মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯
মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
দৃশ্যকল্প-২: জনাব হাসান শিক্ষণে বলবর্ধকের প্রভাব যাচাইয়ের জন্য গবেষণাগারে সুনিয়ন্ত্রিত পরিবেশে গবেষণা পরিচালনা করছেন।
- ক)(1)
প্রকল্প কী?
- খ)(2)
জ্ঞানের অভাবকে সমস্যার উৎস বলা হয় কেন?
- গ)(3)
দৃশ্য-১ এ 'A' চিহ্নিত চলের ব্যাখ্যা দাও।
- ঘ)(4)
জনাব হাসান কোন পদ্ধতির সাহায্যে গবেষণা পরিচালনা করছেন? এ পদ্ধতির বৈশিষ্ট্যগুলো বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে গবেষক যে সাময়িক বা সম্ভাব্য অনুমান গঠন করেন, তাকে প্রকল্প (Hypothesis) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো নির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে যখন প্রচলিত তথ্যে অস্পষ্টতা, অসঙ্গতি বা শূন্যতা থাকে, তখন জ্ঞানের অভাব দেখা দেয় এবং এই জানার আগ্রহ বা শূন্যতা থেকেই বৈজ্ঞানিক সমস্যার উৎপত্তি হয়।
বিজ্ঞানে সমস্যা বলতে বোঝায় এমন এক ধরনের প্রশ্ন যার উত্তর অজানা। গবেষক যখন কোনো বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন কিন্তু বিদ্যমান জ্ঞানে সেই উত্তর পান না, তখন সেখানে তথ্যের ফাঁক বা জ্ঞানের অভাব অনুভূত হয়। এই অভাব দূর করতে এবং সঠিক সত্য আবিষ্কারের তাগিদ থেকেই নতুন গবেষণার সমস্যা তৈরি হয়। এজন্যই জ্ঞানের অভাবকে সমস্যার প্রধান উৎস বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
দৃশ্যকল্প-১-এ 'A' চিহ্নিত চলটি হলো 'অনির্ভরশীল চল' বা 'স্বাধীন চল' (Independent Variable)।
পরীক্ষণ পদ্ধতিতে যে চলের মান গবেষক নিজের ইচ্ছানুযায়ী পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন এবং যার প্রভাব অন্য কোনো চলের ওপর পর্যবেক্ষণ করা হয়, তাকে অনির্ভরশীল চল বলে। দৃশ্যকল্প-১-এর ছকে চলের চারটি শ্রেণিবিভাগের মধ্যে নির্ভরশীল, মধ্যবর্তী ও বাহ্যিক চল উল্লেখ রয়েছে। অতএব, প্রথম ফাঁকা ঘর 'A'-তে অনির্ভরশীল চল বসবে।
অনির্ভরশীল চলের মূল বৈশিষ্ট্য হলো এটি কারণ হিসেবে কাজ করে। পরীক্ষণকারী এই চলটির মাত্রা হেরফের করে দেখেন যে তা নির্ভরশীল চলের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলছে। যেমন—দৃশ্যকল্প-২-এ জনাব হাসান 'শিক্ষণে বলবর্ধকের প্রভাব' যাচাই করছেন। এখানে 'বলবর্ধক' হলো অনির্ভরশীল চল, কারণ গবেষক প্রয়োজন অনুযায়ী বলবর্ধকের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি এবং এর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনাব হাসান 'পরীক্ষণ পদ্ধতি' (Experimental Method)-র সাহায্যে গবেষণা পরিচালনা করছেন।
মনোবিজ্ঞানের যে পদ্ধতিতে গবেষক কৃত্রিম বা গবেষণাগারের সুনিয়ন্ত্রিত পরিবেশে এক বা একাধিক চলের ওপর অন্য একটি চলের প্রভাব প্রত্যক্ষভাবে পর্যবেক্ষণ ও পরিমাপ করেন, তাকে পরীক্ষণ পদ্ধতি বলে। উদ্দীপকে উল্লেখ রয়েছে জনাব হাসান গবেষণাগারে সুনিয়ন্ত্রিত পরিবেশে গবেষণা পরিচালনা করছেন, যা পরীক্ষণ পদ্ধতির সুস্পষ্ট পরিচায়ক।
পরীক্ষণ পদ্ধতির প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. নিয়ন্ত্রণ (Control): এ পদ্ধতির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো বাহ্যিক চল বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশের প্রভাব কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। জনাব হাসান কৃত্রিম গবেষণাগারে অন্যান্য অবাঞ্ছিত প্রভাব দূর করে শুধু বলবর্ধকের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করছেন।
২. কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয়: পরীক্ষণ পদ্ধতির মাধ্যমে দুটি ঘটনার মধ্যে প্রত্যক্ষ কারণ ও ফলাফলের (Cause and effect) সম্পর্ক স্থাপন করা যায়। এখানে বলবর্ধক (কারণ) কীভাবে শিক্ষণকে (ফলাফল) প্রভাবিত করে তা জানা সম্ভব।
৩. চলের পরিবর্তন বা চালনা (Manipulation): গবেষক গবেষণার প্রয়োজনে অনির্ভরশীল চলটিকে ইচ্ছামতো বাড়াতে, কমাতে বা পরিবর্তন করতে পারেন।
৪. পুনরাবৃত্তি (Replication): এই পদ্ধতিতে ফলাফল যাচাইয়ের জন্য যেকোনো গবেষক একই পরিবেশ ও শর্ত বজায় রেখে বারবার পরীক্ষণটি পরিচালনা করতে পারেন।
৫. নৈর্ব্যক্তিকতা ও সঠিক পরিমাপ: এটি একটি বস্তুনিষ্ঠ পদ্ধতি, যাতে গবেষকের ব্যক্তিগত পক্ষপাতিত্বের সুযোগ কম থাকে এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে নির্ভুল তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহ করা যায়।উপরিউক্ত বৈশিষ্ট্যাবলির কারণেই জনাব হাসান তাঁর গবেষণায় পরীক্ষণ পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন, যা বিজ্ঞানের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও