সার্বিক ক্ষমতায়ন এবং সমস্যার টেকসই সমাধানের ক্ষেত্রে আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার নীতি অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন