ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, যশোর, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২৫

ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন

হাফিজ সাহেব চাকরি শেষে ত্রিশ লক্ষ টাকা পেনশন পান। তার সহকর্মীরা টাকাগুলো কোনো সুদি ব্যাংকে রাখার পরামর্শ দেন। কেননা সেখানে মোটা অংকের সুদ পাওয়া যায় এবং লোকসানের ঝুঁকিও থাকে না। বাসায় ফিরে বিষয়টি স্ত্রীকে জানালে তিনি সুদমুক্ত ব্যাংকে টাকা রাখার জোর তাগিদ দেন। এ ছাড়া তার স্ত্রী সুদের ভয়াবহ পরিণতির কথাও উল্লেখ করেন।

  1. ক)

    জাকাত ব্যয়ের খাত কয়টি?

    (1)
  2. খ)

    الْقُلُوبِ বা হৃদয় জয় করা বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    হাফিজ সাহেবের সহকর্মীদের পরামর্শ ইসলামের দৃষ্টিতে ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    তুমি কি মনে কর, হাফিজ সাহেবের স্ত্রীর সিদ্ধান্ত, সঠিক? তোমার পাঠ্যপুস্তকের আলোকে পর্যালোচনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পবিত্র কুরআনের সূরা আত-তাওবার ৬০ নম্বর আয়াত অনুযায়ী জাকাত ব্যয়ের নির্ধারিত খাত ৮টি।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'মুআল্লাফাতুল কুলুব' বা হৃদয় জয় করা বলতে ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি নবদীক্ষিত বা সহানুভূতিশীল অমুসলিমদের মন আকৃষ্ট ও অনুরক্ত করার জন্য জাকাতের অর্থ ব্যয় করাকে বোঝায়। ইসলামের প্রাথমিক যুগে নওমুসলিমদের ঈমান সুদৃঢ় করতে কিংবা ইসলামের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন ব্যক্তিদের বৈরিতা দূর করে তাদের ইসলামের দিকে আকৃষ্ট করতে জাকাতের এ খাতটি নির্ধারিত করা হয়েছিল।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হাফিজ সাহেবের সহকর্মীদের সুদি ব্যাংকে টাকা রাখার পরামর্শ ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হারাম এবং ঘোরতর পাপের কাজ।

    ইসলামে সুদকে সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ও হারাম ঘোষণা করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন—"আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে করেছেন হারাম" (সূরা আল-বাকারা: ২৭৫)। সুদের মাধ্যমে সমাজে শোষণ, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং দারিদ্র্য বাড়ে। অধিক মুনাফা বা ঝুঁকির অনুপস্থিতির দোহাই দিয়ে সুদ গ্রহণ করা বা তাতে জড়িত হওয়া ইসলাম সমর্থন করে না।

    সহকর্মীদের পরামর্শটি পার্থিব স্বার্থের ভিত্তিতে দেওয়া হলেও তা ইসলামের শরিয়াহর সুস্পষ্ট লংঘন। সুদের সাথে যুক্ত থাকা মানে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা করার শামিল।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, আমি মনে করি হাফিজ সাহেবের স্ত্রীর সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ সঠিক ও ইসলামসম্মত।

    ইসলামি অর্থব্যবস্থায় সুদের কোনো স্থান নেই। সুদ সমাজকে শোষণ করে এবং মানুষের আত্মিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি ডেকে আনে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা সুদখোরদের বিরুদ্ধে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন (সূরা আল-বাকারা: ২৭৯)। রাসুলুল্লাহ (সা.) সুদদাতা, সুদগ্রহীতা, সুদের চুক্তির লেখক এবং সাক্ষীদের ওপর অভিসম্পাত করেছেন।

    হাফিজ সাহেবের স্ত্রী সুদমুক্ত তথা ইসলামি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকে টাকা রাখার যে পরামর্শ দিয়েছেন, তা মুনাফা-লোকসান বণ্টন (মুদারাবা বা মুশারাকা) নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং তা সম্পূর্ণ হালাল। এতে একদিকে যেমন পেনশন থেকে হালাল উপার্জন নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে সুদের মতো কবিরা গুনাহ ও পরকালীন ভয়াবহ শাস্তি থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। তাই হাফিজ সাহেবের স্ত্রীর সিদ্ধান্ত নৈতিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে যথার্থ এবং অনুসরণীয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন