মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, যশোর, দিনাজপুর বোর্ড ২০২২
মনোবিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
রহিম খুবই মেধাবী ছাত্র। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সে বুয়েটে। ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে সে মানসিকভাবে খুবই অস্বস্তিবোধ করছে। তার বড় ভাই মিজান একজন। বেসরকারি চাকুরিজীবী। তাকে অফিসে প্রচুর কাজ করতে হয়। ফলে সে প্রায়ই মাথাব্যথা, ক্লান্তি, অমনোযোগ ও ধৈর্যহীনতায় ভোগে।
- ক)(1)
হতাশার সংজ্ঞা দাও।
- খ)(2)
অবদমনকে আত্মরক্ষামূলক কৌশল বলা হয় কেন?
- গ)(3)
রহিমের মধ্যে যে মানসিক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তার উৎসসমূহ বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
মিজানের সমস্যা সমাধানের কৌশলগুলোর বিবরণ দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য অর্জনের পথে অনাকাঙ্ক্ষিত বাধা বা অন্তরায়ের সৃষ্টি হলে ব্যক্তির মনে যে তীব্র মানসিক অস্বস্তি বা যন্ত্রণার সৃষ্টি হয়, তাকে হতাশা (Frustration) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অবদমন হলো এমন একটি অচেতন মানসিক প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ব্যক্তি তার বেদনাদায়ক, উদ্বেগজনক ও সামাজিকভাবে অগ্রহণযোগ্য চিন্তা বা স্মৃতিগুলোকে সচেতন মন থেকে অচেতন মনে ঠেলে দেয়। এর ফলে ব্যক্তি তাৎক্ষণিক মানসিক যন্ত্রণা, অপরাধবোধ ও তীব্র উদ্বেগ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারে। ব্যক্তিত্বের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং অহংকে আঘাত থেকে রক্ষা করতে এটি কাজ করে বলেই অবদমনকে আত্মরক্ষামূলক কৌশল বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না পেয়ে রহিমের মধ্যে 'হতাশা' (Frustration) নামক মানসিক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। হতাশার প্রধান উৎসগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:
১. ব্যক্তিগত উৎস বা ত্রুটি: ব্যক্তির নিজস্ব শারীরিক বা মানসিক সীমাবদ্ধতা হতাশার একটি প্রধান উৎস। রহিম হয়তো কোনো একটি বিষয়ে নির্ধারিত যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে, যা তার ব্যক্তিগত সীমাবদ্ধতার ফলাফল এবং তার মধ্যে তীব্র হতাশার জন্ম দিয়েছে।
২. পরিবেশগত উৎস: প্রাকৃতিক বা সামাজিক পরিবেশের বিভিন্ন বাধা হতাশার কারণ হতে পারে। ভর্তি পরীক্ষার কঠোর নীতিমালা, মেধা তালিকায় ন্যূনতম জিপিএ বা নম্বরের উচ্চ শর্ত পরিবেশগত বাধা হিসেবে কাজ করেছে, যা প্রতিভাবান হওয়া সত্ত্বেও রহিমকে পরীক্ষায় অংশ নিতে বাধাগ্রস্ত করেছে।
৩. মানসিক দ্বন্দ্ব: একাধিক লক্ষ্যের মধ্যে টানাপোড়েন বা আকাঙ্ক্ষা এবং বাস্তবতার মধ্যকার অমিল থেকে হতাশার উৎপত্তি হয়। বুয়েটে পড়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে বাস্তবতায় সুযোগ না পাওয়া রহিমের মধ্যে মানসিক দ্বন্দ্ব ও হতাশা বাড়িয়ে দিয়েছে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মিজান অতিরিক্ত কাজের চাপের কারণে মাথাব্যথা, ক্লান্তি, অমনোযোগ ও ধৈর্যহীনতায় ভুগছেন, যা অতিরিক্ত কর্মজনিত 'মানসিক চাপ' (Stress)-এর লক্ষণ। মিজানের এই সমস্যা বা মানসিক চাপ সমাধানের কৌশলগুলোকে প্রধানত দুভাগে ভাগ করে কার্যকর করা যায়:
১. প্রত্যক্ষ বা সমস্যা-কেন্দ্রিক কৌশল:
- সময় ব্যবস্থাপনা (Time Management): কাজের একটি সুনির্দিষ্ট অগ্রাধিকার তালিকা তৈরি করে ধাপে ধাপে কাজ সম্পন্ন করা, যাতে কাজের চাপ একসাথে জমতে না পারে।
- কর্মভার লাঘব ও প্রতিনিধি নিয়োগ: সব কাজ নিজে না করে অফিসের অন্যদের সাথে প্রয়োজনীয় কাজের দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া।
- কর্মক্ষেত্রে বিরতি: একটানা দীর্ঘক্ষণ কাজ না করে কাজের মাঝে ছোট ছোট বিরতি গ্রহণ করা, যা মনোযোগ ও সতেজতা ফিরিয়ে আনে।
২. আবেগ-কেন্দ্রিক ও শারীরিক কৌশল:
- শিথিলায়ন ব্যায়াম (Relaxation Technique): গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম (Deep breathing) বা পেশি শিথিলায়নের মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক উত্তেজনা প্রশমিত করা।
- পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম: নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম ও পুষ্টিকর খাবার মাথাব্যথা ও ক্লান্তি দূর করতে সরাসরি সাহায্য করে।
- ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি: অতিরিক্ত মানসিক চাপ কমাতে কাজের ক্ষেত্রে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা এবং প্রয়োজনবোধে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বা সহকর্মীদের সহায়তা গ্রহণ করা।
এই কৌশলগুলো নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে মিজান তার মানসিক চাপ ও শারীরিক উপসর্গগুলো সফলভাবে দূর করতে পারবেন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও