ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র • Combined Board • ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০২২
ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
জনাব এলাম উদ্দীন উচ্চশিক্ষিত হলেও ইসলাম সম্পর্কে বিরূপ ধারণা পোষণ করেন। তিনি জিহাদকে সন্ত্রাসবাদ মনে করেন। সুযোগ বুঝে আলেমদের খাটো করে দেখেন। বিষয়টি অবগত হয়ে ইমাম সাহেব জুমার খুতবায় বললেন, "জিহাদ ও সন্ত্রাস পরস্পরের বিপরীত। সন্ত্রাস একটি সামাজিক ব্যাধি আর জিহাদ হলো সন্ত্রাস প্রতিরোধের কার্যকর পদক্ষেপ।"
- ক)(1)
(দাওয়াহ) শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
ইসলামি অর্থব্যবস্থা বলতে কী বোঝ? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
জনাব এলাম উদ্দীনের কর্মকান্ডের পরিণতি আলোচনা কর।
- ঘ)(4)
ইমাম সাহেবের বক্তব্যের যথার্থতা পাঠ্যপুস্তকের আলোকে মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'দাওয়াহ' (دعوة) একটি আরবি শব্দ, যার অর্থ আহ্বান করা, নিমন্ত্রণ জানানো, ডাকা বা প্রচার করা।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ইসলামি শরিয়তের বিধিবিধান ও মূলনীতির আলোকে পরিচালিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে ইসলামি অর্থব্যবস্থা বলা হয়।
এ ব্যবস্থায় ধনসম্পদের প্রকৃত মালিক আল্লাহ তায়ালা এবং মানুষ এর আমানতদার মাত্র। ইসলামি অর্থব্যবস্থায় হালাল উপায়ে অর্থ উপার্জন ও ব্যয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সুদ, ঘুষ, অপচয়, মজুতদারি ও শোষণ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এখানে জাকাত, উশর, সদকা ইত্যাদির মাধ্যমে সমাজে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করে বৈষম্যহীন অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জনাব এলাম উদ্দীনের কর্মকাণ্ডের মধ্যে রয়েছে ইসলাম সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা পোষণ, জিহাদকে সন্ত্রাসবাদের সাথে মেলানো এবং উলামায়ে কেরামকে তাচ্ছিল্য করা। ইসলামি শরিয়তের আলোকে এর পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ।
১. ইমান নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি: ইসলামের মৌলিক বিধান জিহাদকে সন্ত্রাসবাদ মনে করা এবং ইসলামের বিধিবিধানের প্রতি বিদ্বেষ বা বিরূপ মনোভাব পোষণ করা কুফর ও নিফাকের লক্ষণ। এর ফলে ব্যক্তির ইমান বিপন্ন হতে পারে।
২. আলেমদের অবমাননার পাপ: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "উলামাগণ নবীদের ওয়ারিশ বা উত্তরসূরি।" আলেমদের খাটো করে দেখা প্রকারান্তরে নবীদের সুন্নাহ ও ইসলামকেই অবজ্ঞা করার শামিল, যা আল্লাহর অসন্তুষ্টি বয়ে আনে।
৩. সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি: ইসলামের অপব্যাখ্যা করে সমাজে বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং মানুষের মাঝে ইসলামভীতি তৈরি করা ফিতনা সৃষ্টির নামান্তর। কোরআনে বলা হয়েছে, "ফিতনা হত্যার চেয়েও গুরুতর অপরাধ।"
৪. পরকালে কঠিন আজাব: দ্বীনের অবমাননাকারী এবং ইসলামবিরোধী প্রোপাগান্ডা পরিচালনাকারীদের জন্য পরকালে রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক ও কঠিন শাস্তি। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ইমাম সাহেবের বক্তব্য—"জিহাদ ও সন্ত্রাস পরস্পরের বিপরীত। সন্ত্রাস একটি সামাজিক ব্যাধি আর জিহাদ হলো সন্ত্রাস প্রতিরোধের কার্যকর পদক্ষেপ"—সম্পূর্ণ যথার্থ এবং যুক্তিযুক্ত।
ইসলামের আলোকে এর মূল্যায়ন নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ধারণাগত পার্থক্য: 'জিহাদ' শব্দের অর্থ সত্য, ন্যায় ও শান্তির প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা বা সংগ্রাম করা। অপরপক্ষে, 'সন্ত্রাস' হলো অন্যায়ভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সাধারণ নিরীহ মানুষকে হত্যা ও ভীতি সঞ্চার করা। ইসলামে সন্ত্রাস, ফাসাদ ও নৈরাজ্যকে কঠোরভাবে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে।
২. উদ্দেশ্যের ভিন্নতা: জিহাদের উদ্দেশ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, মজলুমের অধিকার প্রতিষ্ঠা, অন্যায়-অবিচার দমন এবং সমাজে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। অপরদিকে, সন্ত্রাসের মূল উদ্দেশ্য ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কায়েমি স্বার্থ হাসিল, অশান্তি তৈরি এবং নিরপরাধ মানুষকে জিম্মি করা।
৩. সন্ত্রাস প্রতিরোধে জিহাদ: ইসলামে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোই হলো জিহাদ। সমাজে যখন কোনো অপশক্তি সন্ত্রাস ও বিপর্যয় ডেকে আনে, তখন শরিয়তসম্মতভাবে রাষ্ট্র বা মুসলিম সমাজের পক্ষ থেকে তাদের প্রতিরোধ করা জিহাদের অন্তর্ভুক্ত।
৪. যুদ্ধনীতির নিয়মরীতি: জিহাদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কঠোর নিয়ম রয়েছে—যেমন নারী, শিশু, বৃদ্ধ, উপাসনালয়ের সাধু-সন্ন্যাসী এবং পরিবেশের ক্ষতি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু সন্ত্রাসের কোনো নীতি-নৈতিকতা নেই।অতএব, ইমাম সাহেবের বক্তব্যটি ইসলামি শরিয়তের প্রকৃত রূপরেখা প্রকাশ করে এবং জিহাদ ও সন্ত্রাস যে সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী প্রত্যয়, তা নির্ভুলভাবে প্রমাণ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও