ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র • খুলাফায়ে রাশেদিন (৬৩২-৬৬১ খ্রি.) • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৯

ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র প্রশ্ন

শাসনক্ষমতা লাভের পর মি, রহিমকে অনেক সমস্যা ও বাধা- বিপত্তির সম্মুখীন হতে হয়। তাঁর সময় ভন্ড ধর্ম প্রচারকদের উদ্ভব, করবিরোধী আন্দোলন ও স্বধর্মত্যাগীদের বিদ্রোহ রাষ্ট্রের ধর্মব্যবস্থার ওপর আঘাত হানে। তিনি সাহস ও দৃঢ়তার সাথে এ জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলা করেন। বিশ্বস্ততার জন্য তাঁকে বিশেষ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

  1. ক)

    'যুন্নুরাইন' কার উপাধি?

    (1)
  2. খ)

    খুলাফায়ে রাশেদিন বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের মি. রহিমের সাথে তোমার পঠিত ইসলামের ইতিহাসের কোন শাসকের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো

    (3)
  4. ঘ)

    তোমার পঠিত শাসককে কি ইসলামের ত্রাণকর্তা বলা যায়? তোমার মতামত বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'যুন্নুরাইন' (দুই জ্যোতির অধিকারী) তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান (রা.)-এর উপাধি।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওফাতের পর ৬৩২ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৬৬১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত প্রায় ৩০ বছর শাসনকার্য পরিচালনা করা চারজন ন্যায়পরায়ণ খলিফাকে একত্রে 'খুলাফায়ে রাশেদিন' বা সৎপথপ্রাপ্ত খলিফাগণ বলা হয়। এই চারজন খলিফা হলেন হযরত আবু বকর (রা.), হযরত উমর (রা.), হযরত উসমান (রা.) ও হযরত আলী (রা.)।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের মি. রহিমের সাথে ইসলামের ইতিহাসের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা.)-এর সাদৃশ্য রয়েছে।

    মহানবী (সা.)-এর ওফাতের পর মুসলিম উম্মাহ যখন খলিফা হিসেবে হযরত আবু বকর (রা.)-কে নির্বাচিত করে, তখন নব্য মুসলিম রাষ্ট্র এক চরম রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংকটের মুখোমুখি হয়। আরবের বহু গোত্র বিদ্রোহ ঘোষণা করে, অনেকে জাকাত প্রদানে অস্বীকার করে এবং নবুওয়াতের মিথ্যা দাবিদারদের (ভণ্ড নবী) আবির্ভাব ঘটে। হযরত আবু বকর (রা.) অসীম সাহস, বিচক্ষণতা ও দৃঢ়তার সাথে রিদ্দার যুদ্ধ পরিচালনা করে এসব সমস্যার সফল সমাধান করেন। উদ্দীপকের মি. রহিমও ক্ষমতা গ্রহণের পর স্বধর্মত্যাগীদের বিদ্রোহ, করবিরোধী আন্দোলন এবং ভণ্ড ধর্ম প্রচারকদের শক্ত হাতে দমন করেন, যা খলিফা আবু বকর (রা.)-এর ঐতিহাসিক ভূমিকার সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা.)-কে নিঃসন্দেহে 'ইসলামের ত্রাণকর্তা' (Saviour of Islam) বলা যায়।

    হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওফাতের পর ইসলামি রাষ্ট্রের অস্তিত্ব চরম হুমকির মুখে পড়েছিল। তৎকালীন সংকটসমূহ ছিল:
    ১. ভণ্ড নবীদের উত্থান: মুসায়লিমা, তুলায়হা, আসওয়াদ আনসি ও সাজাহর মতো ভণ্ড নবীদের আবির্ভাব ইসলামের মূল ভিত্তিকে নাড়িয়ে দিয়েছিল।
    ২. জাকাত প্রদানে অস্বীকার: বহু গোত্র নামাজ পড়তে রাজি হলেও জাকাত দিতে অস্বীকার করে। তিনি কোনো আপস না করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেন।
    ৩. স্বধর্মত্যাগীদের বিদ্রোহ: অনেকে ইসলাম ত্যাগ করে মুরতাদ হয়ে যায়। হযরত আবু বকর (রা.) খালিদ বিন ওয়ালিদসহ যোগ্য সেনাপতিদের পাঠিয়ে রিদ্দার যুদ্ধের মাধ্যমে বিদ্রোহীদের সমূলে দমন করেন।

    যদি হযরত আবু বকর (রা.) চরম দূরদর্শিতা ও আপসহীন মনোভাব নিয়ে এই গভীর সংকট মোকাবিলা না করতেন, তবে নবাগত ইসলামি রাষ্ট্রটি শৈশবেই ধ্বংস হয়ে যেত। তাঁর অটল বিশ্বাস ও সিদ্ধান্তের কারণেই ইসলাম রক্ষা পেয়েছিল এবং সংহত হয়েছিল। তাই ঐতিহাসিকদের দৃষ্টিতে তাঁকে ইসলামের ত্রাণকর্তা বলা সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত ও যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন