হিন্দু ধর্ম • ধর্মীয় উপাখ্যান ও নৈতিক শিক্ষা • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২৪

হিন্দু ধর্ম প্রশ্ন

বিধান বাবু পরিবারের গর্ব। তিনি সমাজ, দেশ ও জাতির অহংকার। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তিনি অংশগ্রহণ করেন এবং দেশকে স্বাধীন করেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও তিনি থেমে থাকেননি। বর্তমানে তিনি গরিব-দুঃখীদের যথাসাধ্য দান করেন। অনেক সময় নিজে না খেয়ে তাদেরকে খেতে দেন।

  1. ক)

    রামায়ণ কে রচনা করেন?

    (1)
  2. খ)

    উপনিষদের শিক্ষা সম্পর্কে ব্যাখ্যা দাও।

    (2)
  3. গ)

    মুক্তিযোদ্ধা বিধান বাবু তোমার পাঠ্যবইয়ের কার চরিত্রকে নির্দেশ করে? বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    বর্তমানে বিধান বাবুর কর্মকাণ্ড রন্তিবর্মারই প্রতিচ্ছবি-বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    রামায়ণ আদিকবি বাল্মীকি মুনি রচনা করেন।

  2. খ)

    উপনিষদ বেদের জ্ঞানকাণ্ডের অন্তর্গত ব্রহ্মবিদ্যার শাস্ত্র। এর মূল শিক্ষা হলো 'জগতের সবকিছুই ব্রহ্মময়' এবং জীব ব্রহ্ম ছাড়া কিছুই নয়। তাই কারও সঙ্গে কারও ভেদ নেই। কাউকে হিংসা করা মানে নিজেকেই হিংসা করা। অতএব আমাদের উচিত একে অপরকে হিংসা না করে সাহায্য ও সহযোগিতা করা। এতে সমাজে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।

  3. গ)

    মুক্তিযোদ্ধা বিধান বাবু পাঠ্যবইয়ের 'সৎসাহসী বালক তরণীসেন' চরিত্রকে নির্দেশ করেন।

    সৎসাহস হলো সত্য ও ন্যায়ের জন্য ভয় না পেয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো, এমনকি নিজের জীবনের ঝুঁকি আছে জেনেও দেশ ও মানুষের মঙ্গলের জন্য সাহস দেখানো। পাঠ্যবইয়ে বলা হয়েছে, সৎসাহসী ব্যক্তি সমাজ, দেশ ও জাতির অহংকার।

    রামায়ণের কাহিনি অনুযায়ী রাম-রাবণের যুদ্ধে রাবণের প্রায় সব বীর প্রাণ হারালে লঙ্কা শ্মশানে পরিণত হয়। তখন বিভীষণের পুত্র, মাত্র বারো বছরের বালক তরণীসেন লঙ্কা রক্ষার জন্য যুদ্ধে যাওয়ার অনুমতি চায় এবং রাবণকে রাজি করিয়ে রণক্ষেত্রে যায়। সে দেশের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করে। উপাখ্যানের শিক্ষা হলো, স্বাধীনতা রক্ষা করতে যার যতটুকু শক্তি আছে তা প্রয়োগের সৎসাহস থাকা উচিত এবং দেশের জন্য জীবন বিসর্জন দিতে পিছপা হওয়া উচিত নয়।

    উদ্দীপকের বিধান বাবু বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছেন। তিনি পরিবার, সমাজ ও জাতির অহংকার। অর্থাৎ সৎসাহস ও দেশপ্রেমের এই বৈশিষ্ট্যের কারণে তিনি তরণীসেনের চরিত্রকেই নির্দেশ করেন।

  4. ঘ)

    উদ্দীপকের বিধান বাবু বর্তমানে গরিব-দুঃখীদের যথাসাধ্য দান করেন এবং অনেক সময় নিজে না খেয়ে তাদের খেতে দেন। এটি রাজা রন্তিবর্মার মানবতাবোধেরই প্রতিচ্ছবি।

    পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত আছে, রন্তিবর্মা ছিলেন প্রজাবৎসল কৃষ্ণভক্ত রাজা ও সম্রাট। তিনি সম্রাট হয়েও পার্থিব বিষয়ে আসক্ত ছিলেন না। শ্রীকৃষ্ণে সবকিছু সমর্পণ করে অযাচক বৃত্তি গ্রহণ করেছিলেন। আটচল্লিশ দিন অনাহারে থাকার পর উনপঞ্চাশতম দিনে ভক্তের দেওয়া খাবার পেয়েও এক ক্ষুধার্ত ভিক্ষুক ও তার কুকুরকে সবটুকু দিয়ে দেন।

    ১. নিজের কষ্ট উপেক্ষা করে অপরকে খাওয়ানো: রন্তিবর্মা নিজে অনাহারে থেকেও নিজের খাবার ক্ষুধার্তকে দিয়েছেন। বিধান বাবুও নিজে না খেয়ে গরিব-দুঃখীদের খেতে দেন।
    ২. দানশীলতা: রন্তিবর্মা তাঁর সর্বস্ব দান করতে দ্বিধা করেননি। বিধান বাবুও যথাসাধ্য দান করেন। দান ও দয়া ধার্মিকের প্রধান নৈতিক গুণ।
    ৩. মানবতাবোধ ও জীবসেবা: অন্যের দুঃখে নিজের কষ্ট সহ্য করা সবচেয়ে বড় মানবতা। উভয়েই মানুষের দুঃখে সাড়া দিয়েছেন। হিন্দুধর্ম অনুযায়ী জীবের মধ্যে ঈশ্বর আত্মারূপে বাস করেন, তাই জীবসেবাই ঈশ্বরসেবা।
    ৪. পার্থক্য: রন্তিবর্মা ছিলেন সম্রাট ও কৃষ্ণভক্ত; বিধান বাবু একজন মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু আত্মত্যাগের মনোভাবে দুজন এক।

    সুতরাং, বিধান বাবুর বর্তমান কর্মকাণ্ড রাজা রন্তিবর্মার ত্যাগ ও মানবতার আদর্শের সঙ্গে সম্পূর্ণ সংগতিপূর্ণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন