অর্থনীতি ২য় পত্র • আন্তর্জাতিক বাণিজ্য • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২১

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

নিচের টেবিলটি লক্ষ করো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাওউৎস: বৈদেশিক বিনিময় হার বিভাগ, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো।

অর্থবছরআমদানি (বিলিয়ন ইউএস ডলার)রপ্তানি ( বিলিয়ন ইউএস ডলার)
২০১০-১১৩৩.৬৬২২.৯২
২০১১-১২৩৫.৫২২৪.৩০
২০১২-১৩৩৩.৯৭২৭.০৩
২০১৩-১৪৩৬,৯৯৩০.১৮
  1. ক)

    অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    "বাণিজ্য সকলকে আরও লান্তবান করে তুলে" ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত রপ্তানি আয়ের আলোকে বাংলদেশের প্রচলিত ও অপ্রচলিত রপ্তানি'দ্রব্যের তালিকা প্রস্তুত করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে নির্দেশিত বাণিজ্য ঘাটতি কমাবার উপায় হিসেবে রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণের উপায়সমূহ কী হতে পয়ো আলোচনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একটি দেশের ভৌগোলিক সীমারেখার ভেতরে বিভিন্ন অঞ্চল, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সংঘটিত দ্রব্য ও সেবার ক্রয়-বিক্রয়কে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    "বাণিজ্য সকলকে আরও লাভবান করে তোলে"—কথাটির অর্থ হলো বাণিজ্যের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষই পারস্পরিক সুবিধা অর্জন করে।

    তুলনামূলক সুযোগ ব্যয় তত্ত্ব অনুযায়ী, কোনো দেশ যে পণ্য উৎপাদনে তুলনামূলকভাবে বেশি দক্ষ বা যে পণ্যের উৎপাদন ব্যয় কম, সে দেশ সেই পণ্য উৎপাদনে বিশেষায়ন অর্জন করে এবং উদ্বৃত্ত অংশ রপ্তানি করে। অপরদিকে, যেসব পণ্য উৎপাদনে সুযোগ ব্যয় বেশি, তা নিজে উৎপাদন না করে অন্য দেশ থেকে আমদানি করে। এর ফলে সম্পদসমূহের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হয়, উৎপাদনের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং উভয় দেশই নিজ নিজ সক্ষমতার বাইরে কম মূল্যে পণ্য ও সেবা ভোগ করতে পারে। ফলে বাণিজ্যিক লেনদেনে উভয় পক্ষই অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করা হয়েছে। বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য মূলত প্রচলিত ও অপ্রচলিত—এই দুই ধরনের দ্রব্যের ওপর নির্ভরশীল। নিচে এদের তালিকা ও বৈশিষ্ট্য আলোচনা করা হলো:

    ১. প্রচলিত রপ্তানি দ্রব্য (Traditional Export Items):
    যেসব পণ্য বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে বা ঐতিহাসিকভাবে বিশ্ববাজারে রপ্তানি করে আসছে, সেগুলোকে প্রচলিত রপ্তানি দ্রব্য বলে। যেমন—
    ক. কাঁচাপাট
    খ. পাটজাত দ্রব্য (চট, বস্তা, কার্পেট ইত্যাদি)
    গ. চা
    ঘ. চামড়া ও চামড়াজাত দ্রব্য।

    ২. অপ্রচলিত রপ্তানি দ্রব্য (Non-traditional Export Items):
    যেসব দ্রব্য অতীতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে রপ্তানি হতো না, কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্ববাজারে রপ্তানি শুরু হয়ে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে, সেগুলোকে অপ্রচলিত রপ্তানি দ্রব্য বলে। যেমন—
    ক. তৈরি পোশাক (ওভেন ও নিটওয়্যার)
    খ. হিমায়িত খাদ্য (চিংড়ি ও অন্যান্য মাছ)
    গ. ওষুধ ও রাসায়নিক দ্রব্য
    ঘ. হস্তশিল্পজাত দ্রব্য
    ঙ. কৃষিজাত প্রক্রিয়াজাত খাদ্যসামগ্রী
    চ. জাহাজ ও সিরামিক সামগ্রী
    ছ. প্লাস্টিক ও তথ্যপ্রযুক্তি (সফটওয়্যার) সেবা।

    বর্তমানে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের সিংহভাগই আসে অপ্রচলিত দ্রব্য (বিশেষত তৈরি পোশাক) থেকে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের টেবিল থেকে দেখা যায়, ২০১০-১১ থেকে ২০১৩-১৪ অর্থবছর পর্যন্ত প্রতিটি অর্থবছরেই আমদানির পরিমাণ রপ্তানির পরিমাণের চেয়ে বেশি, যার ফলে দেশে ক্রমাগত বাণিজ্য ঘাটতি বিরাজ করছে। এই বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস করার অন্যতম প্রধান উপায় হলো রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণ করা। নিম্নে রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণের উপায়সমূহ আলোচনা করা হলো:

    ১. রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ: বাংলাদেশ বর্তমানে তৈরি পোশাক খাতের ওপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরশীল। চামড়া, ওষুধ, প্লাস্টিক, জাহাজ নির্মাণ, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্যের উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়িয়ে এই নির্ভরতা কমাতে হবে।
    ২. বাজার সম্প্রসারণ: প্রচলিত বাজারের (যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন) বাইরে লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকা, ওশেনিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের মতো নতুন বাজার অনুসন্ধান ও সম্প্রসারণ করতে হবে।
    ৩. পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ ও আধুনিকায়ন: আন্তর্জাতিক মানের সাথে সঙ্গতি রেখে পণ্যের উন্নত মান নিশ্চিত করতে হবে এবং উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।
    ৪. শুল্ক ও আর্থিক প্রণোদনা প্রদান: রপ্তানিকারকদের জন্য কর অবকাশ (Tax Holiday), সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে ঋণ এবং নগদ ভর্তুকি প্রদান রপ্তানি বৃদ্ধি করবে।
    ৫. ইপিজেড ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল সম্প্রসারণ: দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং নতুন রপ্তানিমুখী শিল্প স্থাপনে অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভূমিকা বাড়ানো আবশ্যক।
    ৬. দক্ষ কূটনীতি ও বাণিজ্য চুক্তি: দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) সম্পাদন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণ বৃদ্ধির মাধ্যমে রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব।
    ৭. অবকাঠামোগত উন্নয়ন: বন্দর আধুনিকায়ন, পরিবহন ও জ্বালানি সংকট দূর করে পণ্য পরিবহন খরচ ও সময় কমাতে হবে।

    অতএব, উপর্যুক্ত পদক্ষেপসমূহ বাস্তবায়নের মাধ্যমে রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়ে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনা সম্ভব।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন