অর্থনীতি • অর্থনীতি পরিচয়
অর্থনীতি প্রশ্ন
নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাফি লাইব্রেরিতে অর্থনীতির ইতিহাস বিষয়ে তিনটি তথ্য সংগ্রহ করল:
প্রথম তথ্য: অষ্টাদশ শতাব্দীতে অ্যাডাম স্মিথ অর্থনীতিকে 'সম্পদের বিজ্ঞান' হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছিলেন।
দ্বিতীয় তথ্য: পরবর্তীতে আলফ্রেড মার্শাল বলেন, কেবল সম্পদ নয়, মানুষের কল্যাণ সাধনই অর্থনীতির মূল উদ্দেশ্য।
তৃতীয় তথ্য: আধুনিককালে এল. রবিন্স মত দেন যে, মানুষের অসীম অভাব রয়েছে এবং তা পূরণের সম্পদ দুষ্প্রাপ্য ও বিকল্প ব্যবহারযোগ্য।
- ক)(1)
অ্যাডাম স্মিথের বিখ্যাত গ্রন্থটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
- খ)(2)
অর্থনীতিতে নির্বাচন বা বাছাই (Choice) কেন প্রয়োজন হয়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রথম ও দ্বিতীয় তথ্যের অর্থনৈতিক ধারণার মধ্যে তুলনামূলক ব্যাখ্যা দাও।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত তৃতীয় তথ্যটি (এল. রবিন্সের সংজ্ঞা) কেন অন্য দুটি ধারণার চেয়ে আধুনিক অর্থনীতিতে বেশি গ্রহণযোগ্য? যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
অ্যাডাম স্মিথের বিখ্যাত গ্রন্থ “An Inquiry into the Nature and Causes of the Wealth of Nations” ১৭৭৬ সালে প্রকাশিত হয়।
- খ)
মানুষের অসীম অভাবের তুলনায় পূরণের প্রয়োজনীয় সম্পদ অত্যন্ত সীমিত বা দুষ্প্রাপ্য। সম্পদ সীমিত বলেই মানুষ তার সব অভাব একসাথে পূরণ করতে পারে না। ফলে অভাবের গুরুত্ব ও অগ্রাধিকার বিবেচনা করে কোনটি আগে এবং কোনটি পরে পূরণ করা হবে, তা নির্বাচন বা বাছাই (Choice) করতে হয়। সম্পদ অসীম হলে এই নির্বাচনের প্রয়োজন হতো না।
- গ)
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রথম তথ্যটি ক্লাসিক্যাল ধারণা এবং দ্বিতীয় তথ্যটি নব্য-ক্লাসিক্যাল ধারণাকে নির্দেশ করে।
অ্যাডাম স্মিথের ক্লাসিক্যাল সংজ্ঞা অনুযায়ী, অর্থনীতি এমন একটি বিজ্ঞান যা জাতিসমূহের সম্পদের প্রকৃতি ও কারণ অনুসন্ধান করে। অর্থাৎ, এখানে কেবল সম্পদ অর্জন ও জমানোকেই মূল জোর দেওয়া হয়েছিল এবং অসীম অভাব ও সীমিত সম্পদের সমন্বয়ের দিকটি অস্পষ্ট ছিল।
অন্যদিকে, আলফ্রেড মার্শালের নব্য-ক্লাসিক্যাল সংজ্ঞায় সম্পদের চেয়ে মানবকল্যাণের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মার্শালের মতে, অর্থনীতি মানবজীবনের সাধারণ কার্যাবলি আলোচনা করে, যেখানে অর্থ উপার্জন ও ব্যয়ের মাধ্যমে মানুষের বাস্তব কল্যাণ সাধন করাই অর্থনীতির মূল উদ্দেশ্য। ফলে স্মিথের 'সম্পদকেন্দ্রিক' ধারণাকে অতিক্রম করে মার্শাল 'মানবকল্যাণকেন্দ্রিক' ধারণার প্রবর্তন করেন।
- ঘ)
উদ্দীপকের তৃতীয় তথ্যটিতে উল্লিখিত অধ্যাপক এল. রবিন্সের সংজ্ঞাটি মানবজীবনের বাস্তব অর্থনৈতিক সমস্যাকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করায় এটি অ্যাডাম স্মিথ ও আলফ্রেড মার্শালের ধারণার চেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য।
অ্যাডাম স্মিথ অর্থনীতিকে কেবল সম্পদের বিজ্ঞান বলেছেন, কিন্তু কীভাবে সীমিত সম্পদ দিয়ে অভাব পূরণ করা হবে তা বলেননি। আবার মার্শাল মানবকল্যাণের কথা বললেও কীভাবে কল্যাণ অর্জিত হবে বা সম্পদের সীমাবদ্ধতা কীভাবে সামাল দেওয়া হবে তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।
পক্ষান্তরে, এল. রবিন্স অর্থনীতির মৌলিক সমস্যা—'দুষ্প্রাপ্যতা' এবং 'অসীম অভাব'-কে চিহ্নিত করেছেন। তাঁর মতে, মানুষের অভাব অসীম, কিন্তু অভাব পূরণের উপকরণ সীমিত ও বিকল্প ব্যবহারযোগ্য। সম্পদ সীমিত বলেই মানুষকে নির্বাচন করতে হয় এবং দক্ষতার সাথে সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হয়। এটি প্রতিটি সমাজ ও ব্যক্তির বাস্তব দৈনন্দিন অর্থনৈতিক চিত্র প্রকাশ করে।
সুতরাং, সম্পদের সীমাবদ্ধতা ও অসীম অভাবের মধ্যে সমন্বয় সাধনের বাস্তবভিত্তিক ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেওয়ার কারণে এল. রবিন্সের সংজ্ঞাটি আধুনিক অর্থনীতিতে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য।
ব্যাখ্যা
এই প্রশ্নটিতে ক্লাসিক্যাল, নব্য-ক্লাসিক্যাল ও আধুনিক সংজ্ঞার তুলনা এবং নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা যাচাই করা হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও