জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • মানব শারীরতত্ত্ব : পরিপাক ও শোষণ • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৫

জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

A → আ্যামাইলেজ \xrightarrow{\text { আ্যামাইলেজ }} মল্টোজ + ডেএক্সট্রিন

  1. ক)

    ব্যারিয়াট্রিক্স কী?

    (1)
  2. খ)

    BMI বলতে কী বুঝ?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' ধরনের খাদ্যের ক্ষুদ্রান্ত্রে পরিপাক প্রক্রিয়া বর্ণনা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' ধরনের খাদ্য বিপাকে যকৃতের ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ব্যারিয়াট্রিক্স (Bariatrics) হলো চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি শাখা, যা স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজনের কারণ, প্রতিরোধ এবং চিকিৎসা (যেমন- খাদ্য নিয়ন্ত্রণ, ব্যায়াম, ওষুধ ও সার্জারি) নিয়ে আলোচনা করে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    BMI এর পূর্ণরূপ হলো Body Mass Index বা 'দেহভর সূচি'। এটি মানবদেহের ওজনের সাথে উচ্চতার সামঞ্জস্য নির্ধারণের একটি বৈজ্ঞানিক পরিমাপক।

    কোনো ব্যক্তির ওজন (কিলোগ্রামে) কে তাঁর উচ্চতার (মিটারে) বর্গ দিয়ে ভাগ করলে BMI পাওয়া যায়। অর্থাৎ,
    BMI = ওজন (kg) / [উচ্চতা (m)]²

    BMI-এর মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি স্বাভাবিক ওজনের, কম ওজনের নাকি স্থূল—তা নির্ধারণ করা যায়। মানবদেহের আদর্শ BMI মান হলো ১৮.৫ – ২৪.৯ kg/m²।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' ধরনের খাদ্যটি হলো জটিল শর্করা বা স্টার্চ (কার্বোহাইড্রেট)। ক্ষুদ্রান্ত্রে এর পরিপাক প্রক্রিয়া নিচে বর্ণনা করা হলো:

    ১. অগ্ন্যাশয় রস দ্বারা পরিপাক:
    ক্ষুদ্রান্ত্রের ডুওডেনামে কাইমের সাথে অগ্ন্যাশয় রস মিশ্রিত হয়। এতে উপস্থিত অ্যামাইলোলাইটিক এনজাইমগুলো শর্করা পরিপাক করে:

    • অগ্ন্যাশয় অ্যামাইলেজ: সিদ্ধ ও কাঁচা স্টার্চ ও গ্লাইকোজেনকে আর্দ্রবিশ্লেষিত করে মল্টোজ, মল্টোট্রায়োজ ও ক্ষুদ্র ডেক্সট্রিনে পরিণত করে।

    ২. অন্ত্রিক রস দ্বারা পরিপাক:
    ক্ষুদ্রান্ত্রের আন্ত্রিক গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত আন্ত্রিক রসে বিভিন্ন শর্করা পরিপাককারী এনজাইম থাকে যা শর্করাকে সরলতম শোষনযোগ্য উপাদানে পরিণত করে:

    • মল্টেজ: মল্টোজকে ভেঙে দুই অণু গ্লুকোজে পরিণত করে। (মল্টোজ + পানি → গ্লুকোজ + গ্লুকোজ)
    • সুক্রেজ: সুক্রোজকে আর্দ্রবিশ্লেষিত করে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজে পরিণত করে।
    • ল্যাক্টেজ: দুগ্ধ শর্করা ল্যাক্টোজকে ভেঙে গ্লুকোজ ও গ্যালাক্টোজে রূপান্তরিত করে।
    • আইসোমল্টেজ: আইসোমল্টোজকে গ্লুকোজে পরিণত করে।

    এভাবে ক্ষুদ্রান্ত্রে পরিপাকের মাধ্যমে জটিল শর্করা সম্পূর্ণভাবে সরল মনোস্যাকারাইডে (প্রধানত গ্লুকোজ) পরিণত হয়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' ধরনের খাদ্যটি হলো কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা। শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য বিপাকে যকৃত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যকৃত রক্তে গ্লুকোজের স্বাভাবিক মাত্রা (০.০৮% - ০.১২% বা ৮০-১২০ mg/dL) বজায় রাখতে নিম্নোক্ত প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে:

    ১. গ্লাইকোজেনেসিস (Glycogenesis): অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণের পর রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন হরমোনের প্রভাবে যকৃত রক্ত থেকে অতিরিক্ত গ্লুকোজ গ্রহণ করে তা গ্লাইকোজেনে রূপান্তর করে জমা রাখে।

    ২. গ্লাইকোজেনোলাইসিস (Glycogenolysis): উপবাস বা অনাহারের সময় রক্তে গ্লুকোজের ঘাটতি দেখা দিলে গ্লুকাগন হরমোনের প্রভাবে যকৃতে সঞ্চিত গ্লাইকোজেন ভেঙে পুনরায় গ্লুকোজে পরিণত হয় এবং রক্তে প্রবেশ করে।

    ৩. গ্লুকোনিওজেনেসিস (Gluconeogenesis): দীর্ঘমেয়াদি অনাহারে যকৃতে সঞ্চিত গ্লাইকোজেন শেষ হয়ে গেলে যকৃত নন-কার্বোহাইড্রেট উৎস যেমন—অ্যামিনো অ্যাসিড, গ্লিসারল, ল্যাকটিক অ্যাসিড ইত্যাদি থেকে নতুন গ্লুকোজ সংশ্লেষ করে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিক রাখে।

    ৪. অতিরিক্ত ফ্রুক্টোজ ও গ্যালাক্টোজ রূপান্তর: অন্ত্র থেকে শোষিত ফ্রুক্টোজ এবং গ্যালাক্টোজকে যকৃতে গ্লুকোজে রূপান্তরিত করা হয়, যা পরবর্তীতে শক্তিশক্তি উৎপাদনে বা সঞ্চয়ে ব্যবহৃত হয়।

    ৫. লিপোজেনেসিস: দেহে শর্করার পরিমাণ মাত্রাতিরিক্ত হলে যকৃত অতিরিক্ত গ্লুকোজকে ফ্যাটি অ্যাসিড ও চর্বিতে রূপান্তর করে চর্বি টিস্যুতে জমা রাখে।

    সুতরাং, রক্তের গ্লুকোজের ভারসাম্য রক্ষা এবং সার্বিক শর্করা বিপাক নিয়ন্ত্রণে যকৃত মুখ্য জৈব গবেষণাগার হিসেবে ভূমিকা পালন করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন